এস.এম. নাহিদ :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিতর্ক তীব্র। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক প্রভাবের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আসনটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল—কেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাঠের সমর্থন নিশ্চিত না হলে দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিএনপির তৃণমূলের পুরনো নেতাদের দাবি—দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নেওয়া, কারাবরণ, দমন-পীড়ন সহ্য করা এবং সংগঠন ধরে রাখার ইতিহাস থাকা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “মাঠের ত্যাগকে উপেক্ষা করলে দলের ভিতরে হতাশা তৈরি হবে, যা পরবর্তী নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও লক্ষ্য থাকে—বৃদ্ধ সিনিয়রিটি কখনো কখনো নতুন প্রার্থীর ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করে। তাই ত্যাগের মূল্যায়ন কেবল ব্যক্তিগত ইতিহাস নয়, দলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত।
তরুণ ভোটার ও স্থানীয় জনমত মনোনয়নের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনী সফলতার জন্য প্রার্থীর জনপ্রিয়তা মাঠে কেমন, সেটিই বড় ফ্যাক্টর।
এক স্থানীয় ভোটার বলেছেন, “কাগজে পরিচয় বা কেন্দ্রীয় পরিচিতি নয়, মানুষ যদি মাঠে স্বতঃসিদ্ধভাবে তাকে গ্রহণ করে, তখনই মনোনয়ন ফলপ্রসূ হয়।”
বিভিন্ন ওয়ার্ডে সক্রিয় নেতা ও স্থানীয় কর্মীদের সমর্থন, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক, নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা—এসবই জনপ্রিয়তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
মনোনয়নকেন্দ্রে শুধু ত্যাগ বা জনপ্রিয়তা নয়, সাংগঠনিক শক্তি ও প্রভাবও বিবেচনায় আসে।
কোন প্রার্থী কতটা ইউনিটে নিয়ন্ত্রণ রাখে
ওয়ার্ড পর্যায়ে কতজন সক্রিয় নেতা তাকে সমর্থন করছে
দলের অভ্যন্তরীণ কমিটি ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন
এসব সূচক নিশ্চিত করে যে মনোনয়ন নেওয়া প্রার্থী মাঠে কার্যকরভাবে দলের কাঠামো ব্যবহার করতে পারবেন কি না।
উপনির্বাচনকালীন সময়কার কার্যক্রম, এলাকায় দমন-পীড়ন ও স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও বিবেচনায় আসে। যারা সারাবছর মাঠে সক্রিয়—তাদের কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন বিতর্ক শুধু কাগজে প্রমাণিত জনপ্রিয়তা নয়, বরং মাঠে সক্রিয়তার সঙ্গে ইতিহাসের ভারসাম্য ধরে রাখতে হবে।
ঢাকা-১৮ মূলত রাজধানীর একটি কৌশলগত আসন। দলীয় সূত্র বলছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে। বিশ্লেষকরা মনে করেন:
কেন্দ্র যদি ত্যাগকে উপেক্ষা করে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে মানদণ্ড করলে সিনিয়র নেতাদের ক্ষোভ হতে পারে।
সাংগঠনিক শক্তি ও ইউনিট সমর্থনের ওপরও নজর রাখতে হবে।
অতএব, বিএনপির জন্য চূড়ান্ত সমীকরণ তৈরি করা জটিল—ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির সঠিক সমন্বয় করতে হবে।
ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিতর্ক স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে—কেবল কেন্দ্রীয় নেতা বা সিনিয়রিটি নয়, মাঠের সক্রিয়তা, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শক্তিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া দলীয় কাঠামোর সঙ্গে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইতিহাস এবং জনমতের ভারসাম্য পরীক্ষা করবে।
শেষ প্রশ্ন এখনও সক্রিয়:
কোন প্রার্থীই তিনটি মানদণ্ড—ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির সমন্বয়ে মনোনয়ন পাবেন, এবং কে ঢাকা-১৮ আসনে দলের আশা বাস্তবায়ন করবেন?

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫
এস.এম. নাহিদ :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিতর্ক তীব্র। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক প্রভাবের ভিত্তিতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আসনটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল—কেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি মাঠের সমর্থন নিশ্চিত না হলে দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিএনপির তৃণমূলের পুরনো নেতাদের দাবি—দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নেওয়া, কারাবরণ, দমন-পীড়ন সহ্য করা এবং সংগঠন ধরে রাখার ইতিহাস থাকা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “মাঠের ত্যাগকে উপেক্ষা করলে দলের ভিতরে হতাশা তৈরি হবে, যা পরবর্তী নির্বাচনী কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও লক্ষ্য থাকে—বৃদ্ধ সিনিয়রিটি কখনো কখনো নতুন প্রার্থীর ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করে। তাই ত্যাগের মূল্যায়ন কেবল ব্যক্তিগত ইতিহাস নয়, দলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত।
তরুণ ভোটার ও স্থানীয় জনমত মনোনয়নের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনী সফলতার জন্য প্রার্থীর জনপ্রিয়তা মাঠে কেমন, সেটিই বড় ফ্যাক্টর।
এক স্থানীয় ভোটার বলেছেন, “কাগজে পরিচয় বা কেন্দ্রীয় পরিচিতি নয়, মানুষ যদি মাঠে স্বতঃসিদ্ধভাবে তাকে গ্রহণ করে, তখনই মনোনয়ন ফলপ্রসূ হয়।”
বিভিন্ন ওয়ার্ডে সক্রিয় নেতা ও স্থানীয় কর্মীদের সমর্থন, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক, নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা—এসবই জনপ্রিয়তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
মনোনয়নকেন্দ্রে শুধু ত্যাগ বা জনপ্রিয়তা নয়, সাংগঠনিক শক্তি ও প্রভাবও বিবেচনায় আসে।
কোন প্রার্থী কতটা ইউনিটে নিয়ন্ত্রণ রাখে
ওয়ার্ড পর্যায়ে কতজন সক্রিয় নেতা তাকে সমর্থন করছে
দলের অভ্যন্তরীণ কমিটি ও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন
এসব সূচক নিশ্চিত করে যে মনোনয়ন নেওয়া প্রার্থী মাঠে কার্যকরভাবে দলের কাঠামো ব্যবহার করতে পারবেন কি না।
উপনির্বাচনকালীন সময়কার কার্যক্রম, এলাকায় দমন-পীড়ন ও স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও বিবেচনায় আসে। যারা সারাবছর মাঠে সক্রিয়—তাদের কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে থাকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা-১৮ আসনে মনোনয়ন বিতর্ক শুধু কাগজে প্রমাণিত জনপ্রিয়তা নয়, বরং মাঠে সক্রিয়তার সঙ্গে ইতিহাসের ভারসাম্য ধরে রাখতে হবে।
ঢাকা-১৮ মূলত রাজধানীর একটি কৌশলগত আসন। দলীয় সূত্র বলছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে। বিশ্লেষকরা মনে করেন:
কেন্দ্র যদি ত্যাগকে উপেক্ষা করে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে মানদণ্ড করলে সিনিয়র নেতাদের ক্ষোভ হতে পারে।
সাংগঠনিক শক্তি ও ইউনিট সমর্থনের ওপরও নজর রাখতে হবে।
অতএব, বিএনপির জন্য চূড়ান্ত সমীকরণ তৈরি করা জটিল—ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির সঠিক সমন্বয় করতে হবে।
ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন বিতর্ক স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে—কেবল কেন্দ্রীয় নেতা বা সিনিয়রিটি নয়, মাঠের সক্রিয়তা, জনগণের গ্রহণযোগ্যতা ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শক্তিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়া দলীয় কাঠামোর সঙ্গে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইতিহাস এবং জনমতের ভারসাম্য পরীক্ষা করবে।
শেষ প্রশ্ন এখনও সক্রিয়:
কোন প্রার্থীই তিনটি মানদণ্ড—ত্যাগ, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির সমন্বয়ে মনোনয়ন পাবেন, এবং কে ঢাকা-১৮ আসনে দলের আশা বাস্তবায়ন করবেন?

আপনার মতামত লিখুন