
ড. মোহাম্মদ নূরুল হক
পরিবেশবিদ ও শিক্ষক
ঢাকার পরিবেশ সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান রূপ হলো বায়ুদূষণ। ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ বায়ুদূষিত শহরগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে PM2.5 কণার অতিমাত্রা মানুষের ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটা, নির্মাণকাজের ধুলা ও শিল্পকারখানার নির্গমন—সব মিলিয়ে ঢাকার বাতাস আজ বিষাক্ত।

বায়ুদূষণের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের কর্মক্ষমতা কমাচ্ছে, স্বাস্থ্যব্যয় বাড়াচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে নগরের উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অথচ পরিবেশবান্ধব ইটভাটা, বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং শিল্পকারখানায় নির্গমন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে এই সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও ঢাকার পরিবেশ সংকটের একটি বড় কারণ। প্রতিদিন উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্যের বড় অংশই সঠিকভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার করা হয় না। ই-বর্জ্য নতুন করে যুক্ত হয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অথচ আধুনিক পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র, কমিউনিটি-ভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং জৈব বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে এই সমস্যা অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ঢাকাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। প্রতিবছর লাখো মানুষ বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে শহরের জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে এবং অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নগর তাপদ্বীপ প্রভাব ঢাকাকে বসবাসের জন্য আরও কঠিন করে তুলছে।
এই সংকট মোকাবিলায় কেবল সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ববোধ। ছাদে সবুজায়ন, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গ্রহণে নাগরিকদের সক্রিয় হতে হবে।
ঢাকার পরিবেশ সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি আমাদের পরিকল্পনার ঘাটতি ও উদাসীনতার প্রতিফলন। এখনই যদি সমন্বিত নীতি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে ঢাকা অদূর ভবিষ্যতে বসবাসের অযোগ্য নগরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই নগর গড়ার প্রশ্নে আজ সিদ্ধান্ত নেওয়াই আগামী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

ড. মোহাম্মদ নূরুল হক
পরিবেশবিদ ও শিক্ষক
ঢাকার পরিবেশ সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান রূপ হলো বায়ুদূষণ। ২০২৫ সালে ঢাকা বিশ্বের শীর্ষ বায়ুদূষিত শহরগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে PM2.5 কণার অতিমাত্রা মানুষের ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া, ইটভাটা, নির্মাণকাজের ধুলা ও শিল্পকারখানার নির্গমন—সব মিলিয়ে ঢাকার বাতাস আজ বিষাক্ত।

বায়ুদূষণের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের কর্মক্ষমতা কমাচ্ছে, স্বাস্থ্যব্যয় বাড়াচ্ছে এবং সামগ্রিকভাবে নগরের উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অথচ পরিবেশবান্ধব ইটভাটা, বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং শিল্পকারখানায় নির্গমন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে এই সংকট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও ঢাকার পরিবেশ সংকটের একটি বড় কারণ। প্রতিদিন উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্যের বড় অংশই সঠিকভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার করা হয় না। ই-বর্জ্য নতুন করে যুক্ত হয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অথচ আধুনিক পুনর্ব্যবহার কেন্দ্র, কমিউনিটি-ভিত্তিক বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং জৈব বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে এই সমস্যা অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ঢাকাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। প্রতিবছর লাখো মানুষ বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে শহরের জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে এবং অবকাঠামো ও পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নগর তাপদ্বীপ প্রভাব ঢাকাকে বসবাসের জন্য আরও কঠিন করে তুলছে।
এই সংকট মোকাবিলায় কেবল সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ববোধ। ছাদে সবুজায়ন, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গ্রহণে নাগরিকদের সক্রিয় হতে হবে।
ঢাকার পরিবেশ সংকট কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি আমাদের পরিকল্পনার ঘাটতি ও উদাসীনতার প্রতিফলন। এখনই যদি সমন্বিত নীতি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে ঢাকা অদূর ভবিষ্যতে বসবাসের অযোগ্য নগরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টেকসই নগর গড়ার প্রশ্নে আজ সিদ্ধান্ত নেওয়াই আগামী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

আপনার মতামত লিখুন