নজর বিডি

নিকুঞ্জে জলাশয় দখল: প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি

নিকুঞ্জে জলাশয় দখল: প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি
পানি নিষ্কাশনের প্রধান আধার হিসেবে ব্যবহৃত এই জলাশয়টি ওয়াসার স্থাপিত স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে অতিবৃষ্টির পানি সরিয়ে নেয়। বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা রাজধানীর অন্যতম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা নিকুঞ্জ-১ (দক্ষিণ) সংলগ্ন প্রাকৃতিক জলাশয় প্রকাশ্যে ভরাট করে মহামান্য হাইকোর্টের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে মারাত্মক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালের রিট পিটিশন নং ৯৪৫-এর মাধ্যমে জলাশয় ভরাটে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও একাধিক প্রভাবশালী ভূমি মালিক প্রকাশ্যেই মাটি ফেলে জলাশয়ের বড় একটি অংশ দখল করে নিচ্ছেন। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। [caption id="attachment_21605" align="alignnone" width="300"] ছবি: নজরবিডি.কম[/caption] নিকুঞ্জ-১ ও জামতলা এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান আধার হিসেবে ব্যবহৃত এই জলাশয়টি ওয়াসার স্থাপিত স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে অতিবৃষ্টির পানি সরিয়ে নেয়। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, জলাশয়টি ভরাট হলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে সরকার সদ্য জারি করা ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এ জলাশয় ভরাট ও অপরিকল্পিত নির্মাণকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। নতুন আইনে প্রথমবার অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো রাজউক কর্মকর্তা জেনেশুনে অবৈধ নির্মাণে সহায়তা করলে বা নীরব থাকলেও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, নিকুঞ্জ-১ সংলগ্ন জলাশয় দখলের ঘটনা নতুন অধ্যাদেশের কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে রাজধানীর পরিকল্পিত নগরব্যবস্থা ও পরিবেশ সুরক্ষা চরম হুমকির মুখে পড়বে। এলাকাবাসীর দাবি, আদালতের আদেশ ও নতুন আইনের আলোকে অবিলম্বে জলাশয় ভরাট বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নিকুঞ্জে জলাশয় দখল: প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
পানি নিষ্কাশনের প্রধান আধার হিসেবে ব্যবহৃত এই জলাশয়টি ওয়াসার স্থাপিত স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে অতিবৃষ্টির পানি সরিয়ে নেয়। বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা রাজধানীর অন্যতম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা নিকুঞ্জ-১ (দক্ষিণ) সংলগ্ন প্রাকৃতিক জলাশয় প্রকাশ্যে ভরাট করে মহামান্য হাইকোর্টের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং বর্ষা মৌসুমে মারাত্মক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১১ সালের রিট পিটিশন নং ৯৪৫-এর মাধ্যমে জলাশয় ভরাটে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা সত্ত্বেও একাধিক প্রভাবশালী ভূমি মালিক প্রকাশ্যেই মাটি ফেলে জলাশয়ের বড় একটি অংশ দখল করে নিচ্ছেন। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। [caption id="attachment_21605" align="alignnone" width="300"] ছবি: নজরবিডি.কম[/caption] নিকুঞ্জ-১ ও জামতলা এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান আধার হিসেবে ব্যবহৃত এই জলাশয়টি ওয়াসার স্থাপিত স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে অতিবৃষ্টির পানি সরিয়ে নেয়। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, জলাশয়টি ভরাট হলে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে সরকার সদ্য জারি করা ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এ জলাশয় ভরাট ও অপরিকল্পিত নির্মাণকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। নতুন আইনে প্রথমবার অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো রাজউক কর্মকর্তা জেনেশুনে অবৈধ নির্মাণে সহায়তা করলে বা নীরব থাকলেও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, নিকুঞ্জ-১ সংলগ্ন জলাশয় দখলের ঘটনা নতুন অধ্যাদেশের কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে রাজধানীর পরিকল্পিত নগরব্যবস্থা ও পরিবেশ সুরক্ষা চরম হুমকির মুখে পড়বে। এলাকাবাসীর দাবি, আদালতের আদেশ ও নতুন আইনের আলোকে অবিলম্বে জলাশয় ভরাট বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত