নজর বিডি

খুলনা-৫ আসনে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আভাস, মুখোমুখি হচ্ছেন দুই সাবেক এমপি

খুলনা-৫ আসনে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আভাস, মুখোমুখি হচ্ছেন দুই সাবেক এমপি

ডুমুরিয়া, খুলনা | শেখ মাহতাব হোসেন:

ডুমুরিয়া ও ফুলতলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ সংসদীয় আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হতে পারে বহুল আলোচিত হাইভোল্টেজের লড়াই। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন—এই আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন দুই সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ—জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিএনপি ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক ও সাবেক বিসিবি সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগর লবী।

দুইজনই একসময় ছিলেন চারদলীয় জোট সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেই বন্ধুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন রূপ নিচ্ছে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়—যা ইতিমধ্যেই খুলনার রাজনীতিতে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার বিজয়ের পর উপ-নির্বাচনে তার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আলী আসগর লবী। একাধিক সূত্রে প্রচার রয়েছে, সেসময় খুলনার ছয়টি আসনে জোট প্রার্থীদের তিনি আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা করেছিলেন।

অন্যদিকে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালের নির্বাচনেই খুলনা-৫ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এবং জামায়াতে ইসলামীকে সংগঠিত করেন।

রাজনীতির উত্থান-পতনের গল্প

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন অভিযানে গ্রেফতার হন আলী আসগর লবী। জব্দ করা হয় তার ব্যাংক হিসাব। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও সম্প্রতি ডুমুরিয়া-ফুলতলায় তার ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

অপরদিকে অধ্যাপক পরওয়ার প্রায় এক যুগ ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বহুবার জামিন পেলেও জেলগেটে তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান এবং সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী এলাকায় রাজনীতি শুরু করেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ডুমুরিয়া-ফুলতলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল, তবে তৃণমূলে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আজও অটুট। অনেকে মনে করছেন, খুলনা-৫ আসনে যদি আলী আসগর লবী বিএনপির টিকিট পান এবং জামায়াত অধ্যাপক পরওয়ারকে প্রার্থী করে, তাহলে একসময়ের রাজনৈতিক সহযোগীরাই ভোটের মাঠে মুখোমুখি হবেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ

দুই নেতারই রয়েছে অতীত ত্যাগ-তিতিক্ষা, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য। ফলে কারো জন্য লড়াইটা সহজ হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয় এবং জামায়াত বা অন্য শরিকরা কী অবস্থান নেয়—তা নির্ধারণ করবে এই হাইভোল্টেজ আসনের মূল চিত্র।

উপসংহার

খুলনা-৫ আসনের ভোটাররা এখন অপেক্ষায়—কে হবেন জোটের মনোনীত প্রার্থী? কে পারবেন জনগণের আস্থা অর্জন করতে? সময়ের পরিক্রমায় একসময়কার রাজনৈতিক মিত্র হয়তো এবার মাঠে হবেন প্রতিদ্বন্দ্বী—যার নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে জনগণই।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


খুলনা-৫ আসনে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আভাস, মুখোমুখি হচ্ছেন দুই সাবেক এমপি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৫

featured Image

ডুমুরিয়া, খুলনা | শেখ মাহতাব হোসেন:

ডুমুরিয়া ও ফুলতলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৫ সংসদীয় আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হতে পারে বহুল আলোচিত হাইভোল্টেজের লড়াই। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন—এই আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন দুই সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ—জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিএনপি ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক ও সাবেক বিসিবি সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগর লবী।

দুইজনই একসময় ছিলেন চারদলীয় জোট সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেই বন্ধুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন রূপ নিচ্ছে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়—যা ইতিমধ্যেই খুলনার রাজনীতিতে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার বিজয়ের পর উপ-নির্বাচনে তার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আলী আসগর লবী। একাধিক সূত্রে প্রচার রয়েছে, সেসময় খুলনার ছয়টি আসনে জোট প্রার্থীদের তিনি আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা করেছিলেন।

অন্যদিকে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালের নির্বাচনেই খুলনা-৫ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এবং জামায়াতে ইসলামীকে সংগঠিত করেন।

রাজনীতির উত্থান-পতনের গল্প

ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন অভিযানে গ্রেফতার হন আলী আসগর লবী। জব্দ করা হয় তার ব্যাংক হিসাব। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও সম্প্রতি ডুমুরিয়া-ফুলতলায় তার ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

অপরদিকে অধ্যাপক পরওয়ার প্রায় এক যুগ ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বহুবার জামিন পেলেও জেলগেটে তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান এবং সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী এলাকায় রাজনীতি শুরু করেন।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ডুমুরিয়া-ফুলতলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল, তবে তৃণমূলে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আজও অটুট। অনেকে মনে করছেন, খুলনা-৫ আসনে যদি আলী আসগর লবী বিএনপির টিকিট পান এবং জামায়াত অধ্যাপক পরওয়ারকে প্রার্থী করে, তাহলে একসময়ের রাজনৈতিক সহযোগীরাই ভোটের মাঠে মুখোমুখি হবেন।

রাজনৈতিক সমীকরণ

দুই নেতারই রয়েছে অতীত ত্যাগ-তিতিক্ষা, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য। ফলে কারো জন্য লড়াইটা সহজ হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয় এবং জামায়াত বা অন্য শরিকরা কী অবস্থান নেয়—তা নির্ধারণ করবে এই হাইভোল্টেজ আসনের মূল চিত্র।

উপসংহার

খুলনা-৫ আসনের ভোটাররা এখন অপেক্ষায়—কে হবেন জোটের মনোনীত প্রার্থী? কে পারবেন জনগণের আস্থা অর্জন করতে? সময়ের পরিক্রমায় একসময়কার রাজনৈতিক মিত্র হয়তো এবার মাঠে হবেন প্রতিদ্বন্দ্বী—যার নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে জনগণই।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত