নজর বিডি

নতুন নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে

নতুন নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে

রাজনীতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন      নিজস্ব প্রতিবেদক  এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নতুন একটি নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এ জোটে বিএনপির সহযোগী গণঅধিকার পরিষদ যুক্ত হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েক দিনের মধ্যেই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সম্ভাব্য এ জোটে আপ বাংলাদেশকেও দেখা যেতে পারে—যা মূলত ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত এক সংগঠন। জোটের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, চারটি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে। কারণ দলটির একাংশ বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চায়। বিগত দুই বছর ধরে যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির পাশে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। দলটির দাবি, আসন্ন নির্বাচনে তারা বিএনপির কাছে কমপক্ষে চারটি আসন চেয়েছে। তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত দুটি আসন নিশ্চিত করেছে। পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে একই আসনে বিএনপির হাসান মামুনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। মনোনয়ন না পেলে তিনি স্বতন্ত্রভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে গণঅধিকারের নেতা রাশেদ খানকে ঝিনাইদহ-২ আসন ছাড়তে প্রস্তুত বিএনপি। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জটিলতা নেই বলে গণঅধিকার সূত্র জানিয়েছে। ফলে রাশেদ খান বিএনপির সঙ্গেই থাকার পক্ষে। এই অবস্থানই নতুন জোটে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।   আরও পড়ুন: কড়াইল বস্তির আগুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ তারেক রহমানের   রাশেদ খান জানান, এনসিপি ও গণঅধিকারের একীভূত হওয়ার উদ্যোগ আগেই ব্যর্থ হয়। এখন জোট গঠনের আলোচনা চললেও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। যৌথ নেতৃত্বের ভিত্তিতে সমঝোতার পথ খোঁজা হচ্ছে। [caption id="attachment_16665" align="aligncenter" width="300"] বিজ্ঞাপন[/caption] গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হাসান আল মামুন বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় বৃহৎ জোটের আলোচনা ইতিবাচকভাবে চলছে, তবে ঘোষণা দেওয়ার তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। এর আগে গত রোববার গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। আসন বণ্টন নিয়েই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনের ধারণা। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া জানান, বর্তমান অবস্থায় বিএনপি বা জামায়াতকেন্দ্রিক রাজনীতি নয়—নতুন কাঠামোর জোটই সময়ের দাবি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও জানিয়েছেন, চারটি দল নিশ্চিত রয়েছে এবং আরেকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দিন-তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। জোটের সম্ভাব্য শরিকদের বক্তব্য—এটি হবে নির্বাচনী জোট, আদর্শিক নয়। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিএনপি বা জামায়াত-সমর্থিত জোটের সঙ্গেও সমঝোতার সুযোগ খোলা থাকবে। তবে তফসিল ঘোষণার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন জোট গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেবে। [caption id="attachment_16664" align="aligncenter" width="300"] বিজ্ঞাপন[/caption] উল্লেখ্য, ২০২২ সালে গণঅধিকার পরিষদ, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গঠিত হয় গণতন্ত্র মঞ্চ—যা বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অংশ ছিল। পরে ২০২৩ সালের মে মাসে নুরুল হক নুরের গণঅধিকার পরিষদ মঞ্চ ছাড়ে। এদিকে বিএনপি এখন পর্যন্ত গণতন্ত্র মঞ্চের অন্তত তিন দলকে চার থেকে পাঁচটি আসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে বাকি দলগুলোকে নিয়ে এখনো সমাধান হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নতুন নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

রাজনীতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন      নিজস্ব প্রতিবেদক  এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নতুন একটি নির্বাচনী জোট গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। এ জোটে বিএনপির সহযোগী গণঅধিকার পরিষদ যুক্ত হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কয়েক দিনের মধ্যেই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সম্ভাব্য এ জোটে আপ বাংলাদেশকেও দেখা যেতে পারে—যা মূলত ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত এক সংগঠন। জোটের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, চারটি দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেও গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে। কারণ দলটির একাংশ বিএনপির সঙ্গেই থাকতে চায়। বিগত দুই বছর ধরে যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির পাশে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। দলটির দাবি, আসন্ন নির্বাচনে তারা বিএনপির কাছে কমপক্ষে চারটি আসন চেয়েছে। তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত দুটি আসন নিশ্চিত করেছে। পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে একই আসনে বিএনপির হাসান মামুনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান। মনোনয়ন না পেলে তিনি স্বতন্ত্রভাবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে গণঅধিকারের নেতা রাশেদ খানকে ঝিনাইদহ-২ আসন ছাড়তে প্রস্তুত বিএনপি। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জটিলতা নেই বলে গণঅধিকার সূত্র জানিয়েছে। ফলে রাশেদ খান বিএনপির সঙ্গেই থাকার পক্ষে। এই অবস্থানই নতুন জোটে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।   আরও পড়ুন: কড়াইল বস্তির আগুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ তারেক রহমানের   রাশেদ খান জানান, এনসিপি ও গণঅধিকারের একীভূত হওয়ার উদ্যোগ আগেই ব্যর্থ হয়। এখন জোট গঠনের আলোচনা চললেও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। যৌথ নেতৃত্বের ভিত্তিতে সমঝোতার পথ খোঁজা হচ্ছে। [caption id="attachment_16665" align="aligncenter" width="300"] বিজ্ঞাপন[/caption] গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হাসান আল মামুন বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় বৃহৎ জোটের আলোচনা ইতিবাচকভাবে চলছে, তবে ঘোষণা দেওয়ার তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। এর আগে গত রোববার গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। আসন বণ্টন নিয়েই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনের ধারণা। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া জানান, বর্তমান অবস্থায় বিএনপি বা জামায়াতকেন্দ্রিক রাজনীতি নয়—নতুন কাঠামোর জোটই সময়ের দাবি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুও জানিয়েছেন, চারটি দল নিশ্চিত রয়েছে এবং আরেকটি দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দিন-তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। জোটের সম্ভাব্য শরিকদের বক্তব্য—এটি হবে নির্বাচনী জোট, আদর্শিক নয়। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে বিএনপি বা জামায়াত-সমর্থিত জোটের সঙ্গেও সমঝোতার সুযোগ খোলা থাকবে। তবে তফসিল ঘোষণার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন জোট গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেবে। [caption id="attachment_16664" align="aligncenter" width="300"] বিজ্ঞাপন[/caption] উল্লেখ্য, ২০২২ সালে গণঅধিকার পরিষদ, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিয়ে গঠিত হয় গণতন্ত্র মঞ্চ—যা বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অংশ ছিল। পরে ২০২৩ সালের মে মাসে নুরুল হক নুরের গণঅধিকার পরিষদ মঞ্চ ছাড়ে। এদিকে বিএনপি এখন পর্যন্ত গণতন্ত্র মঞ্চের অন্তত তিন দলকে চার থেকে পাঁচটি আসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে বাকি দলগুলোকে নিয়ে এখনো সমাধান হয়নি।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত