নজর বিডি

‘মা তোমাদের আর কষ্ট দেবো না, আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো’

‘মা তোমাদের আর কষ্ট দেবো না, আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো’

"মা তোমাদের আর কষ্ট দেবো না, আমার মেয়েটাকে তোমরা দেখে রেখো"—মাকে বলা এই শেষ আকুতির কিছুক্ষণ পরেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আট তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন নাজমীন (২০) নামের এক তরুণী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলার বাথরুমের পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়ে তিনি নিচে লাফিয়ে পড়েন।

নিহত নাজমীন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ার মেয়ে। তাঁর মা পারভিন বেগম জানান, মাত্র দুই মাস আগে নাজমীনের কিডনি রোগ ধরা পড়ে। গত রোববার চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

নাজমীনের স্বামী রায়হানের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। অসুস্থতার যন্ত্রণা এবং পরিবারের ওপর আর্থিক চাপের বোঝা সইতে না পেরেই নাজমীন এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পারভিন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আজ সন্ধ্যার দিকে সে আমাকে বলে—মা তোমাদের আর কষ্ট দেবো না, তোমরা আমার মেয়েটিকে দেখে রেখো। এর কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সে আট তলার ফাঁকা জায়গা দিয়ে লাফ দেয়। নিচে পার্ক করা একটি প্রাইভেট কারের ওপর গিয়ে পড়ে আমার মেয়েটা ঘটনাস্থলেই শেষ হয়ে গেল।"

তিনি আরও বলেন, "আমার মেয়ে অনেক কষ্ট নিয়ে মারা গেছে। আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলে হয়তো তাকে আরও চিকিৎসা করানো যেত। কিন্তু সে যে এমন কিছু করবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।"

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় নাজমীনকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


‘মা তোমাদের আর কষ্ট দেবো না, আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো’

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

"মা তোমাদের আর কষ্ট দেবো না, আমার মেয়েটাকে তোমরা দেখে রেখো"—মাকে বলা এই শেষ আকুতির কিছুক্ষণ পরেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আট তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন নাজমীন (২০) নামের এক তরুণী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলার বাথরুমের পাশের ফাঁকা জায়গা দিয়ে তিনি নিচে লাফিয়ে পড়েন।

নিহত নাজমীন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার জালাল মিয়ার মেয়ে। তাঁর মা পারভিন বেগম জানান, মাত্র দুই মাস আগে নাজমীনের কিডনি রোগ ধরা পড়ে। গত রোববার চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

নাজমীনের স্বামী রায়হানের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। অসুস্থতার যন্ত্রণা এবং পরিবারের ওপর আর্থিক চাপের বোঝা সইতে না পেরেই নাজমীন এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পারভিন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আজ সন্ধ্যার দিকে সে আমাকে বলে—মা তোমাদের আর কষ্ট দেবো না, তোমরা আমার মেয়েটিকে দেখে রেখো। এর কিছুক্ষণ পরেই বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সে আট তলার ফাঁকা জায়গা দিয়ে লাফ দেয়। নিচে পার্ক করা একটি প্রাইভেট কারের ওপর গিয়ে পড়ে আমার মেয়েটা ঘটনাস্থলেই শেষ হয়ে গেল।"

তিনি আরও বলেন, "আমার মেয়ে অনেক কষ্ট নিয়ে মারা গেছে। আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলে হয়তো তাকে আরও চিকিৎসা করানো যেত। কিন্তু সে যে এমন কিছু করবে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।"

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় নাজমীনকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য শাহবাগ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত