দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, খেলার মাঠের অপব্যবহার এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ও গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নিকুঞ্জে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। অভিযান পরিচালনা করেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলি।
অভিযান শুরু হয় নিকুঞ্জ-২ এর ১ নম্বর রোডের পূর্ব মাথা থেকে। এরপর ঢাকা রিজেন্সির পেছন হয়ে খেলার মাঠসংলগ্ন ৫ ও ৮ নম্বর রোডে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়। ফুটপাত ও রাস্তার পাশের বেশ কিছু স্থাপনা সরানো হলেও, এলাকাবাসীর সবচেয়ে বড় দাবি—খেলার মাঠের অভ্যন্তরে স্থাপিত বহুল আলোচিত ফুড কোর্ট—অক্ষতই রয়ে যায়।
[caption id="attachment_16374" align="alignnone" width="300"]
নিকুঞ্জে উচ্ছেধ অভিযান চলাকালে, ছবি:নজরবিডি[/caption]
এতে现场 উপস্থিত শত শত নিকুঞ্জবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, খেলার মাঠের পরিবেশ বিনষ্ট করা এই ফুড কোর্টই ছিল উচ্ছেদ অভিযানের মূল লক্ষ্য; কিন্তু ডিএনসিসি সেটিতে হাত না দিয়ে কেবল বাইরের অংশে সীমিত পরিসরে উচ্ছেদ চালিয়েছে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
তবে ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠটি রাজউকের আওতাধীন হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ার মাঠের ভিতরের স্থাপনা সরানো পর্যন্ত পৌঁছায় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের "বাছাই করা অভিযান" কার্যত লোকদেখানো।
নিকুঞ্জের বাসিন্দা রানা ইব্রাহিম বলেন,
"ডিএনসিসির এই লোক দেখানো অভিযান এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসবে না। আমাদের মূল দাবি ছিল মাঠের ফুড কোর্ট উচ্ছেদ করা; কিন্তু তারা সেটি না ছুঁয়েই পাশ কাটিয়ে গেল।"
খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক জাহিদ ইকবাল জানান,
"১ নম্বর রোডের পুরো অংশে অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও করা হয়েছে আংশিক। আর মাঠের সবচেয়ে আলোচিত ফুড কোর্ট অক্ষত রাখা হয়েছে। এটি জনগণের প্রতি স্পষ্ট অবহেলা।"
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
"জনস্বার্থে ও জনকল্যাণে আমরা যেকোনো উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। রাস্তা বা জনচলাচলে কোনো বাধা বরদাস্ত করা হবে না।"
দীর্ঘদিন ধরে নিকুঞ্জবাসীর দাবি—খেলার মাঠের অভ্যন্তরে থাকা ফুড কোর্ট অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আজকের উচ্ছেদ অভিযানে ফুড কোর্ট অক্ষত থাকায় এলাকায় স্বস্তির বদলে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ডিএনসিসি এবং রাজউক একে অপরের ওপর দোষ চাপানো বন্ধ করে সমন্বিত উদ্যোগে নিকুঞ্জের খেলার মাঠ থেকে ফুড কোর্ট দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে—এটাই এখন এলাকাবাসীর একক দাবিতে পরিণত হয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫
দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, খেলার মাঠের অপব্যবহার এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ ও গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নিকুঞ্জে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। অভিযান পরিচালনা করেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলি।
অভিযান শুরু হয় নিকুঞ্জ-২ এর ১ নম্বর রোডের পূর্ব মাথা থেকে। এরপর ঢাকা রিজেন্সির পেছন হয়ে খেলার মাঠসংলগ্ন ৫ ও ৮ নম্বর রোডে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হয়। ফুটপাত ও রাস্তার পাশের বেশ কিছু স্থাপনা সরানো হলেও, এলাকাবাসীর সবচেয়ে বড় দাবি—খেলার মাঠের অভ্যন্তরে স্থাপিত বহুল আলোচিত ফুড কোর্ট—অক্ষতই রয়ে যায়।
[caption id="attachment_16374" align="alignnone" width="300"]
নিকুঞ্জে উচ্ছেধ অভিযান চলাকালে, ছবি:নজরবিডি[/caption]
এতে现场 উপস্থিত শত শত নিকুঞ্জবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, খেলার মাঠের পরিবেশ বিনষ্ট করা এই ফুড কোর্টই ছিল উচ্ছেদ অভিযানের মূল লক্ষ্য; কিন্তু ডিএনসিসি সেটিতে হাত না দিয়ে কেবল বাইরের অংশে সীমিত পরিসরে উচ্ছেদ চালিয়েছে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
তবে ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাঠটি রাজউকের আওতাধীন হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের এখতিয়ার মাঠের ভিতরের স্থাপনা সরানো পর্যন্ত পৌঁছায় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের "বাছাই করা অভিযান" কার্যত লোকদেখানো।
নিকুঞ্জের বাসিন্দা রানা ইব্রাহিম বলেন,
"ডিএনসিসির এই লোক দেখানো অভিযান এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসবে না। আমাদের মূল দাবি ছিল মাঠের ফুড কোর্ট উচ্ছেদ করা; কিন্তু তারা সেটি না ছুঁয়েই পাশ কাটিয়ে গেল।"
খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক জাহিদ ইকবাল জানান,
"১ নম্বর রোডের পুরো অংশে অভিযান পরিচালনার কথা থাকলেও করা হয়েছে আংশিক। আর মাঠের সবচেয়ে আলোচিত ফুড কোর্ট অক্ষত রাখা হয়েছে। এটি জনগণের প্রতি স্পষ্ট অবহেলা।"
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
"জনস্বার্থে ও জনকল্যাণে আমরা যেকোনো উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। রাস্তা বা জনচলাচলে কোনো বাধা বরদাস্ত করা হবে না।"
দীর্ঘদিন ধরে নিকুঞ্জবাসীর দাবি—খেলার মাঠের অভ্যন্তরে থাকা ফুড কোর্ট অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আজকের উচ্ছেদ অভিযানে ফুড কোর্ট অক্ষত থাকায় এলাকায় স্বস্তির বদলে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ডিএনসিসি এবং রাজউক একে অপরের ওপর দোষ চাপানো বন্ধ করে সমন্বিত উদ্যোগে নিকুঞ্জের খেলার মাঠ থেকে ফুড কোর্ট দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে—এটাই এখন এলাকাবাসীর একক দাবিতে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন