বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের জনগণ চায় গুম প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের সব ফাঁকফোকর বন্ধ করে একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা হোক।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তাঁর চালকের সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, "দেশ একটি দুঃসময় অতিক্রম করে সুসময়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই সুসময় শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং পুরো জাতির জন্য নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এখনও বিদ্যমান থাকলেও, বর্তমানে গ্রেপ্তার, গুম বা ক্রসফায়ারের ভয় কমেছে, যা সুসময়ের প্রাথমিক লক্ষণ।"
গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এতে অনেক ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সরকার যাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অদৃশ্য করার সুযোগ না পায়, সে জন্য সংসদে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী আইন পাসের দাবি জানান তিনি।
সুশাসনের শর্ত উল্লেখ করে রিজভী বলেন, "প্রকৃত সুসময় তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ অন্যায়ের শিকার হলে আদালতে ন্যায়বিচার পাবে। ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করাই সুসময়ের অন্যতম পূর্বশর্ত।"
গুম হওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এখনও অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী নিখোঁজ। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনও সমাজে রয়েছেন। তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সত্য বের করে আনতে হবে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। জনগণ জানতে চায়—কীভাবে, কোথায় এবং কেন এসব গুম হয়েছে।"
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করলেও তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ বা কার্ড বিতরণের মতো উদ্যোগগুলো ইতিবাচক, তবে শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। বিশেষ করে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকট নিরসন এবং সম্পদের ওপর কোনো গোষ্ঠী যাতে নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।"
বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের জনগণ চায় গুম প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের সব ফাঁকফোকর বন্ধ করে একটি শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা হোক।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী ও তাঁর চালকের সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, "দেশ একটি দুঃসময় অতিক্রম করে সুসময়ের দিকে এগোচ্ছে। তবে এই সুসময় শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং পুরো জাতির জন্য নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এখনও বিদ্যমান থাকলেও, বর্তমানে গ্রেপ্তার, গুম বা ক্রসফায়ারের ভয় কমেছে, যা সুসময়ের প্রাথমিক লক্ষণ।"
গুমসংক্রান্ত অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এতে অনেক ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো সরকার যাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অদৃশ্য করার সুযোগ না পায়, সে জন্য সংসদে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী আইন পাসের দাবি জানান তিনি।
সুশাসনের শর্ত উল্লেখ করে রিজভী বলেন, "প্রকৃত সুসময় তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন আইনের শাসন নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষ অন্যায়ের শিকার হলে আদালতে ন্যায়বিচার পাবে। ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করাই সুসময়ের অন্যতম পূর্বশর্ত।"
গুম হওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এখনও অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী নিখোঁজ। যারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনও সমাজে রয়েছেন। তাদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সত্য বের করে আনতে হবে এবং জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। জনগণ জানতে চায়—কীভাবে, কোথায় এবং কেন এসব গুম হয়েছে।"
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করলেও তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, "কৃষি ঋণের সুদ মওকুফ বা কার্ড বিতরণের মতো উদ্যোগগুলো ইতিবাচক, তবে শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বাস্তব কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। বিশেষ করে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকট নিরসন এবং সম্পদের ওপর কোনো গোষ্ঠী যাতে নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।"
বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত লিখুন