উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে আলোচনায় এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ: কে এই ‘আওয়ামী প্রমোটার’?
উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ। স্থানীয়দের অভিযোগ—তার আক্রমণাত্মক আচরণ, কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব এবং বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাশ সেক্টরের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও স্থানীয় বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক কাঠামোয় তাকে কখনো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। বরং রাজনৈতিক পরিচয় ভাঙিয়ে বক্তব্য দেওয়া ও প্রভাব খাটানোর কারণে অনেক বাসিন্দাই প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
সেক্টর কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ২০ অক্টোবর ২০২৫ শেষ হওয়ার পর পলাশ হঠাৎ করে সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ নিজের দখলে নেন। এরপর নিজেকে সমিতির নির্বাহী পরিচালক পরিচয় দিয়ে নতুন ভিজিটিং কার্ড ছাপানোর অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, কল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিবর্তে সমিতির অফিস রাতে অচেনা ব্যক্তিদের বৈঠকের স্থানে পরিণত হয়, আর পলাশ ব্যক্তিগতভাবে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চালান।
সেক্টরের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ—পলাশ প্রশাসনিক ফায়দা নেওয়ার মাধ্যমে সমিতির ভবিষ্যৎ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কয়েকজনকে সামনে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনী প্রস্তুতির বদলে ‘উন্নয়নমূলক’ প্রকল্প দেখিয়ে নিজেই লাভবান হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত এক মাসে সমিতির দুটি বৈঠকে স্বৈরশাসনের সময় বিতর্কিত ভূমিকা রাখা কয়েকজন সাবেক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষ করে উত্তরা অঞ্চলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থাকা ডা. সাব্বিরের উপস্থিতি সেক্টরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলা তাকে ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অভিযানে আরও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি ডা. জুয়েল শিকদারকে গ্রেপ্তারে গেলে পলাশ বাধা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযান ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ তাদের পরিচিত নেতা বা কর্মী নন। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা এখন সাধারণ হয়ে গেছে, এবং পলাশ সম্ভবত সেই ধারারই একজন।
৬ নম্বর সেক্টরের অনেকেরই দাবি—কল্যাণ সমিতিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে আগের মতো সেক্টরবাসীর কল্যাণে কাজ করতে দিতে হবে। ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, ক্ষমতার প্রদর্শন ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫
উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে আলোচনায় এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ: কে এই ‘আওয়ামী প্রমোটার’?
উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ। স্থানীয়দের অভিযোগ—তার আক্রমণাত্মক আচরণ, কর্তৃত্বপরায়ণ মনোভাব এবং বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পলাশ সেক্টরের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও স্থানীয় বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক কাঠামোয় তাকে কখনো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি। বরং রাজনৈতিক পরিচয় ভাঙিয়ে বক্তব্য দেওয়া ও প্রভাব খাটানোর কারণে অনেক বাসিন্দাই প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
সেক্টর কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ২০ অক্টোবর ২০২৫ শেষ হওয়ার পর পলাশ হঠাৎ করে সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ নিজের দখলে নেন। এরপর নিজেকে সমিতির নির্বাহী পরিচালক পরিচয় দিয়ে নতুন ভিজিটিং কার্ড ছাপানোর অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, কল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিবর্তে সমিতির অফিস রাতে অচেনা ব্যক্তিদের বৈঠকের স্থানে পরিণত হয়, আর পলাশ ব্যক্তিগতভাবে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চালান।
সেক্টরের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ—পলাশ প্রশাসনিক ফায়দা নেওয়ার মাধ্যমে সমিতির ভবিষ্যৎ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কয়েকজনকে সামনে আনার চেষ্টা করছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনী প্রস্তুতির বদলে ‘উন্নয়নমূলক’ প্রকল্প দেখিয়ে নিজেই লাভবান হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত এক মাসে সমিতির দুটি বৈঠকে স্বৈরশাসনের সময় বিতর্কিত ভূমিকা রাখা কয়েকজন সাবেক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষ করে উত্তরা অঞ্চলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থাকা ডা. সাব্বিরের উপস্থিতি সেক্টরজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত মামলা তাকে ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অভিযানে আরও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি ডা. জুয়েল শিকদারকে গ্রেপ্তারে গেলে পলাশ বাধা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযান ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যক্তিগত প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশ তাদের পরিচিত নেতা বা কর্মী নন। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা এখন সাধারণ হয়ে গেছে, এবং পলাশ সম্ভবত সেই ধারারই একজন।
৬ নম্বর সেক্টরের অনেকেরই দাবি—কল্যাণ সমিতিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে আগের মতো সেক্টরবাসীর কল্যাণে কাজ করতে দিতে হবে। ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, ক্ষমতার প্রদর্শন ও ভয়ভীতি ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে এম আনোয়ারুল ইসলাম পলাশের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আপনার মতামত লিখুন