নজর বিডি

ঢাকা-১৮ তে নতুন চমক, অপেক্ষা দলীয় প্রধানদের সম্মতি

ঢাকা-১৮ তে নতুন চমক, অপেক্ষা দলীয় প্রধানদের সম্মতি

ঢাকা–১৮: উত্তরার রাজনৈতিক অঙ্গনে শেষ পর্যায়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা সামনে রেখে বৃহত্তর উত্তরা (উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, তুরাগ ও খিলক্ষেত) নিয়ে গঠিত ঢাকা–১৮ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর প্রস্তুতি। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সরব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—এই আসনে কারা হচ্ছেন চূড়ান্ত প্রার্থী।

ইতিহাসগতভাবে ক্ষমতাসীন দলই জিতেছে ঢাকা–১৮

ঢাকা–১৮ অনেকটা ‘দলীয় ইমেজ নির্ধারণকারী’ আসন হিসেবে পরিচিত। অতীতে যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তারাই এ আসনে জয় পেয়েছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণেই এবারও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অথবা তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে এ আসনে দেখা যেতে পারে বলে দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নামও আলোচনায় আছে দ্বিতীয় আসন হিসেবে। তবে দুই দলই ইঙ্গিত দিয়েছে—তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।

টানা গণসংযোগে জামায়াত, বিএনপি এখনও পিছিয়ে

বর্তমান প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে দৃশ্যমান গণসংযোগ করেছেন জামায়াতের অধ্যক্ষ আশরাফুল হক। বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মীর স্নিগ্ধ, এম কফিলউদ্দিন আহমেদ এবং এনসিপির নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারিও সক্রিয়।
কিন্তু দলীয় ‘গ্রীন সিগন্যাল’ এখনো কেউই পাননি।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ—ঢাকা–১৮-এ ব্যাপক সাংগঠনিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক দলীয় জনসমর্থনকে পর্যাপ্তভাবে কাজে লাগাতে পারেননি। কেন্দ্রীয় মিডিয়া কমিটি এ বিষয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছে।

তারেক রহমান নাকি জোবায়দা রহমান? জল্পনা তুঙ্গে

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সূত্র জানায়, দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের বগুড়ার বাইরে বড় কোনো প্রচারণায় অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না। সে কারণে ঢাকা–১৮কে তার দ্বিতীয় আসন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন ডা. জোবায়দা রহমান অথবা কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান।

জোবায়দা রহমান ইতোমধ্যে লন্ডন থেকে ফিরে উত্তরায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের ‘ঢাকা–১৮ ফোকাস’

ডা. শফিকুর রহমানের জন্মস্থান মৌলভীবাজার–২ হলেও দ্বিতীয় আসন হিসেবে সেখানে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন—৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর সবচেয়ে বেশি সময় তিনি ব্যয় করেছেন ঢাকা–১৮-এ।
ইতিকাফ, ঈদ, গণসংযোগ, জুমার নামাজ—নিয়মিত তার উত্তরায় যাতায়াত নজরে পড়েছে।
এ অবস্থায় দলের তৃণমূল মনে করছে—এই আসনে ডা. শফিকুর রহমানই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হতে পারেন।

শিবির নেতাদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে—শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনে অনুমতি দেওয়া হলে প্রার্থী হতে পারেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান অথবা ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদেক কায়েম।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে উত্তরার সর্বাধিক সংখ্যক শহীদ ছিলেন জামায়াত–শিবিরের জনশক্তি। ফলে এ আসনকে ‘ঐতিহাসিক ও মর্যাদাবান’ আসন হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।

কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক আজিজুর রহমান আযাদ এ বিষয়ে বলেন—“আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করুন, চমক আসছে।”

এনসিপির মনোনয়ন নিশ্চিত পাটোয়ারির

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এবং তার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে সূত্র জানিয়েছে।

শেষমেশ লড়াই হবে ‘দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে’?

বহু সমীকরণ পেরিয়ে সার্বিক চিত্র বলছে—ঢাকা–১৮ শেষ পর্যন্ত প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ বা দ্বিতীয় প্রধান প্রার্থীদের লড়াইয়ের ময়দানেই পরিণত হবে।
তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান—দুজনই আপাতত শর্তাধীন অপেক্ষায় আছেন পরস্পরের সিদ্ধান্তের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ঢাকা-১৮ তে নতুন চমক, অপেক্ষা দলীয় প্রধানদের সম্মতি

প্রকাশের তারিখ : ২১ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

ঢাকা–১৮: উত্তরার রাজনৈতিক অঙ্গনে শেষ পর্যায়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষা

ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা সামনে রেখে বৃহত্তর উত্তরা (উত্তরা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, তুরাগ ও খিলক্ষেত) নিয়ে গঠিত ঢাকা–১৮ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর প্রস্তুতি। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সরব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—এই আসনে কারা হচ্ছেন চূড়ান্ত প্রার্থী।

ইতিহাসগতভাবে ক্ষমতাসীন দলই জিতেছে ঢাকা–১৮

ঢাকা–১৮ অনেকটা ‘দলীয় ইমেজ নির্ধারণকারী’ আসন হিসেবে পরিচিত। অতীতে যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তারাই এ আসনে জয় পেয়েছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণেই এবারও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অথবা তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে এ আসনে দেখা যেতে পারে বলে দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নামও আলোচনায় আছে দ্বিতীয় আসন হিসেবে। তবে দুই দলই ইঙ্গিত দিয়েছে—তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।

টানা গণসংযোগে জামায়াত, বিএনপি এখনও পিছিয়ে

বর্তমান প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে দৃশ্যমান গণসংযোগ করেছেন জামায়াতের অধ্যক্ষ আশরাফুল হক। বিএনপির এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মীর স্নিগ্ধ, এম কফিলউদ্দিন আহমেদ এবং এনসিপির নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারিও সক্রিয়।
কিন্তু দলীয় ‘গ্রীন সিগন্যাল’ এখনো কেউই পাননি।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ—ঢাকা–১৮-এ ব্যাপক সাংগঠনিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আশরাফুল হক দলীয় জনসমর্থনকে পর্যাপ্তভাবে কাজে লাগাতে পারেননি। কেন্দ্রীয় মিডিয়া কমিটি এ বিষয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছে।

তারেক রহমান নাকি জোবায়দা রহমান? জল্পনা তুঙ্গে

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সূত্র জানায়, দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের বগুড়ার বাইরে বড় কোনো প্রচারণায় অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না। সে কারণে ঢাকা–১৮কে তার দ্বিতীয় আসন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন ডা. জোবায়দা রহমান অথবা কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান।

জোবায়দা রহমান ইতোমধ্যে লন্ডন থেকে ফিরে উত্তরায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।

জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের ‘ঢাকা–১৮ ফোকাস’

ডা. শফিকুর রহমানের জন্মস্থান মৌলভীবাজার–২ হলেও দ্বিতীয় আসন হিসেবে সেখানে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন—৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর সবচেয়ে বেশি সময় তিনি ব্যয় করেছেন ঢাকা–১৮-এ।
ইতিকাফ, ঈদ, গণসংযোগ, জুমার নামাজ—নিয়মিত তার উত্তরায় যাতায়াত নজরে পড়েছে।
এ অবস্থায় দলের তৃণমূল মনে করছে—এই আসনে ডা. শফিকুর রহমানই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হতে পারেন।

শিবির নেতাদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে—শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনে অনুমতি দেওয়া হলে প্রার্থী হতে পারেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান অথবা ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদেক কায়েম।
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে উত্তরার সর্বাধিক সংখ্যক শহীদ ছিলেন জামায়াত–শিবিরের জনশক্তি। ফলে এ আসনকে ‘ঐতিহাসিক ও মর্যাদাবান’ আসন হিসেবে বিবেচনা করছে সংগঠনটি।

কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক আজিজুর রহমান আযাদ এ বিষয়ে বলেন—“আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করুন, চমক আসছে।”

এনসিপির মনোনয়ন নিশ্চিত পাটোয়ারির

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন এবং তার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে সূত্র জানিয়েছে।

শেষমেশ লড়াই হবে ‘দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বে’?

বহু সমীকরণ পেরিয়ে সার্বিক চিত্র বলছে—ঢাকা–১৮ শেষ পর্যন্ত প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ বা দ্বিতীয় প্রধান প্রার্থীদের লড়াইয়ের ময়দানেই পরিণত হবে।
তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমান—দুজনই আপাতত শর্তাধীন অপেক্ষায় আছেন পরস্পরের সিদ্ধান্তের ওপর।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত