নজরবিডি। মতামত
একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু নেতা-কর্মীর মধ্যে নেতাদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার প্রবণতা নতুন করে দেখা যাচ্ছে। এটি কেবল ব্যক্তিপূজার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি স্বৈরাচারী মানসিকতার জন্ম দেয়, যেখানে যোগ্যতার বদলে আনুগত্যই হয়ে ওঠে রাজনীতির প্রধান মানদণ্ড।
জাহিদ ইকবাল উল্লেখ করেন, বিগত দেড় দশকে ক্ষমতার কেন্দ্রকে তুষ্ট করার জন্য প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতারাও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এই সংস্কৃতিতে যুক্ত ছিলেন। এর ফলে নেতা ও কর্মীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে দাসত্বের এক অসুস্থ পরিবেশ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই ধরনের আচরণ উৎসাহিত হয়নি, যা তার রাজনৈতিক রুচি ও ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কিছু অতিউৎসাহী নেতা-কর্মীর আচরণে আবারও সেই পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ‘পায়ে সালাম’ সংস্কৃতিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে মত দেন তিনি। ইসলামে সালাম হলো দোয়া ও সম্মানের প্রকাশ; কিন্তু কাউকে সম্মান জানাতে গিয়ে মাথা নত করা বা পা স্পর্শ করা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নবী করিম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনাচরণে এমন নজির পাওয়া যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকের মতে, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হওয়া উচিত, ব্যক্তিপূজার নয়। নেতাদের উচিত স্পষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে এই ধরনের আচরণ বন্ধ করা এবং নেতা-কর্মীর সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, “একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সমাজ ও রাজনীতি থেকে ‘পায়ে ধরা’ সংস্কৃতি উপড়ে ফেলতে হবে। মানুষের মাথা নত হবে কেবল সৃষ্টিকর্তার সামনে—কোনো ব্যক্তির সামনে নয়।”

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬
নজরবিডি। মতামত
একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু নেতা-কর্মীর মধ্যে নেতাদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার প্রবণতা নতুন করে দেখা যাচ্ছে। এটি কেবল ব্যক্তিপূজার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি স্বৈরাচারী মানসিকতার জন্ম দেয়, যেখানে যোগ্যতার বদলে আনুগত্যই হয়ে ওঠে রাজনীতির প্রধান মানদণ্ড।
জাহিদ ইকবাল উল্লেখ করেন, বিগত দেড় দশকে ক্ষমতার কেন্দ্রকে তুষ্ট করার জন্য প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতারাও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এই সংস্কৃতিতে যুক্ত ছিলেন। এর ফলে নেতা ও কর্মীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে দাসত্বের এক অসুস্থ পরিবেশ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই ধরনের আচরণ উৎসাহিত হয়নি, যা তার রাজনৈতিক রুচি ও ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কিছু অতিউৎসাহী নেতা-কর্মীর আচরণে আবারও সেই পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ‘পায়ে সালাম’ সংস্কৃতিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে মত দেন তিনি। ইসলামে সালাম হলো দোয়া ও সম্মানের প্রকাশ; কিন্তু কাউকে সম্মান জানাতে গিয়ে মাথা নত করা বা পা স্পর্শ করা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নবী করিম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনাচরণে এমন নজির পাওয়া যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকের মতে, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হওয়া উচিত, ব্যক্তিপূজার নয়। নেতাদের উচিত স্পষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে এই ধরনের আচরণ বন্ধ করা এবং নেতা-কর্মীর সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, “একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সমাজ ও রাজনীতি থেকে ‘পায়ে ধরা’ সংস্কৃতি উপড়ে ফেলতে হবে। মানুষের মাথা নত হবে কেবল সৃষ্টিকর্তার সামনে—কোনো ব্যক্তির সামনে নয়।”

আপনার মতামত লিখুন