নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকার পতনের পর গত এক বছরে অন্তত ২৩টি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে ছয়টি দল ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে নিবন্ধন সনদ পেয়েছে। বাকিরা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও বেশিরভাগই প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, এ বছর নিবন্ধনের জন্য নতুন ও পুরনো মিলিয়ে মোট ১৪৫টি দল আবেদন করেছে। তবে তাদের মধ্যে মাত্র ৮০টি দল তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েছে। ৬টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং ৫৯টি দল কোনো সাড়া দেয়নি। তথ্য ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক দলের আবেদন বাতিলের পথে রয়েছে।
গত এক বছরে নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো হলো:
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি - ঈগল) – ২১ আগস্ট ২০২৪
নাগরিক ঐক্য (কেটলি) – ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
গণঅধিকার পরিষদ (ট্রাক) – ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
গণসংহতি আন্দোলন (মাথাল) – ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ফুলকপি) – ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি - রকেট) – ৯ এপ্রিল ২০২৫
ইসি সূত্র জানায়, এসব দলের অধিকাংশই আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র নিবন্ধিত দলগুলোকেই রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়।
গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত আত্মপ্রকাশ করা দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ (২৩ আগস্ট ২০২৪)
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি (৮ সেপ্টেম্বর)
বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (২৩ সেপ্টেম্বর)
সার্বভৌমত্ব আন্দোলন (২৭ সেপ্টেম্বর)
বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (১৫ নভেম্বর)
বাংলাদেশ মুক্তির ডাক (১৬ নভেম্বর)
জাতীয় বিপ্লবী পার্টি (১৬ ডিসেম্বর)
দেশ জনতা পার্টি (৪ জানুয়ারি ২০২৫)
আম জনগণ পার্টি (১৭ এপ্রিল ২০২৫, নাম পরিবর্তন)
জনতা পার্টি বাংলাদেশ (২৫ এপ্রিল ২০২৫)
এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসা অংশের নেতৃত্বে আম জনতার দল, ডেসটিনির সাবেক কর্ণধার রফিকুল আমিনের নেতৃত্বে গঠিত আম জনগণ পার্টি, ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের জনতা পার্টি বাংলাদেশও বেশ আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধন পেতে হলে যেকোনো দলের:
একটি কেন্দ্রীয় কমিটি,
অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় ও ১০০টি উপজেলায় কমিটি,
প্রতিটি কমিটিতে ২০০ ভোটারের স্বাক্ষরসহ সমর্থনের প্রমাণ থাকতে হয়।
পাশাপাশি দলটির কেউ সংসদ সদস্য থাকলে বা আগের নির্বাচনে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট পেলে তা নিবন্ধনের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে গণ্য হয়।
প্রাথমিক বাছাইয়ের পর দলগুলোর তথ্য সরেজমিন তদন্ত করে ইসি। তারপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে দাবি-আপত্তি আহ্বান করা হয়। আপত্তি না থাকলে সনদ দেওয়া হয়, অন্যথায় শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত হয়।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫১টি। ২০০৮ সালে দল নিবন্ধনের নিয়ম চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৫৫টি দল নিবন্ধন পেয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি ও জাগপা—এই পাঁচটি দলের নিবন্ধন পরে বাতিল করা হয়।
সম্প্রতি আদালতের আদেশে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফেরত দেওয়া হলেও জাগপার বিষয়ে ইসি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকার পতনের পর গত এক বছরে অন্তত ২৩টি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে ছয়টি দল ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে নিবন্ধন সনদ পেয়েছে। বাকিরা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও বেশিরভাগই প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, এ বছর নিবন্ধনের জন্য নতুন ও পুরনো মিলিয়ে মোট ১৪৫টি দল আবেদন করেছে। তবে তাদের মধ্যে মাত্র ৮০টি দল তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েছে। ৬টি দল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে এবং ৫৯টি দল কোনো সাড়া দেয়নি। তথ্য ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক দলের আবেদন বাতিলের পথে রয়েছে।
গত এক বছরে নিবন্ধন পাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো হলো:
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি - ঈগল) – ২১ আগস্ট ২০২৪
নাগরিক ঐক্য (কেটলি) – ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
গণঅধিকার পরিষদ (ট্রাক) – ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
গণসংহতি আন্দোলন (মাথাল) – ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ফুলকপি) – ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি - রকেট) – ৯ এপ্রিল ২০২৫
ইসি সূত্র জানায়, এসব দলের অধিকাংশই আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন পেয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র নিবন্ধিত দলগুলোকেই রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়।
গত আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত আত্মপ্রকাশ করা দলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
নিউক্লিয়াস পার্টি অব বাংলাদেশ (২৩ আগস্ট ২০২৪)
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি (৮ সেপ্টেম্বর)
বাংলাদেশ জনপ্রিয় পার্টি (২৩ সেপ্টেম্বর)
সার্বভৌমত্ব আন্দোলন (২৭ সেপ্টেম্বর)
বাংলাদেশ সংস্কারবাদী পার্টি (১৫ নভেম্বর)
বাংলাদেশ মুক্তির ডাক (১৬ নভেম্বর)
জাতীয় বিপ্লবী পার্টি (১৬ ডিসেম্বর)
দেশ জনতা পার্টি (৪ জানুয়ারি ২০২৫)
আম জনগণ পার্টি (১৭ এপ্রিল ২০২৫, নাম পরিবর্তন)
জনতা পার্টি বাংলাদেশ (২৫ এপ্রিল ২০২৫)
এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসা অংশের নেতৃত্বে আম জনতার দল, ডেসটিনির সাবেক কর্ণধার রফিকুল আমিনের নেতৃত্বে গঠিত আম জনগণ পার্টি, ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের জনতা পার্টি বাংলাদেশও বেশ আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধন পেতে হলে যেকোনো দলের:
একটি কেন্দ্রীয় কমিটি,
অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় ও ১০০টি উপজেলায় কমিটি,
প্রতিটি কমিটিতে ২০০ ভোটারের স্বাক্ষরসহ সমর্থনের প্রমাণ থাকতে হয়।
পাশাপাশি দলটির কেউ সংসদ সদস্য থাকলে বা আগের নির্বাচনে কমপক্ষে ৫ শতাংশ ভোট পেলে তা নিবন্ধনের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে গণ্য হয়।
প্রাথমিক বাছাইয়ের পর দলগুলোর তথ্য সরেজমিন তদন্ত করে ইসি। তারপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে দাবি-আপত্তি আহ্বান করা হয়। আপত্তি না থাকলে সনদ দেওয়া হয়, অন্যথায় শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত হয়।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫১টি। ২০০৮ সালে দল নিবন্ধনের নিয়ম চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৫৫টি দল নিবন্ধন পেয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী, ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, পিডিপি ও জাগপা—এই পাঁচটি দলের নিবন্ধন পরে বাতিল করা হয়।
সম্প্রতি আদালতের আদেশে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফেরত দেওয়া হলেও জাগপার বিষয়ে ইসি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আপনার মতামত লিখুন