ডুমুরিয়া, খুলনা | শেখ মাহতাব হোসেন:
দুইজনই একসময় ছিলেন চারদলীয় জোট সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেই বন্ধুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন রূপ নিচ্ছে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়—যা ইতিমধ্যেই খুলনার রাজনীতিতে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার বিজয়ের পর উপ-নির্বাচনে তার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আলী আসগর লবী। একাধিক সূত্রে প্রচার রয়েছে, সেসময় খুলনার ছয়টি আসনে জোট প্রার্থীদের তিনি আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা করেছিলেন।
অন্যদিকে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালের নির্বাচনেই খুলনা-৫ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এবং জামায়াতে ইসলামীকে সংগঠিত করেন।
ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন অভিযানে গ্রেফতার হন আলী আসগর লবী। জব্দ করা হয় তার ব্যাংক হিসাব। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও সম্প্রতি ডুমুরিয়া-ফুলতলায় তার ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
অপরদিকে অধ্যাপক পরওয়ার প্রায় এক যুগ ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বহুবার জামিন পেলেও জেলগেটে তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান এবং সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী এলাকায় রাজনীতি শুরু করেন।
ডুমুরিয়া-ফুলতলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল, তবে তৃণমূলে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আজও অটুট। অনেকে মনে করছেন, খুলনা-৫ আসনে যদি আলী আসগর লবী বিএনপির টিকিট পান এবং জামায়াত অধ্যাপক পরওয়ারকে প্রার্থী করে, তাহলে একসময়ের রাজনৈতিক সহযোগীরাই ভোটের মাঠে মুখোমুখি হবেন।
দুই নেতারই রয়েছে অতীত ত্যাগ-তিতিক্ষা, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য। ফলে কারো জন্য লড়াইটা সহজ হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয় এবং জামায়াত বা অন্য শরিকরা কী অবস্থান নেয়—তা নির্ধারণ করবে এই হাইভোল্টেজ আসনের মূল চিত্র।
খুলনা-৫ আসনের ভোটাররা এখন অপেক্ষায়—কে হবেন জোটের মনোনীত প্রার্থী? কে পারবেন জনগণের আস্থা অর্জন করতে? সময়ের পরিক্রমায় একসময়কার রাজনৈতিক মিত্র হয়তো এবার মাঠে হবেন প্রতিদ্বন্দ্বী—যার নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে জনগণই।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৫
ডুমুরিয়া, খুলনা | শেখ মাহতাব হোসেন:
দুইজনই একসময় ছিলেন চারদলীয় জোট সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সেই বন্ধুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন রূপ নিচ্ছে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়—যা ইতিমধ্যেই খুলনার রাজনীতিতে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার বিজয়ের পর উপ-নির্বাচনে তার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আলী আসগর লবী। একাধিক সূত্রে প্রচার রয়েছে, সেসময় খুলনার ছয়টি আসনে জোট প্রার্থীদের তিনি আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা করেছিলেন।
অন্যদিকে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০১ সালের নির্বাচনেই খুলনা-৫ আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এবং জামায়াতে ইসলামীকে সংগঠিত করেন।
ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন অভিযানে গ্রেফতার হন আলী আসগর লবী। জব্দ করা হয় তার ব্যাংক হিসাব। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি রাজনীতির মাঠে অনুপস্থিত থাকলেও সম্প্রতি ডুমুরিয়া-ফুলতলায় তার ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
অপরদিকে অধ্যাপক পরওয়ার প্রায় এক যুগ ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হয়ে কারাগারে ছিলেন। বহুবার জামিন পেলেও জেলগেটে তাকে পুনরায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান এবং সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী এলাকায় রাজনীতি শুরু করেন।
ডুমুরিয়া-ফুলতলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিগত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী না থাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল, তবে তৃণমূলে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আজও অটুট। অনেকে মনে করছেন, খুলনা-৫ আসনে যদি আলী আসগর লবী বিএনপির টিকিট পান এবং জামায়াত অধ্যাপক পরওয়ারকে প্রার্থী করে, তাহলে একসময়ের রাজনৈতিক সহযোগীরাই ভোটের মাঠে মুখোমুখি হবেন।
দুই নেতারই রয়েছে অতীত ত্যাগ-তিতিক্ষা, জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য। ফলে কারো জন্য লড়াইটা সহজ হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয় এবং জামায়াত বা অন্য শরিকরা কী অবস্থান নেয়—তা নির্ধারণ করবে এই হাইভোল্টেজ আসনের মূল চিত্র।
খুলনা-৫ আসনের ভোটাররা এখন অপেক্ষায়—কে হবেন জোটের মনোনীত প্রার্থী? কে পারবেন জনগণের আস্থা অর্জন করতে? সময়ের পরিক্রমায় একসময়কার রাজনৈতিক মিত্র হয়তো এবার মাঠে হবেন প্রতিদ্বন্দ্বী—যার নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে জনগণই।

আপনার মতামত লিখুন