ঢাকা, শুক্রবার (১৯ জুলাই ২০২৫):
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে ৭ দফা দাবিতে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জাতীয় সমাবেশ’ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো নেতাকর্মী যোগ দেন।
১. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন
২. পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক অনুপাত ভিত্তিক) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
৩. জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন
৪. সকল গণহত্যার বিচার
৫. প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন
৬. আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন
৭. মৌলিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। যারা ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগ যেন অবজ্ঞা না হয়।”
তিনি জানান, জামায়াতের এমপি প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না, রাষ্ট্রীয় ফ্ল্যাট গ্রহণ করবেন না।
তিনি আরও বলেন, “শাপলা চত্বর, পিলখানা, ২৪শে মার্চসহ দেশের সকল গণহত্যার বিচার বাংলার মাটিতে নিশ্চিত করতে হবে।”
সভায় বক্তব্যরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। তার পক্ষে পরবর্তী বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তার বক্তব্য পাঠ করা হয়।
খুলনা, পাবনা ও রংপুর থেকে ঢাকায় সমাবেশে যোগ দিতে এসে মৃত্যুবরণ করেন জামায়াতের তিন নেতা—মাওলানা আবু সাঈদ (খুলনা), মোস্তাফিজুর রহমান (ঈশ্বরদী) এবং শাহ আলম (রংপুর)। তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
হাফেজ ইউনুস আহমদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ):
“৭ দফা দাবিগুলো দেশের জন্য কল্যাণকর। আমরা পূর্ণ সমর্থন করছি। ইসলামী যুব সমাজ এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।”
আখতার হোসেন (এনসিপি):
“শুধু নির্বাচন যথেষ্ট নয়, মৌলিক সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব নয়। পিআর পদ্ধতি না চাওয়া মানেই জাতির সঙ্গে প্রতারণা।”
সারজিস আলম (এনসিপি, উত্তরাঞ্চল):
“বাংলাদেশে মুজিববাদের স্থান হবে না। বিচার বিভাগ নিরপেক্ষ হতে হবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার পূরণ করতে হবে।”
আশরাফ আলী আকন (ইসলামী আন্দোলন):
“আওয়ামী লীগ ধ্বংস, টাকা পাচার ও দুঃশাসনের নাম। ফ্যাসিবাদীদের ক্ষমতায় রাখা চলবে না।”
এটিএম আজহারুল ইসলাম:
“আমাকে হত্যার জন্য ফাঁসির আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় আজ লক্ষ জনতার সামনে দাঁড়াতে পেরেছি। যারা আমাদের নেতাদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার হতে হবে।”
মুজিবুর রহমান:
“ইসলাম যেখানে থাকে, সেখানেই শান্তি থাকে। ইসলামী আইন সংসদে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের:
“জামায়াত সবার দল— নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে। আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, করবো।”
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার:
“জামায়াতের নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা শহীদদের পাশে আছি। জামায়াত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চায়।”
জাতীয় সমাবেশে বিভিন্ন ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জামায়াতের ৭ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানান এবং আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৫
ঢাকা, শুক্রবার (১৯ জুলাই ২০২৫):
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে ৭ দফা দাবিতে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জাতীয় সমাবেশ’ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো নেতাকর্মী যোগ দেন।
১. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন
২. পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক অনুপাত ভিত্তিক) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
৩. জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন
৪. সকল গণহত্যার বিচার
৫. প্রবাসীদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন
৬. আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন
৭. মৌলিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। যারা ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগ যেন অবজ্ঞা না হয়।”
তিনি জানান, জামায়াতের এমপি প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না, রাষ্ট্রীয় ফ্ল্যাট গ্রহণ করবেন না।
তিনি আরও বলেন, “শাপলা চত্বর, পিলখানা, ২৪শে মার্চসহ দেশের সকল গণহত্যার বিচার বাংলার মাটিতে নিশ্চিত করতে হবে।”
সভায় বক্তব্যরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। তার পক্ষে পরবর্তী বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তার বক্তব্য পাঠ করা হয়।
খুলনা, পাবনা ও রংপুর থেকে ঢাকায় সমাবেশে যোগ দিতে এসে মৃত্যুবরণ করেন জামায়াতের তিন নেতা—মাওলানা আবু সাঈদ (খুলনা), মোস্তাফিজুর রহমান (ঈশ্বরদী) এবং শাহ আলম (রংপুর)। তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
হাফেজ ইউনুস আহমদ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ):
“৭ দফা দাবিগুলো দেশের জন্য কল্যাণকর। আমরা পূর্ণ সমর্থন করছি। ইসলামী যুব সমাজ এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।”
আখতার হোসেন (এনসিপি):
“শুধু নির্বাচন যথেষ্ট নয়, মৌলিক সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব নয়। পিআর পদ্ধতি না চাওয়া মানেই জাতির সঙ্গে প্রতারণা।”
সারজিস আলম (এনসিপি, উত্তরাঞ্চল):
“বাংলাদেশে মুজিববাদের স্থান হবে না। বিচার বিভাগ নিরপেক্ষ হতে হবে। নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার পূরণ করতে হবে।”
আশরাফ আলী আকন (ইসলামী আন্দোলন):
“আওয়ামী লীগ ধ্বংস, টাকা পাচার ও দুঃশাসনের নাম। ফ্যাসিবাদীদের ক্ষমতায় রাখা চলবে না।”
এটিএম আজহারুল ইসলাম:
“আমাকে হত্যার জন্য ফাঁসির আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় আজ লক্ষ জনতার সামনে দাঁড়াতে পেরেছি। যারা আমাদের নেতাদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার হতে হবে।”
মুজিবুর রহমান:
“ইসলাম যেখানে থাকে, সেখানেই শান্তি থাকে। ইসলামী আইন সংসদে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের:
“জামায়াত সবার দল— নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে। আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, করবো।”
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার:
“জামায়াতের নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা শহীদদের পাশে আছি। জামায়াত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে চায়।”
জাতীয় সমাবেশে বিভিন্ন ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জামায়াতের ৭ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানান এবং আগামী নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন