রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ইকবাল ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে আল্লামা ইকবাল সংসদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী শাহ্ আবদুল হালিম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও কবি নাসির হেলাল। তিনি বলেন,
“রাজনীতি ও ধর্ম পরস্পরের পরিপূরক শক্তি। ধর্মহীন গণতন্ত্র যেমন প্রাণহীন, তেমনি গণতান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া ধর্মীয় স্বাধীনতাও অসম্পূর্ণ। ইকবাল ত্রুটিবিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্রকেই মুসলিম বিশ্বের শান্তির পথ হিসেবে দেখেছেন— তবে তা অবশ্যই ইসলামের আলোকে আলোকিত গণতন্ত্র।”
নাসির হেলাল আরো বলেন,
“ইউরোপ সফরের পূর্বে ইকবাল ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলমানকে একই জাতি মনে করতেন। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদের স্লোগান তুলে তা বাস্তবায়নে আজীবন সংগ্রাম করেন।”
প্রধান অতিথি রিটায়ার্ড আর্মি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) এর প্রেসিডেন্ট কর্ণেল আব্দুল হক বলেন,
“কাশ্মীর ৮০ বছর যুদ্ধ করেও স্বাধীনতার মুখ দেখেনি, অথচ তাদের পাশে পাকিস্তান ও চীন আছে। আমাদের পাশে কেউ ছিল না। যদি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা না হতো, তাহলে ভারতীয় আধিপত্য থেকে বাংলাদেশ কখনোই বের হতে পারত না। হয়তো হাজার বঙ্গবন্ধু জন্ম নিলেও স্বাধীনতার নাগাল পাওয়া যেত না।”
তিনি আরও বলেন,
“সময় এসেছে সত্য কথা বলার। স্বাধীনতার পেছনে ইকবালের ভাবনা ও দ্বিজাতি তত্ত্ব নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে।”
সভায় বক্তারা বলেন—
আল্লামা ইকবাল শুধু ভারত বা পাকিস্তানের কবি নন, তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্যের একজন দিকপাল।
তাঁর ফার্সি ও উর্দু ভাষার কবিতা আধুনিক ইসলামী দর্শনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
‘আসরার-ই-খুদী’ (১৯১৫), ‘রুমুজ-ই-বেখুদী’, ‘জুবুর-ই-আজাম’, ‘পয়গাম-ই-মাশরিক’— এসব গ্রন্থ বিশ্ব মুসলিম জাগরণে বিশেষ অবদান রেখেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় ‘ইকবাল হল’ ছিল; কিন্তু পরবর্তীকালে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে— যা বক্তাদের মতে ইতিহাস থেকে ইকবালকে দূরে সরানোর প্রয়াস।
বক্তারা বলেন, “মুসলিম বিশ্ব আজ যেভাবে ইকবালের দর্শন ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫
রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ইকবাল ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে আল্লামা ইকবাল সংসদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী শাহ্ আবদুল হালিম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ও কবি নাসির হেলাল। তিনি বলেন,
“রাজনীতি ও ধর্ম পরস্পরের পরিপূরক শক্তি। ধর্মহীন গণতন্ত্র যেমন প্রাণহীন, তেমনি গণতান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া ধর্মীয় স্বাধীনতাও অসম্পূর্ণ। ইকবাল ত্রুটিবিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও গণতন্ত্রকেই মুসলিম বিশ্বের শান্তির পথ হিসেবে দেখেছেন— তবে তা অবশ্যই ইসলামের আলোকে আলোকিত গণতন্ত্র।”
নাসির হেলাল আরো বলেন,
“ইউরোপ সফরের পূর্বে ইকবাল ভারতীয় জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলমানকে একই জাতি মনে করতেন। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি মুসলিম জাতীয়তাবাদের স্লোগান তুলে তা বাস্তবায়নে আজীবন সংগ্রাম করেন।”
প্রধান অতিথি রিটায়ার্ড আর্মি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) এর প্রেসিডেন্ট কর্ণেল আব্দুল হক বলেন,
“কাশ্মীর ৮০ বছর যুদ্ধ করেও স্বাধীনতার মুখ দেখেনি, অথচ তাদের পাশে পাকিস্তান ও চীন আছে। আমাদের পাশে কেউ ছিল না। যদি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা না হতো, তাহলে ভারতীয় আধিপত্য থেকে বাংলাদেশ কখনোই বের হতে পারত না। হয়তো হাজার বঙ্গবন্ধু জন্ম নিলেও স্বাধীনতার নাগাল পাওয়া যেত না।”
তিনি আরও বলেন,
“সময় এসেছে সত্য কথা বলার। স্বাধীনতার পেছনে ইকবালের ভাবনা ও দ্বিজাতি তত্ত্ব নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে।”
সভায় বক্তারা বলেন—
আল্লামা ইকবাল শুধু ভারত বা পাকিস্তানের কবি নন, তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্যের একজন দিকপাল।
তাঁর ফার্সি ও উর্দু ভাষার কবিতা আধুনিক ইসলামী দর্শনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
‘আসরার-ই-খুদী’ (১৯১৫), ‘রুমুজ-ই-বেখুদী’, ‘জুবুর-ই-আজাম’, ‘পয়গাম-ই-মাশরিক’— এসব গ্রন্থ বিশ্ব মুসলিম জাগরণে বিশেষ অবদান রেখেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একসময় ‘ইকবাল হল’ ছিল; কিন্তু পরবর্তীকালে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে— যা বক্তাদের মতে ইতিহাস থেকে ইকবালকে দূরে সরানোর প্রয়াস।
বক্তারা বলেন, “মুসলিম বিশ্ব আজ যেভাবে ইকবালের দর্শন ধরে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশকেও সেই পথ অনুসরণ করতে হবে।”

আপনার মতামত লিখুন