বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়কের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে লাখ লাখ নেতা-কর্মী ও সমর্থকের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন। ভাষণে তিনি দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য হিন্দুসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁকে ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
রয়টার্স
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে—
‘নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’।
রয়টার্স জানায়, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে দলটি আশা করছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে লাখ লাখ সমর্থক দলীয় পতাকা হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে। তিনি ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন এবং ২০১৮ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
রয়টার্স জানায়, বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তারেক রহমান জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। সংবর্ধনাস্থলে যাওয়ার পথে তাঁকে বহনকারী বাসে চালকের আসনের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি হাসিমুখে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদনের জবাব দেন।
এএফপি
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি শিরোনাম করেছে—
‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে পৌঁছেছেন’।
এএফপি জানায়, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বিপুলসংখ্যক উচ্ছ্বসিত সমর্থকের সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত তারেক রহমান বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলের নেতাদের সঙ্গে হাত মেলান। এ সময় তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বিএনপির সমর্থকেরা রাজধানী ঢাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুনে সড়কগুলো ছেয়ে যায় এবং লাউডস্পিকারে দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয়। আল-জাজিরা কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার শিরোনাম— ‘বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন’। আল-জাজিরা জানায়, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী এবং দেশের প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার পর তিনি লন্ডনে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। আগামী ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তারেক রহমানের দেশে ফেরায় বিএনপিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস শিরোনাম করেছে— ‘১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন’। পত্রিকাটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় দুই দশক নির্বাসনে থাকার পর ঢাকায় ফিরেছেন। নির্বাচনী মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছিলেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন এবং তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্য হিন্দু ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দুর শিরোনাম— ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকায় অবতরণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এমন এক সময়ে তারেক রহমান দেশে ফিরলেন, যখন বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এতে সাম্প্রতিক সহিংস প্রতিবাদ ও তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়।
দ্য হিন্দু জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। এ সময় তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। 
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে রাজধানীর ৩০০ ফুট সড়কের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে লাখ লাখ নেতা-কর্মী ও সমর্থকের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন। ভাষণে তিনি দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও দ্য হিন্দুসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁকে ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
রয়টার্স
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম দিয়েছে—
‘নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’।
রয়টার্স জানায়, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে দলটি আশা করছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে লাখ লাখ সমর্থক দলীয় পতাকা হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে। তিনি ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন এবং ২০১৮ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
রয়টার্স জানায়, বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তারেক রহমান জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। সংবর্ধনাস্থলে যাওয়ার পথে তাঁকে বহনকারী বাসে চালকের আসনের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি হাসিমুখে হাত নেড়ে জনতার অভিবাদনের জবাব দেন।
এএফপি
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি শিরোনাম করেছে—
‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে পৌঁছেছেন’।
এএফপি জানায়, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বিপুলসংখ্যক উচ্ছ্বসিত সমর্থকের সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত তারেক রহমান বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলের নেতাদের সঙ্গে হাত মেলান। এ সময় তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বিএনপির সমর্থকেরা রাজধানী ঢাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুনে সড়কগুলো ছেয়ে যায় এবং লাউডস্পিকারে দেশাত্মবোধক গান বাজানো হয়। আল-জাজিরা কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার শিরোনাম— ‘বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন’। আল-জাজিরা জানায়, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একটি রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকারী এবং দেশের প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার পর তিনি লন্ডনে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিপীড়নের অভিযোগ ছিল। আগামী ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তারেক রহমানের দেশে ফেরায় বিএনপিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস শিরোনাম করেছে— ‘১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন’। পত্রিকাটি জানায়, প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন তারেক রহমান দীর্ঘ প্রায় দুই দশক নির্বাসনে থাকার পর ঢাকায় ফিরেছেন। নির্বাচনী মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছিলেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছিলেন। বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন এবং তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্য হিন্দু ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দুর শিরোনাম— ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকায় অবতরণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এমন এক সময়ে তারেক রহমান দেশে ফিরলেন, যখন বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এতে সাম্প্রতিক সহিংস প্রতিবাদ ও তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়।
দ্য হিন্দু জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। এ সময় তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। 
আপনার মতামত লিখুন