ছবি: নজরবিডি ডট কম[/caption]
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার যশোরের খেজুর গুড়কে ঘিরে দেখা দিয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা ও উৎপাদন—
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে যশোরে প্রায় ১২০ কোটি টাকার খেজুর রস ও গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় মোট ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৫টি খেজুর গাছ থাকলেও বর্তমানে রস আহরণের উপযোগী গাছ রয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি। এই বিশাল উৎপাদন গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজার দর ও গাছির হাহাকার—
বর্তমানে বাজারে প্রতি হাঁড়ি কাঁচা রস ২০০-৪০০ টাকা, দানা গুড় ৩৫০-৪০০ টাকা এবং উন্নত মানের পাটালি ৪৫০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় যোগান এবং দক্ষ গাছির অভাব ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের। সদর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের প্রবীণ গাছি আজিবর জানান, "আগে দেড় শ গাছ কাটতাম, এখন বয়সের ভারে ৪০টার বেশি পারি না। গুড়ের দাম বাড়লেও গাছির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।" মণিরামপুরের গাছি অতিয়ারও একই সুর মিলিয়ে বলেন, কাজটা অত্যন্ত কষ্টের হলেও এই শীতের আয়েই চলে পুরো বছরের সংসার।
ই-কমার্সে বিশ্বজয়—
যশোরের খেজুর গুড় এখন আর শুধু স্থানীয় হাটে সীমাবদ্ধ নেই। ই-কমার্স ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোক্তাদের কল্যাণে এই গুড় এখন সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশের ভোজনরসিকদের ঘরে। এমনকি বিদেশের বাজারেও বাড়ছে এই ঐতিহ্যের চাহিদা। অনলাইনে বেচাকেনা বাড়ায় তৈরি হয়েছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।
কৃষি বিভাগের তৎপরতা—
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, "এবার শীত বেশি হওয়ায় রসের পরিমাণ ও মান দুই-ই ভালো। আমরা নিরাপদ রস ও মানসম্মত গুড় উৎপাদনে গাছিদের প্রশিক্ষণ এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছি। ১২০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা আশাবাদী।"
যশোরের পরিচয় এখন শুধু ‘খেজুর গুড়ের জেলা’ হিসেবেই নয়, বরং এটি এখন একটি লাভজনক কৃষি শিল্পে পরিণত হয়েছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং নতুন গাছি তৈরি করা গেলে এই খাত থেকে ভবিষ্যতে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: নজরবিডি ডট কম[/caption]
ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার যশোরের খেজুর গুড়কে ঘিরে দেখা দিয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা।
অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা ও উৎপাদন—
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে যশোরে প্রায় ১২০ কোটি টাকার খেজুর রস ও গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় মোট ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৫টি খেজুর গাছ থাকলেও বর্তমানে রস আহরণের উপযোগী গাছ রয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি। এই বিশাল উৎপাদন গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজার দর ও গাছির হাহাকার—
বর্তমানে বাজারে প্রতি হাঁড়ি কাঁচা রস ২০০-৪০০ টাকা, দানা গুড় ৩৫০-৪০০ টাকা এবং উন্নত মানের পাটালি ৪৫০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় যোগান এবং দক্ষ গাছির অভাব ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্টদের। সদর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের প্রবীণ গাছি আজিবর জানান, "আগে দেড় শ গাছ কাটতাম, এখন বয়সের ভারে ৪০টার বেশি পারি না। গুড়ের দাম বাড়লেও গাছির সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।" মণিরামপুরের গাছি অতিয়ারও একই সুর মিলিয়ে বলেন, কাজটা অত্যন্ত কষ্টের হলেও এই শীতের আয়েই চলে পুরো বছরের সংসার।
ই-কমার্সে বিশ্বজয়—
যশোরের খেজুর গুড় এখন আর শুধু স্থানীয় হাটে সীমাবদ্ধ নেই। ই-কমার্স ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোক্তাদের কল্যাণে এই গুড় এখন সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানীসহ সারা দেশের ভোজনরসিকদের ঘরে। এমনকি বিদেশের বাজারেও বাড়ছে এই ঐতিহ্যের চাহিদা। অনলাইনে বেচাকেনা বাড়ায় তৈরি হয়েছে নতুন নতুন কর্মসংস্থান।
কৃষি বিভাগের তৎপরতা—
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, "এবার শীত বেশি হওয়ায় রসের পরিমাণ ও মান দুই-ই ভালো। আমরা নিরাপদ রস ও মানসম্মত গুড় উৎপাদনে গাছিদের প্রশিক্ষণ এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পরামর্শ দিচ্ছি। ১২০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা আশাবাদী।"
যশোরের পরিচয় এখন শুধু ‘খেজুর গুড়ের জেলা’ হিসেবেই নয়, বরং এটি এখন একটি লাভজনক কৃষি শিল্পে পরিণত হয়েছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং নতুন গাছি তৈরি করা গেলে এই খাত থেকে ভবিষ্যতে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 
আপনার মতামত লিখুন