দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। তবে ক্ষমতার এই মধুচন্দ্রিমার আড়ালে দলের মূল চালিকাশক্তি—তৃণমূল নেতাকর্মীরা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটে নিমজ্জিত।
সম্প্রতি এক নিবন্ধে এমন চাঞ্চল্যকর ও গঠনমূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. আসিফ মিজান তাঁর বিশ্লেষণে টেড রবার্ট গারের ‘আপেক্ষিক বঞ্চনাবোধ’ তত্ত্বের উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১৫ বছর যারা জেল-জুলুম ও পদ্ধতিগত নিপীড়নে নিঃস্ব হয়েছেন, আজ ক্ষমতার সুফল যখন ‘বসন্তের কোকিল’ বা সুবিধাভোগীদের হাতে পুঞ্জীভূত হতে দেখছেন, তখন সেই ক্ষোভ বিদ্রোহের দিকে মোড় নিতে পারে। ত্যাগী কর্মীদের ‘রাজনৈতিক পুঁজি’ আজ কিছু নেতার ‘আর্থিক পুঁজি’র কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে, যা দলে এক নতুন ‘রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্র’ তৈরি করছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে অনুপ্রবেশকারীদের দাপট এখনো বিদ্যমান।
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর এবং স্থানীয় দলীয় কাঠামোতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনকে রাজপথের কর্মীরা ‘আদর্শিক বেইমানি’ হিসেবে দেখছেন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ কোন্দলগুলো মূলত হাইব্রিডদের দখদারিত্বের বিরুদ্ধে তৃণমূলের এক অলিখিত যুদ্ধ।
টেকসই শাসন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয় সুসংহত করতে ড. আসিফ মিজান চারটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন: ১. কঠোর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান: বিতর্কিত ও চাঁদাবাজদের দমনে বিশেষ ‘ইনভেস্টিগেশন সেল’ গঠন। ২. আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র: পকেট কমিটি প্রথা ভেঙে স্বচ্ছ পারফরম্যান্স রিভিউয়ের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন। ৩. জাতীয় বীরদের পুনর্বাসন: গুম-খুন ও পঙ্গুত্ব বরণকারী পরিবারগুলোর জন্য ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ নিশ্চিত করা। ৪. জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি: ড্রয়িংরুম রাজনীতি ছেড়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলের সাথে সরাসরি যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম তৈরি।
লেখক সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যে দল দুর্দিনের কাণ্ডারিদের অবমূল্যায়ন করে, ক্ষমতার উত্তাপে তার ভিত্তি দ্রুত শিথিল হয়ে যায়। বিএনপির ক্ষমতার স্থায়িত্ব নির্ভর করবে তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থার ওপর। হাইব্রিডদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে মাঠের প্রকৃত যোদ্ধাদের মর্যাদা দেওয়াই হবে দীর্ঘমেয়াদী সুশাসনের চাবিকাঠি।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। তবে ক্ষমতার এই মধুচন্দ্রিমার আড়ালে দলের মূল চালিকাশক্তি—তৃণমূল নেতাকর্মীরা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটে নিমজ্জিত।
সম্প্রতি এক নিবন্ধে এমন চাঞ্চল্যকর ও গঠনমূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. আসিফ মিজান তাঁর বিশ্লেষণে টেড রবার্ট গারের ‘আপেক্ষিক বঞ্চনাবোধ’ তত্ত্বের উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১৫ বছর যারা জেল-জুলুম ও পদ্ধতিগত নিপীড়নে নিঃস্ব হয়েছেন, আজ ক্ষমতার সুফল যখন ‘বসন্তের কোকিল’ বা সুবিধাভোগীদের হাতে পুঞ্জীভূত হতে দেখছেন, তখন সেই ক্ষোভ বিদ্রোহের দিকে মোড় নিতে পারে। ত্যাগী কর্মীদের ‘রাজনৈতিক পুঁজি’ আজ কিছু নেতার ‘আর্থিক পুঁজি’র কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে, যা দলে এক নতুন ‘রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্র’ তৈরি করছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে অনুপ্রবেশকারীদের দাপট এখনো বিদ্যমান।
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর এবং স্থানীয় দলীয় কাঠামোতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনকে রাজপথের কর্মীরা ‘আদর্শিক বেইমানি’ হিসেবে দেখছেন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ কোন্দলগুলো মূলত হাইব্রিডদের দখদারিত্বের বিরুদ্ধে তৃণমূলের এক অলিখিত যুদ্ধ।
টেকসই শাসন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয় সুসংহত করতে ড. আসিফ মিজান চারটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন: ১. কঠোর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান: বিতর্কিত ও চাঁদাবাজদের দমনে বিশেষ ‘ইনভেস্টিগেশন সেল’ গঠন। ২. আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র: পকেট কমিটি প্রথা ভেঙে স্বচ্ছ পারফরম্যান্স রিভিউয়ের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন। ৩. জাতীয় বীরদের পুনর্বাসন: গুম-খুন ও পঙ্গুত্ব বরণকারী পরিবারগুলোর জন্য ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ নিশ্চিত করা। ৪. জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি: ড্রয়িংরুম রাজনীতি ছেড়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলের সাথে সরাসরি যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম তৈরি।
লেখক সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যে দল দুর্দিনের কাণ্ডারিদের অবমূল্যায়ন করে, ক্ষমতার উত্তাপে তার ভিত্তি দ্রুত শিথিল হয়ে যায়। বিএনপির ক্ষমতার স্থায়িত্ব নির্ভর করবে তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থার ওপর। হাইব্রিডদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে মাঠের প্রকৃত যোদ্ধাদের মর্যাদা দেওয়াই হবে দীর্ঘমেয়াদী সুশাসনের চাবিকাঠি।

আপনার মতামত লিখুন