নজর বিডি

নির্বাচনের মাঠে সাংবাদিকরা যখন ‘কমিটি সদস্য’: ঢাকা-১৭–এ বিএনপির মিডিয়া কমিটি ঘিরে নিরপেক্ষতা বিতর্ক

নির্বাচনের মাঠে সাংবাদিকরা যখন ‘কমিটি সদস্য’: ঢাকা-১৭–এ বিএনপির মিডিয়া কমিটি ঘিরে নিরপেক্ষতা বিতর্ক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ আসনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা মেরুকরণ। তবে নির্বাচনী প্রচারণার চেয়েও বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে তারেক রহমানের ‘মিডিয়া কমিটি’, যেখানে ৫৯ জন পেশাদার সাংবাদিকের অন্তর্ভুক্তি সাংবাদিকতার ‘নিরপেক্ষতা’ ও ‘নৈতিকতা’ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করতে গঠিত এই মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার এবং সদস্য সচিব হিসেবে জাহিদুল ইসলাম রনী দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির মূল লক্ষ্য—তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার তথ্য গণমাধ্যমে সঠিক ও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে (যার প্রধান আব্দুস সালাম) মিডিয়া ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া।

কমিটিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় সব গণমাধ্যম—এনটিভি, ৭১ টিভি, সময় টিভি, চ্যানেল-২৪, বাসস, জনকণ্ঠ, সমকাল, মানবজমিনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। এই বিষয়টিকেই মিডিয়া বিশ্লেষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা ‘পেশাগত স্খলন’ হিসেবে দেখছেন।

সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান নীতি হলো সংবাদের উৎস ও রাজনৈতিক দল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা। কিন্তু সরাসরি কোনো প্রার্থীর নির্বাচন কমিটির অংশ হওয়া সেই দূরত্বকে বিলীন করে দেয়।

যখন একজন সাংবাদিক কোনো দলের প্রচার কৌশল নির্ধারণে অংশ নেন, তখন তার সংবাদ বা বিশ্লেষণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। এতে কেবল সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নন, তার প্রতিষ্ঠানও আস্থার সংকটে পড়ে।

গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় নতুন এক বিতর্ক ডানা মেলেছে। সভার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কমিটির এক সদস্য ‘তথ্য পাচার’ এবং ‘জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী কৌশলের গোপনীয়তা রক্ষা এবং রাজনৈতিক আদর্শের এই সংঘাত কমিটির ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে মিডিয়ার দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু সাংবাদিকরা যখন নিজেই কোনো রাজনৈতিক দলের ‘অর্গানাইজার’ বা ‘কমিটি মেম্বার’ হয়ে যান, তখন সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর পথ রুদ্ধ হয়।

ঢাকা-১৭ আসনের এই মিডিয়া কমিটি কেবল একটি আসনের নির্বাচনী বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে এক কঠিন কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দিনশেষে জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—সাংবাদিক কি তবে জনগণের মুখ না হয়ে কোনো বিশেষ দলের মুখপাত্রে পরিণত হচ্ছেন?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নির্বাচনের মাঠে সাংবাদিকরা যখন ‘কমিটি সদস্য’: ঢাকা-১৭–এ বিএনপির মিডিয়া কমিটি ঘিরে নিরপেক্ষতা বিতর্ক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর অভিজাত ও কূটনৈতিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ আসনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা মেরুকরণ। তবে নির্বাচনী প্রচারণার চেয়েও বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে তারেক রহমানের ‘মিডিয়া কমিটি’, যেখানে ৫৯ জন পেশাদার সাংবাদিকের অন্তর্ভুক্তি সাংবাদিকতার ‘নিরপেক্ষতা’ ও ‘নৈতিকতা’ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করতে গঠিত এই মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে প্রবীণ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার এবং সদস্য সচিব হিসেবে জাহিদুল ইসলাম রনী দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির মূল লক্ষ্য—তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণার তথ্য গণমাধ্যমে সঠিক ও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে (যার প্রধান আব্দুস সালাম) মিডিয়া ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়া।

কমিটিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় সব গণমাধ্যম—এনটিভি, ৭১ টিভি, সময় টিভি, চ্যানেল-২৪, বাসস, জনকণ্ঠ, সমকাল, মানবজমিনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। এই বিষয়টিকেই মিডিয়া বিশ্লেষক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা ‘পেশাগত স্খলন’ হিসেবে দেখছেন।

সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান নীতি হলো সংবাদের উৎস ও রাজনৈতিক দল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা। কিন্তু সরাসরি কোনো প্রার্থীর নির্বাচন কমিটির অংশ হওয়া সেই দূরত্বকে বিলীন করে দেয়।

যখন একজন সাংবাদিক কোনো দলের প্রচার কৌশল নির্ধারণে অংশ নেন, তখন তার সংবাদ বা বিশ্লেষণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারায়। এতে কেবল সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নন, তার প্রতিষ্ঠানও আস্থার সংকটে পড়ে।

গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় নতুন এক বিতর্ক ডানা মেলেছে। সভার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, কমিটির এক সদস্য ‘তথ্য পাচার’ এবং ‘জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী কৌশলের গোপনীয়তা রক্ষা এবং রাজনৈতিক আদর্শের এই সংঘাত কমিটির ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করেছে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে মিডিয়ার দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কিন্তু সাংবাদিকরা যখন নিজেই কোনো রাজনৈতিক দলের ‘অর্গানাইজার’ বা ‘কমিটি মেম্বার’ হয়ে যান, তখন সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর পথ রুদ্ধ হয়।

ঢাকা-১৭ আসনের এই মিডিয়া কমিটি কেবল একটি আসনের নির্বাচনী বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে এক কঠিন কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দিনশেষে জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—সাংবাদিক কি তবে জনগণের মুখ না হয়ে কোনো বিশেষ দলের মুখপাত্রে পরিণত হচ্ছেন?


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত