২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি
এটি কেবল একজন নেতার স্বদেশ ফেরা নয়; এটি দীর্ঘ দেড় দশকের দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতার দম্ভের পতনের এক জীবন্ত প্রতীক।
অতীতের স্মৃতি ও নির্বাসিত জীবন ২০০৭ সালের ১১ মার্চ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। মুক্তি পেলেও রাজনৈতিক বৈরিতায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এরপর শুরু হয় লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন। এই ১৮ বছরে তার বিরুদ্ধে মামলা, সাজা এবং রাজনৈতিক চরিত্র হননের কোনো চেষ্টাই বাকি রাখা হয়নি। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা বারবার তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন। জনসভায় দাঁড়িয়ে দম্ভের সাথে বলতেন— “ক্ষমতা থাকলে তারেক রহমান দেশে এসে রাজনীতি করুক।”

দম্ভের পতন ও ইতিহাসের শিক্ষা শেখ হাসিনার সেই বক্তব্য ছিল ক্ষমতার চরম অহংকার এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের হাতিয়ার বানানোর বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দম্ভ আর অহংকার কখনো চিরস্থায়ী হয় না। আল্লাহ তা’আলা জুলুম হয়তো সময় দেন, কিন্তু অহংকারীকে ছেড়ে দেন না। আজ যখন তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরছেন, তখন সেই দম্ভের শাসন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
জনগণের রাজনীতি বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকার ভোটবিহীন নির্বাচন, বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং বিরোধী দল দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু রাজনীতি কেবল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের খেলা নয়। জনগণের মন জয় করতে না পারলে ক্ষমতা যে কতটা ভঙ্গুর হয়, আজ তা দৃশ্যমান। যাকে একসময় ‘পলাতক’ বা ‘ভীত’ বলে প্রচার করা হয়েছিল, সেই নেতাই আজ ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা আর আবেগ নিয়ে দেশে ফিরছেন।
আজকের প্রশ্ন তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন অহংকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে সময়ের এক কঠিন প্রতিশোধ। আজ প্রশ্ন উঠছে—যিনি বারবার বলতেন “দেশে এসে দেখাও”, আজ তিনি কোথায়? রাজনৈতিকভাবে আজ তিনি বিচ্ছিন্ন এবং জনসমর্থন হারিয়ে ইতিহাস ও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে।
উপসংহার রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু জনগণের স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী। যারা দম্ভ নিয়ে ইতিহাসের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, শেষ পর্যন্ত তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। তারেক রহমানের ফেরা প্রমাণ করে, সত্যকে নির্বাসনে পাঠানো যায়, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, নজরবিডি
এটি কেবল একজন নেতার স্বদেশ ফেরা নয়; এটি দীর্ঘ দেড় দশকের দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ক্ষমতার দম্ভের পতনের এক জীবন্ত প্রতীক।
অতীতের স্মৃতি ও নির্বাসিত জীবন ২০০৭ সালের ১১ মার্চ সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। মুক্তি পেলেও রাজনৈতিক বৈরিতায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এরপর শুরু হয় লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন। এই ১৮ বছরে তার বিরুদ্ধে মামলা, সাজা এবং রাজনৈতিক চরিত্র হননের কোনো চেষ্টাই বাকি রাখা হয়নি। রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা বারবার তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করেছেন। জনসভায় দাঁড়িয়ে দম্ভের সাথে বলতেন— “ক্ষমতা থাকলে তারেক রহমান দেশে এসে রাজনীতি করুক।”

দম্ভের পতন ও ইতিহাসের শিক্ষা শেখ হাসিনার সেই বক্তব্য ছিল ক্ষমতার চরম অহংকার এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের হাতিয়ার বানানোর বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দম্ভ আর অহংকার কখনো চিরস্থায়ী হয় না। আল্লাহ তা’আলা জুলুম হয়তো সময় দেন, কিন্তু অহংকারীকে ছেড়ে দেন না। আজ যখন তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরছেন, তখন সেই দম্ভের শাসন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
জনগণের রাজনীতি বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগ সরকার ভোটবিহীন নির্বাচন, বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং বিরোধী দল দমনে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু রাজনীতি কেবল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের খেলা নয়। জনগণের মন জয় করতে না পারলে ক্ষমতা যে কতটা ভঙ্গুর হয়, আজ তা দৃশ্যমান। যাকে একসময় ‘পলাতক’ বা ‘ভীত’ বলে প্রচার করা হয়েছিল, সেই নেতাই আজ ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে জনগণের ব্যাপক প্রত্যাশা আর আবেগ নিয়ে দেশে ফিরছেন।
আজকের প্রশ্ন তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন অহংকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে সময়ের এক কঠিন প্রতিশোধ। আজ প্রশ্ন উঠছে—যিনি বারবার বলতেন “দেশে এসে দেখাও”, আজ তিনি কোথায়? রাজনৈতিকভাবে আজ তিনি বিচ্ছিন্ন এবং জনসমর্থন হারিয়ে ইতিহাস ও জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে।
উপসংহার রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু জনগণের স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী। যারা দম্ভ নিয়ে ইতিহাসের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, শেষ পর্যন্ত তারাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। তারেক রহমানের ফেরা প্রমাণ করে, সত্যকে নির্বাসনে পাঠানো যায়, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না।

আপনার মতামত লিখুন