নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৫

হিমাগারে ‘আলুর খেলা’: জয়পুরহাটে কৃষকের অজান্তে হাজার বস্তা আলু বিক্রি

হিমাগারে ‘আলুর খেলা’: জয়পুরহাটে কৃষকের অজান্তে হাজার বস্তা আলু বিক্রি
ক্ষতিপূরণ চান ভুক্তভোগীরা....   মোস্তাফিজুর রহমান (জয়পুরহাট প্রতিনিধি) জয়পুরহাট জেলা জুড়ে চলছে এক অস্বচ্ছ, কৃষক-বিরোধী ‘নিরব বিপণন’। পাঁচবিবি ও ক্ষেতলালের সাথী, মোল্লা ও হাফিজার রহমান হিমাগার কতৃপক্ষ কৃষকদের না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দিয়েছে হাজার হাজার বস্তা আলু। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা। শালাইপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান — আমি সাথী হিমাগার ৯০০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। বিক্রির কথা তো দূরে থাক, আমাকে জানানোও হয়নি। এখন শুনি সব বিক্রি হয়ে গেছে। এটা কেমন বিচার? আরেক কৃষক আমজাদ হোসেন বলছেন আমি মোল্লা হিমাগারে ৩০০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। আজকে আলু তুলতে এসে দেখি আমারসব শেষ। হিমাগার কর্তৃপক্ষেরা বলছেন আলু পচেঁ যওয়ার আসঙ্খায় এবং জায়গা ফাঁকা করার জন্য আগে থেকেই বিক্রি করতে হয়েছে।জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান স্পষ্ট করে জানান, “সময়সীমার আগেই আলু বিক্রি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বেআইনি। কৃষকের অনুমতি ছাড়া কোনো ফসল বিক্রি করা যায় না।” ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও বিচার চেয়েছে। জয়পুরহাট চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু বলেন কৃষকের ঘামে উৎপাদিত ফসল যদি হিমাগারের ভেতরেও নিরাপদ না থাকে, তবে কৃষকের যাবার জায়গা কোথায়? এই ঘটনা শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি কৃষকের প্রতি রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রতিচ্ছবি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষকের আস্থা পুনঃস্থাপন। না হলে, কৃষক হিমাগার ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে, যার প্রভাব পড়বে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


হিমাগারে ‘আলুর খেলা’: জয়পুরহাটে কৃষকের অজান্তে হাজার বস্তা আলু বিক্রি

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৫

featured Image
ক্ষতিপূরণ চান ভুক্তভোগীরা....   মোস্তাফিজুর রহমান (জয়পুরহাট প্রতিনিধি) জয়পুরহাট জেলা জুড়ে চলছে এক অস্বচ্ছ, কৃষক-বিরোধী ‘নিরব বিপণন’। পাঁচবিবি ও ক্ষেতলালের সাথী, মোল্লা ও হাফিজার রহমান হিমাগার কতৃপক্ষ কৃষকদের না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দিয়েছে হাজার হাজার বস্তা আলু। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা। শালাইপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান — আমি সাথী হিমাগার ৯০০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। বিক্রির কথা তো দূরে থাক, আমাকে জানানোও হয়নি। এখন শুনি সব বিক্রি হয়ে গেছে। এটা কেমন বিচার? আরেক কৃষক আমজাদ হোসেন বলছেন আমি মোল্লা হিমাগারে ৩০০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। আজকে আলু তুলতে এসে দেখি আমারসব শেষ। হিমাগার কর্তৃপক্ষেরা বলছেন আলু পচেঁ যওয়ার আসঙ্খায় এবং জায়গা ফাঁকা করার জন্য আগে থেকেই বিক্রি করতে হয়েছে।জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান স্পষ্ট করে জানান, “সময়সীমার আগেই আলু বিক্রি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বেআইনি। কৃষকের অনুমতি ছাড়া কোনো ফসল বিক্রি করা যায় না।” ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও বিচার চেয়েছে। জয়পুরহাট চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আনোয়ারুল হক আনু বলেন কৃষকের ঘামে উৎপাদিত ফসল যদি হিমাগারের ভেতরেও নিরাপদ না থাকে, তবে কৃষকের যাবার জায়গা কোথায়? এই ঘটনা শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি কৃষকের প্রতি রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি প্রতিচ্ছবি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কৃষকের আস্থা পুনঃস্থাপন। না হলে, কৃষক হিমাগার ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে, যার প্রভাব পড়বে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত