নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬

মনস্তাত্ত্বিক উপনিবেশ ও সাদা চামড়ার প্রটোকল: আত্মমর্যাদার সংকটে বাংলাদেশ?

মনস্তাত্ত্বিক উপনিবেশ ও সাদা চামড়ার প্রটোকল: আত্মমর্যাদার সংকটে বাংলাদেশ?

ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মনোজগতে আজও ‘উপনিবেশিক শাসনের শিকল’ রয়ে গেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।


সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একজন বিদেশি ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে রাষ্ট্রের তিনজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বৈঠককে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রটোকল এবং আত্মমর্যাদার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মনস্তাত্ত্বিক দৈন্য ও ‘ইনফিওরিটি কমপ্লেক্স’, ড. আসিফ মিজান তার বিশ্লেষণে ফ্রান্তজ ফানোর ‘ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস’ গ্রন্থের সূত্র ধরে বলেন, সাদা চামড়ার প্রতি এই অহেতুক ভক্তি মূলত ‘পোস্ট-কলোনিয়াল ইনফিওরিটি কমপ্লেক্স’ বা উপনিবেশিক হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ। একজন জুনিয়র বিদেশি কূটনীতিকের সামনে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের এই অবস্থানকে তিনি ‘মনস্তাত্ত্বিক দৈন্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

[caption id="attachment_26657" align="alignnone" width="300"] ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]

ভঙ্গ হচ্ছে কূটনৈতিক রাষ্ট্রাচার, ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন এবং দেশের ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ উল্লেখ করে তিনি জানান, একজন দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির কূটনীতিক যখন পূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে টেবিলে বসেন, তখন তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। যেখানে বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা একজন সচিবের সাক্ষাৎ পেতে হিমশিম খান, সেখানে বাংলাদেশে বিদেশি জুনিয়র কূটনীতিকদের মন্ত্রী পর্যায়ে সহজলভ্য ‘অ্যাক্সেস’ আমাদের দরকষাকষির সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

প্রটোকল লঙ্ঘনের প্রভাব ও উত্তরণ নিবন্ধে, এই ধরনের চর্চাকে ‘ইনস্টিটিউশনাল ডিভ্যালুয়েশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বহিঃবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এর ফলে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বিদেশি শক্তিগুলো যথাযথ প্রটোকল মানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না।

উত্তরণের পথ হিসেবে ড. মিজান ‘ডিকলোনাইজেশন অব মাইন্ড’ বা মানসিক বি-উপনিবেশায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাদা চামড়াকে ভাগ্যবিধাতা ভাবার মাদকতা থেকে বের হতে হবে। সমমর্যাদার নীতি (Principle of Reciprocity) কঠোরভাবে পালন করাই হবে সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


মনস্তাত্ত্বিক উপনিবেশ ও সাদা চামড়ার প্রটোকল: আত্মমর্যাদার সংকটে বাংলাদেশ?

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মনোজগতে আজও ‘উপনিবেশিক শাসনের শিকল’ রয়ে গেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।


সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একজন বিদেশি ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে রাষ্ট্রের তিনজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বৈঠককে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রটোকল এবং আত্মমর্যাদার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মনস্তাত্ত্বিক দৈন্য ও ‘ইনফিওরিটি কমপ্লেক্স’, ড. আসিফ মিজান তার বিশ্লেষণে ফ্রান্তজ ফানোর ‘ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস’ গ্রন্থের সূত্র ধরে বলেন, সাদা চামড়ার প্রতি এই অহেতুক ভক্তি মূলত ‘পোস্ট-কলোনিয়াল ইনফিওরিটি কমপ্লেক্স’ বা উপনিবেশিক হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ। একজন জুনিয়র বিদেশি কূটনীতিকের সামনে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের এই অবস্থানকে তিনি ‘মনস্তাত্ত্বিক দৈন্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

[caption id="attachment_26657" align="alignnone" width="300"] ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]

ভঙ্গ হচ্ছে কূটনৈতিক রাষ্ট্রাচার, ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন এবং দেশের ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ উল্লেখ করে তিনি জানান, একজন দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির কূটনীতিক যখন পূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে টেবিলে বসেন, তখন তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। যেখানে বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা একজন সচিবের সাক্ষাৎ পেতে হিমশিম খান, সেখানে বাংলাদেশে বিদেশি জুনিয়র কূটনীতিকদের মন্ত্রী পর্যায়ে সহজলভ্য ‘অ্যাক্সেস’ আমাদের দরকষাকষির সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

প্রটোকল লঙ্ঘনের প্রভাব ও উত্তরণ নিবন্ধে, এই ধরনের চর্চাকে ‘ইনস্টিটিউশনাল ডিভ্যালুয়েশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বহিঃবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এর ফলে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বিদেশি শক্তিগুলো যথাযথ প্রটোকল মানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না।

উত্তরণের পথ হিসেবে ড. মিজান ‘ডিকলোনাইজেশন অব মাইন্ড’ বা মানসিক বি-উপনিবেশায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাদা চামড়াকে ভাগ্যবিধাতা ভাবার মাদকতা থেকে বের হতে হবে। সমমর্যাদার নীতি (Principle of Reciprocity) কঠোরভাবে পালন করাই হবে সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত