পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে স্বর্ণের দোকানিরা কেউ দোকান খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে ব্যস্ত, কেউবা পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ফুল দিয়ে দোকান সাজিয়ে ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সরকারি হিসেবে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ হলেও পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারের স্বর্ণের দোকানগুলোতে উৎসবের সেই চেনা আমেজ আজ কিছুটা ম্লান।
এলাকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার নতুন বছর বরণ ও হালখাতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার সকালে তাঁতীবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং ফুল দিয়ে সাজানোর কাজ করছেন। তবে মূল উৎসবের জৌলুস আজ খুব একটা চোখে পড়েনি। ব্যবসায়ীরা জানান, ধর্মীয় আচার ও ঐতিহ্য মেনে তারা পঞ্জিকাকেই প্রাধান্য দেন, যার ফলে তাদের বৈশাখ উদযাপন শুরু হবে বুধবার থেকে।
কেবি স্বর্ণের দোকানের ৪৫ বছরের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী অমর ঘোষ তার ছেলেকে নিয়ে দোকান সাজাতে সাজাতে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বিশ বছর আগেও বৈশাখের যে উদ্দীপনা ছিল, তা যেন আজ হারিয়ে যাচ্ছে। পহেলা বৈশাখ কোনো ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাঙালির প্রাণের উৎসব। কিন্তু একটি গোষ্ঠী একে ধর্মীয় বেড়াজালে আবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমাদের সবার কর্তব্য এই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা।"
উৎসব আগামীকাল হলেও সরকারি ছুটির দিন বিবেচনায় অনেক দোকান আজই ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অমিত জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. হেলাল জানান, ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করতে আজ থেকেই তারা রাইস বল, চাবির রিং, ইলেকট্রিক কেটলি ও টিফিন বাটির মতো উপহার সামগ্রী দিচ্ছেন।
৫৫ বছর ধরে ব্যবসায় জড়িত ঋত্বিকা জুয়েলার্সের রবি ঘোষ বলেন, যুগ বদলালেও নতুন প্রজন্ম যেভাবে বৈশাখকে বরণ করে নিচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক। তবে আদি উৎসবের মূল চেতনা যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে মতিঝিল থেকে আসা ক্রেতা কৃপা দাস জানান, ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি আজ এসেছেন পুরোনো লেনদেন মিটিয়ে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করতে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে স্বর্ণের দোকানিরা কেউ দোকান খুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে ব্যস্ত, কেউবা পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ফুল দিয়ে দোকান সাজিয়ে ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সরকারি হিসেবে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ হলেও পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার ও শাঁখারীবাজারের স্বর্ণের দোকানগুলোতে উৎসবের সেই চেনা আমেজ আজ কিছুটা ম্লান।
এলাকার অধিকাংশ ব্যবসায়ী পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার নতুন বছর বরণ ও হালখাতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মঙ্গলবার সকালে তাঁতীবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং ফুল দিয়ে সাজানোর কাজ করছেন। তবে মূল উৎসবের জৌলুস আজ খুব একটা চোখে পড়েনি। ব্যবসায়ীরা জানান, ধর্মীয় আচার ও ঐতিহ্য মেনে তারা পঞ্জিকাকেই প্রাধান্য দেন, যার ফলে তাদের বৈশাখ উদযাপন শুরু হবে বুধবার থেকে।
কেবি স্বর্ণের দোকানের ৪৫ বছরের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী অমর ঘোষ তার ছেলেকে নিয়ে দোকান সাজাতে সাজাতে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বিশ বছর আগেও বৈশাখের যে উদ্দীপনা ছিল, তা যেন আজ হারিয়ে যাচ্ছে। পহেলা বৈশাখ কোনো ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাঙালির প্রাণের উৎসব। কিন্তু একটি গোষ্ঠী একে ধর্মীয় বেড়াজালে আবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমাদের সবার কর্তব্য এই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা।"
উৎসব আগামীকাল হলেও সরকারি ছুটির দিন বিবেচনায় অনেক দোকান আজই ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অমিত জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. হেলাল জানান, ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করতে আজ থেকেই তারা রাইস বল, চাবির রিং, ইলেকট্রিক কেটলি ও টিফিন বাটির মতো উপহার সামগ্রী দিচ্ছেন।
৫৫ বছর ধরে ব্যবসায় জড়িত ঋত্বিকা জুয়েলার্সের রবি ঘোষ বলেন, যুগ বদলালেও নতুন প্রজন্ম যেভাবে বৈশাখকে বরণ করে নিচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক। তবে আদি উৎসবের মূল চেতনা যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে মতিঝিল থেকে আসা ক্রেতা কৃপা দাস জানান, ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি আজ এসেছেন পুরোনো লেনদেন মিটিয়ে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করতে।

আপনার মতামত লিখুন