দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, ত্যাগী এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড।
আর এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আংশিক কমিটি ঘোষণার পর প্রায় ২২ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। পদপ্রত্যাশীদের আধিক্য, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার তাগিদে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আকরামুল হাসান মিন্টুর প্রতি মাঠপর্যায়ের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সারা দেশে সংগঠনের চেইন-অফ-কমান্ড ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে থাকার কারণে তার একটি বিশাল গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের কর্মীরা তাকে “রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক” হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন।
আকরামুল হাসান মিন্টু আলোচনায় এগিয়ে থাকলেও নেতৃত্বের লড়াইয়ে আরও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।
তারা হলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান।ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক নেতা গোলাম মাওলা শাহীন। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল কবীর পল। সংগঠনের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন তারেক।
আকরামুল হাসান মিন্টুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হামলা-মামলা ও কারাবরণে জর্জরিত। ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় তাকে পল্টন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৯ জুলাই নরসিংদীর নিজ বাড়ি থেকেও তিনি গ্রেপ্তার হন। তার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মীদের ব্যাপক প্রচারণা তার জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তাকে প্রমাণ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এখন আগামীর আন্দোলনের কথা মাথায় রেখে ‘অ্যাকশন ওরিয়েন্টেড’ নেতৃত্ব খুঁজছে। সেক্ষেত্রে আকরামুল হাসান মিন্টুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের সাথে সরাসরি সংযোগ তাকে অনেকখানি এগিয়ে রেখেছে।
নতুন কমিটি গঠিত হলে যুবদল আরও গতিশীল ও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন রাজপথের সাধারণ কর্মীরা।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, ত্যাগী এবং সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড।
আর এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টু।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আংশিক কমিটি ঘোষণার পর প্রায় ২২ মাস অতিবাহিত হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। পদপ্রত্যাশীদের আধিক্য, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার তাগিদে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আকরামুল হাসান মিন্টুর প্রতি মাঠপর্যায়ের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সারা দেশে সংগঠনের চেইন-অফ-কমান্ড ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে থাকার কারণে তার একটি বিশাল গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলের কর্মীরা তাকে “রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক” হিসেবে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন।
আকরামুল হাসান মিন্টু আলোচনায় এগিয়ে থাকলেও নেতৃত্বের লড়াইয়ে আরও কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।
তারা হলেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান।ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক নেতা গোলাম মাওলা শাহীন। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল কবীর পল। সংগঠনের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন তারেক।
আকরামুল হাসান মিন্টুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হামলা-মামলা ও কারাবরণে জর্জরিত। ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় তাকে পল্টন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৯ জুলাই নরসিংদীর নিজ বাড়ি থেকেও তিনি গ্রেপ্তার হন। তার মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মীদের ব্যাপক প্রচারণা তার জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তাকে প্রমাণ করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এখন আগামীর আন্দোলনের কথা মাথায় রেখে ‘অ্যাকশন ওরিয়েন্টেড’ নেতৃত্ব খুঁজছে। সেক্ষেত্রে আকরামুল হাসান মিন্টুর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের সাথে সরাসরি সংযোগ তাকে অনেকখানি এগিয়ে রেখেছে।
নতুন কমিটি গঠিত হলে যুবদল আরও গতিশীল ও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন রাজপথের সাধারণ কর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন