বিদায়ের মঞ্চে অশ্রুসিক্ত লোহাগড়া পাইলট, ভালোবাসায় বিদায় প্রধান শিক্ষক হায়াতুজ্জামানকে।
বিদায় নয়, এটি নতুন পথচলার সূচনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় মাঠের মুক্তমঞ্চে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তাঁর অবদান, কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকার কথা স্মরণ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তাঁকে বিদায় জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান। শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দ মহসীন আলী।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, লোহাগড়া অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবু মৃত্যুঞ্জয় কুমার দাস, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক নুরুন্নাহার, মরিচ পাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মে. আমির হোসেন, কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুরাদুজ্জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আলমগীর হোসাইন, বাঁকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান বিশ্বাস এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইরানী ও আইয়ান।
বক্তারা বলেন, এস এম হায়াতুজ্জামান শুধু একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি; তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
তাঁরা আরও বলেন, কর্মজীবনের অবসান হলেও একজন শিক্ষকের আদর্শ ও শিক্ষা কখনো অবসর নেয় না। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখবে—এটাই তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবুল বাসার সুমন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হামিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, মরিচ পাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সৈয়দ শামসুল হক, লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র শিক্ষক, কবি ও সাংবাদিক আতিয়ার রহমান, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিলু শরিফ, সাধারণ সম্পাদক এস এম মশিয়ার রহমান সান্টু, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জামিরুল হক টুটুল এবং লোহাগড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাজু আহম্মেদ বাপ্পিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় সংবর্ধনায় প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ও উপহার প্রদান করা হয়। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।
দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে ভালোবাসায় সিক্ত এস এম হায়াতুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কাটানো সময় তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সবসময় অটুট থাকবে।
বিদায়ের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—চাকরি থেকে অবসর নেওয়া যায়, কিন্তু প্রিয় শিক্ষার্থীদের হৃদয় থেকে কোনো শিক্ষকের কখনো অবসর হয় না।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
বিদায়ের মঞ্চে অশ্রুসিক্ত লোহাগড়া পাইলট, ভালোবাসায় বিদায় প্রধান শিক্ষক হায়াতুজ্জামানকে।
বিদায় নয়, এটি নতুন পথচলার সূচনা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নড়াইলের লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয় মাঠের মুক্তমঞ্চে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তাঁর অবদান, কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকার কথা স্মরণ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তাঁকে বিদায় জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন নড়াইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।
স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান। শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দ মহসীন আলী।
এ সময় বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, লোহাগড়া অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক বাবু মৃত্যুঞ্জয় কুমার দাস, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক নুরুন্নাহার, মরিচ পাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মে. আমির হোসেন, কাশিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুরাদুজ্জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আলমগীর হোসাইন, বাঁকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হান্নান বিশ্বাস এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইরানী ও আইয়ান।
বক্তারা বলেন, এস এম হায়াতুজ্জামান শুধু একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি; তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনোভাব বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
তাঁরা আরও বলেন, কর্মজীবনের অবসান হলেও একজন শিক্ষকের আদর্শ ও শিক্ষা কখনো অবসর নেয় না। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখবে—এটাই তাঁর কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া সরকারি আদর্শ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবুল বাসার সুমন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হামিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, মরিচ পাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সৈয়দ শামসুল হক, লোহাগড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র শিক্ষক, কবি ও সাংবাদিক আতিয়ার রহমান, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মিলু শরিফ, সাধারণ সম্পাদক এস এম মশিয়ার রহমান সান্টু, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জামিরুল হক টুটুল এবং লোহাগড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাজু আহম্মেদ বাপ্পিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় সংবর্ধনায় প্রধান শিক্ষক এস এম হায়াতুজ্জামানকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ও উপহার প্রদান করা হয়। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পুরো অনুষ্ঠানে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশের।
দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে ভালোবাসায় সিক্ত এস এম হায়াতুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কাটানো সময় তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায়। দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেও বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সবসময় অটুট থাকবে।
বিদায়ের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—চাকরি থেকে অবসর নেওয়া যায়, কিন্তু প্রিয় শিক্ষার্থীদের হৃদয় থেকে কোনো শিক্ষকের কখনো অবসর হয় না।

আপনার মতামত লিখুন