অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে নারী সাংবাদিককে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উত্তরা জোনের এক ইমারত পরিদর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে নারী সাংবাদিককে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে অবশেষে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উত্তরা জোনের ইমারত পরিদর্শক অর্পি রুবেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করে। আজ (১৩ এপ্রিল) তাকে আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার জোয়ার সাহারা মৌজায় অনুমোদিত নকশা অমান্য করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজউক দফায় দফায় নোটিশ দিলেও ভবন মালিক কোনো তোয়াক্কা করেননি। অভিযোগ ওঠে, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভবন মালিকের অনৈতিক লেনদেনের কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
[caption id="attachment_25304" align="alignnone" width="206"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
এই অনিয়ম নিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে “১০ লাখ টাকা মৌখিক চুক্তি” শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরদিনই তড়িঘড়ি করে সংশ্লিষ্ট ভবনের বিরুদ্ধে তাগিদপত্র জারি করে রাজউক, যা তাদের পূর্ববর্তী নিষ্ক্রিয়তাকে জনসমক্ষে আনে।
প্রতিবেদনের ফলোআপ করতে ২৩ অক্টোবর সকালে সাংবাদিক মেরিনা রেমি তার দুই সহকর্মীকে নিয়ে রাজউকের উত্তরা জোনাল কার্যালয়ে যান। সেখানে ইমারত পরিদর্শক অর্পি রুবেল তাদের পথরোধ করেন এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি বহিরাগতদের ডেকে এনে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে মেরিনা রেমিকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ মামলা দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠলেও পুনঃতদন্তে ঘটনার সত্যতা পায় পুলিশ। এর ভিত্তিতে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মেরিনা রেমি বলে "পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি লাঞ্ছিত হয়েছি। রাজউক চেয়ারম্যানকে জানিয়েও প্রতিকার পাইনি, উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি এই ক্ষমতার অপব্যবহারের সুষ্ঠু বিচার চাই।"
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা এই গ্রেফতারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এমন আঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জোরালো হচ্ছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে নারী সাংবাদিককে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উত্তরা জোনের এক ইমারত পরিদর্শককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে নারী সাংবাদিককে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে অবশেষে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর উত্তরা জোনের ইমারত পরিদর্শক অর্পি রুবেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করে। আজ (১৩ এপ্রিল) তাকে আদালতে সোপর্দ করার কথা রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার জোয়ার সাহারা মৌজায় অনুমোদিত নকশা অমান্য করে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত রাজউক দফায় দফায় নোটিশ দিলেও ভবন মালিক কোনো তোয়াক্কা করেননি। অভিযোগ ওঠে, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভবন মালিকের অনৈতিক লেনদেনের কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
[caption id="attachment_25304" align="alignnone" width="206"]
ছবি: নজরবিডি.কম[/caption]
এই অনিয়ম নিয়ে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে “১০ লাখ টাকা মৌখিক চুক্তি” শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরদিনই তড়িঘড়ি করে সংশ্লিষ্ট ভবনের বিরুদ্ধে তাগিদপত্র জারি করে রাজউক, যা তাদের পূর্ববর্তী নিষ্ক্রিয়তাকে জনসমক্ষে আনে।
প্রতিবেদনের ফলোআপ করতে ২৩ অক্টোবর সকালে সাংবাদিক মেরিনা রেমি তার দুই সহকর্মীকে নিয়ে রাজউকের উত্তরা জোনাল কার্যালয়ে যান। সেখানে ইমারত পরিদর্শক অর্পি রুবেল তাদের পথরোধ করেন এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি বহিরাগতদের ডেকে এনে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। অভিযোগ অনুযায়ী, সহকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে মেরিনা রেমিকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এ মামলা দায়ের করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ উঠলেও পুনঃতদন্তে ঘটনার সত্যতা পায় পুলিশ। এর ভিত্তিতে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মেরিনা রেমি বলে "পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমি লাঞ্ছিত হয়েছি। রাজউক চেয়ারম্যানকে জানিয়েও প্রতিকার পাইনি, উল্টো হয়রানির শিকার হয়েছি। আমি এই ক্ষমতার অপব্যবহারের সুষ্ঠু বিচার চাই।"
সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা এই গ্রেফতারকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এমন আঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জোরালো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন