বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি, বরং সংবিধানের আমূল পরিবর্তন ও সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী অবসান চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, "জামায়াত সংবিধানবিরোধী নয়। তবে সংবিধানের যে ধারা ও বিষয়গুলো বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, আমরা সেগুলোর পরিবর্তন চাই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর কাউকে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে দেব না; আমরা ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই।"
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানকে জাতির 'কলিজার অংশ' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "আমরা জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন—কোনোটাকেই অস্বীকার করি না। আমরা এমন একটি নতুন বাংলাদেশ চাই যেখানে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষ পর্যন্ত কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। ক্ষমতার গরম দেখিয়ে অপরাধ করে পার পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।"
জামায়াতের ওপর 'মব কালচার' সৃষ্টির দায় চাপানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "যে দলের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে 'জুডিশিয়াল কিলিং'-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে এবং হাজারো কর্মীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে, তাদের ওপর এমন অপবাদ দেওয়া সংসদের জন্য লজ্জাজনক। ফ্যাসিস্ট আমলে এই দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, এমনকি জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করতে দলটিকে নিষিদ্ধও করা হয়েছিল।"
তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন বাংলাদেশ মানে ভৌগোলিক সীমারেখা বা পতাকা বদলানো নয়, বরং আইনি ও সাংবিধানিক সেই ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করা যা স্বৈরতন্ত্রকে উসকে দেয়। তিনি বলেন, "গত ৫৪ বছরে সংবিধানের যে জায়গাগুলো দফায় দফায় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, আমরা সেগুলোর সংস্কার চাই। আমরা চাই নাগরিক হিসেবে সবাই সাম্যের ভিত্তিতে ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করবে।"
কোনো বিতর্ক ছাড়াই গণভোট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকেই দেশে ফ্যাসিজমের জন্ম হয়েছিল। সেই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনোই সংবিধান ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি, বরং সংবিধানের আমূল পরিবর্তন ও সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের চিরস্থায়ী অবসান চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, "জামায়াত সংবিধানবিরোধী নয়। তবে সংবিধানের যে ধারা ও বিষয়গুলো বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, আমরা সেগুলোর পরিবর্তন চাই। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর কাউকে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনতে দেব না; আমরা ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে চাই।"
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জুলাই অভ্যুত্থানকে জাতির 'কলিজার অংশ' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, "আমরা জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন—কোনোটাকেই অস্বীকার করি না। আমরা এমন একটি নতুন বাংলাদেশ চাই যেখানে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে প্রান্তিক মানুষ পর্যন্ত কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। ক্ষমতার গরম দেখিয়ে অপরাধ করে পার পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।"
জামায়াতের ওপর 'মব কালচার' সৃষ্টির দায় চাপানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "যে দলের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে 'জুডিশিয়াল কিলিং'-এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে এবং হাজারো কর্মীকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে, তাদের ওপর এমন অপবাদ দেওয়া সংসদের জন্য লজ্জাজনক। ফ্যাসিস্ট আমলে এই দলটির নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, এমনকি জুলাই বিপ্লবকে ব্যর্থ করতে দলটিকে নিষিদ্ধও করা হয়েছিল।"
তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন বাংলাদেশ মানে ভৌগোলিক সীমারেখা বা পতাকা বদলানো নয়, বরং আইনি ও সাংবিধানিক সেই ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করা যা স্বৈরতন্ত্রকে উসকে দেয়। তিনি বলেন, "গত ৫৪ বছরে সংবিধানের যে জায়গাগুলো দফায় দফায় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, আমরা সেগুলোর সংস্কার চাই। আমরা চাই নাগরিক হিসেবে সবাই সাম্যের ভিত্তিতে ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করবে।"
কোনো বিতর্ক ছাড়াই গণভোট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকেই দেশে ফ্যাসিজমের জন্ম হয়েছিল। সেই ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।

আপনার মতামত লিখুন