এশিয়ায় খেলাপি ঋণে শীর্ষে বাংলাদেশ: সংকটের গভীরে যা লুকানো
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এক সময় এই সমস্যা কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা বেসরকারি খাতেও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। সময়ের সাথে সাথে এ সমস্যাটি যেন একটি স্থায়ী কাঠামোতে রূপ নিয়েছে—যাকে অনেকেই বলছেন 'ঋণখেলাপির সংস্কৃতি'।
২০২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য: এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের হারে বাংলাদেশ শীর্ষে। এডিবির এই প্রতিবেদনটিতে মূলত ২০২৩ সালের পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তবে বাস্তবে ২০২৫ সালে এসে এ হার আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর রাজনৈতিক পালাবদলের পর (আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর) ব্যাংক খাতে জমে থাকা ‘লুকানো’ খেলাপি ঋণগুলো একে একে প্রকাশ পেতে শুরু করে। একই সঙ্গে দেখা যায়, বহু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী—বিশেষ করে পূর্বের সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীর অনেকেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, যার প্রভাবে মোট ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৮% এর বেশি) খেলাপিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এক বছর আগেও এই হার ছিল মাত্র ১২%।
পূর্বে নানা কৌশলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখানো হতো। ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণকে সাময়িকভাবে 'ভালো' হিসাবে দেখানো হতো। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঋণের মান নির্ধারণ শুরু হওয়ায় বাস্তব চিত্র বের হয়ে আসছে। পাশাপাশি, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ধীরগতি এবং রাজনীতি-নির্ভর ব্যবসায়িক মডেলের ভেঙে পড়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য নিঃসন্দেহে হুমকিস্বরূপ। বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ বাজারেও সংকট বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর সংস্কার না আনলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সরকার ইতিমধ্যে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের সহায়তা করা, ঋণ পুনরুদ্ধারে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
এশিয়ায় খেলাপি ঋণে শীর্ষে বাংলাদেশ: সংকটের গভীরে যা লুকানো
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এক সময় এই সমস্যা কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা বেসরকারি খাতেও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। সময়ের সাথে সাথে এ সমস্যাটি যেন একটি স্থায়ী কাঠামোতে রূপ নিয়েছে—যাকে অনেকেই বলছেন 'ঋণখেলাপির সংস্কৃতি'।
২০২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য: এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণের হারে বাংলাদেশ শীর্ষে। এডিবির এই প্রতিবেদনটিতে মূলত ২০২৩ সালের পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তবে বাস্তবে ২০২৫ সালে এসে এ হার আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছর রাজনৈতিক পালাবদলের পর (আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর) ব্যাংক খাতে জমে থাকা ‘লুকানো’ খেলাপি ঋণগুলো একে একে প্রকাশ পেতে শুরু করে। একই সঙ্গে দেখা যায়, বহু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী—বিশেষ করে পূর্বের সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীর অনেকেই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, যার প্রভাবে মোট ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৮% এর বেশি) খেলাপিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এক বছর আগেও এই হার ছিল মাত্র ১২%।
পূর্বে নানা কৌশলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখানো হতো। ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণকে সাময়িকভাবে 'ভালো' হিসাবে দেখানো হতো। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঋণের মান নির্ধারণ শুরু হওয়ায় বাস্তব চিত্র বের হয়ে আসছে। পাশাপাশি, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ধীরগতি এবং রাজনীতি-নির্ভর ব্যবসায়িক মডেলের ভেঙে পড়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তির জন্য নিঃসন্দেহে হুমকিস্বরূপ। বিদেশি বিনিয়োগে আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ বাজারেও সংকট বাড়ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এখনই কার্যকর সংস্কার না আনলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।
সরকার ইতিমধ্যে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে তাদের সহায়তা করা, ঋণ পুনরুদ্ধারে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল।
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।
আপনার মতামত লিখুন