ঢাকা, ১০ মার্চ ২০২৬:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শুধু জুলাই জাতীয় সনদ নয়, নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত যেসব বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া হয়েছে, সেসব বিষয় বাস্তবায়নেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি শব্দ ও অক্ষর আমরা ধারণ করি। জাতির কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনকি নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া অন্যান্য বিষয়ও বাস্তবায়ন করা হবে।”
মঙ্গলবার ঢাকায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির মহাসচিব ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সরকার শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং সরকার এতে স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, যারা এখন সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই নির্বাচনের পর সুবিধা বুঝে সনদে স্বাক্ষর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি প্রস্তাব যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি নির্দিষ্ট দফায় আপত্তি জানিয়ে নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তাহলে তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।
মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন কারণে চারটি রাজনৈতিক দল প্রথমে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে পারেনি। পরে তাদের মধ্য থেকে কয়েকটি দল এতে স্বাক্ষর করেছে। তবে যারা সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছে, তারা নির্বাচনের পর শর্ত জুড়ে দিয়ে এতে স্বাক্ষর করেছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সংবিধান মেনেই কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সংবিধান অনুযায়ী চলবে। গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন, আলোচনা ও আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং পরে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, “আজ যাদের জোরপূর্বক শপথ পড়ানো হয়েছে, তা সংবিধানসম্মত হয়েছে কি না—তা দেখার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। কারণ বিচারকরা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। তবে কোনটি গৃহীত হবে, কোনটি সংশোধিত হবে বা কোনটি বাতিল হবে—সেটি সংসদের এখতিয়ার।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। এমপিরা ব্যক্তিগতভাবে সার্বভৌম নন, তবে তারা সার্বভৌমত্বের প্রতীকী প্রতিনিধি। তাদের ভোট সাংবিধানিক ভোট, যা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
ঢাকা, ১০ মার্চ ২০২৬:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শুধু জুলাই জাতীয় সনদ নয়, নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখিত যেসব বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া হয়েছে, সেসব বিষয় বাস্তবায়নেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি শব্দ ও অক্ষর আমরা ধারণ করি। জাতির কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমনকি নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া অন্যান্য বিষয়ও বাস্তবায়ন করা হবে।”
মঙ্গলবার ঢাকায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির মহাসচিব ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সরকার শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং সরকার এতে স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, যারা এখন সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই নির্বাচনের পর সুবিধা বুঝে সনদে স্বাক্ষর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি প্রস্তাব যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি নির্দিষ্ট দফায় আপত্তি জানিয়ে নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তাহলে তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারবে।
মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন কারণে চারটি রাজনৈতিক দল প্রথমে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে পারেনি। পরে তাদের মধ্য থেকে কয়েকটি দল এতে স্বাক্ষর করেছে। তবে যারা সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করেছে, তারা নির্বাচনের পর শর্ত জুড়ে দিয়ে এতে স্বাক্ষর করেছে।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সংবিধান মেনেই কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সংবিধান অনুযায়ী চলবে। গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন, আলোচনা ও আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং পরে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, “আজ যাদের জোরপূর্বক শপথ পড়ানো হয়েছে, তা সংবিধানসম্মত হয়েছে কি না—তা দেখার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। কারণ বিচারকরা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এসব অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। তবে কোনটি গৃহীত হবে, কোনটি সংশোধিত হবে বা কোনটি বাতিল হবে—সেটি সংসদের এখতিয়ার।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান। এমপিরা ব্যক্তিগতভাবে সার্বভৌম নন, তবে তারা সার্বভৌমত্বের প্রতীকী প্রতিনিধি। তাদের ভোট সাংবিধানিক ভোট, যা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আপনার মতামত লিখুন