এই ঐতিহ্যবাহী মেলা থেকে সেরা মাছ কিনে জামাইরা নিয়ে যান শ্বশুর বাড়িতে। তাই এই মেলাকে জামাই মেলা ও বলা হয়ে থাকে। প্রতিবছরের মতো এই দিনের যেন অপেক্ষায় থাকেন এই উপজেলা সহ আশপাশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। পৌর এলাকার পাঁচশিরা বাজারে দিনব্যাপী মাছের মেলায় বেচাকেনার এমন উৎসব হাক-ডাক ও দরকষাকষি চলে ক্রেতা বিকৃতাদের মধ্যে।
এ উপলক্ষে বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা এই এলাকার জামাই মেয়ে আত্মীয়-স্বজনেরা আসেন স্বজনদের বাড়ি বাড়ি। মেলা থেকে সেরা মাছ কিনে জামাইরা নিয়ে যান শ্বশুরবাড়িতে। জামাইদের উপলক্ষ হলেও শুধু জামাই নয়, ভোর থেকে মেলায় ভিড় করেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষ। কালাই উপজেলা হারুঞ্জ গ্রামের জামাই আব্দুল মজিদ জানান,আত্বীয়তার মেলবন্ধন অটুট রাখতেজামাইরা প্রতিযোগিতা করে। মেলা থেকে বেশি ওজন ও বেশি দামের মাছ শশুর বাড়িতে নিয়ে যান। আবার শশুরেরাও মেয়ের জামাইদের সন্তুষ্টির জন্য ঘটা করে হয় এই উৎসবটি।
ক্রেতা বিক্রেতা আর কৌতুহলি মানুষের ঢলে মেলাটি পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সকাল থেকেই ক্রেতারা ভিড় জমান মাছের এই মেলায়। মেলার শতাধিক মাছের দোকানে থরে থরে সাজানো দেশি রুই-কাতলা, মৃগেল, চিতল, বোয়াল, সিলভার কার্ভ, ব্রি গ্রেট, আইরসহ নানা ধরনের মাছ।
পাঁচশিরা বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সভাপতি ও মাছ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, এ মেলাই জয়পুরহাট সহ পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁ,বগুড়া,রাজশাহী সহ আরো অনেক জেলা থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে আসে। এবারে সর্বোচ্চ ২০/২২ কেজি ওজনের মাছ বেচা কিনা হচ্ছে। প্রতি কেজির ৩৫০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত এবং আইর বোয়াল ও চিতল মাছ প্রতি কেজি থেকে ৪০০ থেকে ১১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
আরেক মাছ ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান মাঝারি আকারের মাছ গত বছরের মত এবারও ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এবারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে বেচাকেনা কিছুটা কম হলেও ক্রেতা সমাগম হওয়ায় বেচাকেনা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হচ্ছে বলে জানান এই মাছ ব্যবসায়ীরা।
মেলা প্রসঙ্গে কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম জানান, মৎস্যচাষীদের এই ধরনের উদ্যোগকে আমরা সব সময় সাধুবাদ জানাই । এবং এ অঞ্চলের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে আমরা এ ধরনের মেলার মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের উৎসাহিত করে থাকি। 
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫
এই ঐতিহ্যবাহী মেলা থেকে সেরা মাছ কিনে জামাইরা নিয়ে যান শ্বশুর বাড়িতে। তাই এই মেলাকে জামাই মেলা ও বলা হয়ে থাকে। প্রতিবছরের মতো এই দিনের যেন অপেক্ষায় থাকেন এই উপজেলা সহ আশপাশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। পৌর এলাকার পাঁচশিরা বাজারে দিনব্যাপী মাছের মেলায় বেচাকেনার এমন উৎসব হাক-ডাক ও দরকষাকষি চলে ক্রেতা বিকৃতাদের মধ্যে।
এ উপলক্ষে বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা এই এলাকার জামাই মেয়ে আত্মীয়-স্বজনেরা আসেন স্বজনদের বাড়ি বাড়ি। মেলা থেকে সেরা মাছ কিনে জামাইরা নিয়ে যান শ্বশুরবাড়িতে। জামাইদের উপলক্ষ হলেও শুধু জামাই নয়, ভোর থেকে মেলায় ভিড় করেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বয়সী মানুষ। কালাই উপজেলা হারুঞ্জ গ্রামের জামাই আব্দুল মজিদ জানান,আত্বীয়তার মেলবন্ধন অটুট রাখতেজামাইরা প্রতিযোগিতা করে। মেলা থেকে বেশি ওজন ও বেশি দামের মাছ শশুর বাড়িতে নিয়ে যান। আবার শশুরেরাও মেয়ের জামাইদের সন্তুষ্টির জন্য ঘটা করে হয় এই উৎসবটি।
ক্রেতা বিক্রেতা আর কৌতুহলি মানুষের ঢলে মেলাটি পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সকাল থেকেই ক্রেতারা ভিড় জমান মাছের এই মেলায়। মেলার শতাধিক মাছের দোকানে থরে থরে সাজানো দেশি রুই-কাতলা, মৃগেল, চিতল, বোয়াল, সিলভার কার্ভ, ব্রি গ্রেট, আইরসহ নানা ধরনের মাছ।
পাঁচশিরা বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সভাপতি ও মাছ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, এ মেলাই জয়পুরহাট সহ পার্শ্ববর্তী জেলা নওগাঁ,বগুড়া,রাজশাহী সহ আরো অনেক জেলা থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে আসে। এবারে সর্বোচ্চ ২০/২২ কেজি ওজনের মাছ বেচা কিনা হচ্ছে। প্রতি কেজির ৩৫০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত এবং আইর বোয়াল ও চিতল মাছ প্রতি কেজি থেকে ৪০০ থেকে ১১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
আরেক মাছ ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান মাঝারি আকারের মাছ গত বছরের মত এবারও ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এবারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে বেচাকেনা কিছুটা কম হলেও ক্রেতা সমাগম হওয়ায় বেচাকেনা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হচ্ছে বলে জানান এই মাছ ব্যবসায়ীরা।
মেলা প্রসঙ্গে কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম জানান, মৎস্যচাষীদের এই ধরনের উদ্যোগকে আমরা সব সময় সাধুবাদ জানাই । এবং এ অঞ্চলের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে আমরা এ ধরনের মেলার মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের উৎসাহিত করে থাকি। 
আপনার মতামত লিখুন