নজর বিডি

আন্দোলনের নামে অস্থিরতা: জনদুর্ভোগ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি

আন্দোলনের নামে অস্থিরতা: জনদুর্ভোগ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ—সবখানেই এক অস্থির চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফেসবুক ও ইউটিউব খুললেই দেখা যায় নানা ছোট-বড় ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক।


আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা যেন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তবে গভীর পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, এসব আন্দোলনের লক্ষ্য জনকল্যাণ নয়, বরং অনেকের ব্যক্তিগত আখের গোছানোর হাতিয়ার।

গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার থাকলেও বাংলাদেশে রাস্তা অবরোধ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এর ফলে তীব্র যানজটে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার পথ রুদ্ধ হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কর্মঘণ্টা। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত মানুষ, যারা দিন এনে দিন খায়, রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।

অভিযোগ উঠেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে এই আন্দোলনগুলো নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ এবং অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আবেগ ও কষ্টকে পুঁজি করে নিজেদের পকেট ভারী করার এবং সস্তা নেতৃত্বে আসার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, রাজপথ কাঁপানো অনেক নেতাই পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে সমঝোতা করেছেন, অথচ সাধারণ কর্মীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তুচ্ছ ইস্যুতে অরাজকতা সৃষ্টি করা হলে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সরকারকে স্বাভাবিক গতিতে কাজ করতে না দেওয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করে মূলত একটি স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দেশকে অস্থিরতার হাত থেকে রক্ষা করতে সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। আন্দোলনের নামে কারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে এবং এর পেছনে কার কী স্বার্থ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। দেশ ও দশের কল্যাণই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত আখের গোছানো নয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


আন্দোলনের নামে অস্থিরতা: জনদুর্ভোগ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের রাজনীতি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ—সবখানেই এক অস্থির চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফেসবুক ও ইউটিউব খুললেই দেখা যায় নানা ছোট-বড় ইস্যুতে আন্দোলনের ডাক।


আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা যেন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তবে গভীর পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, এসব আন্দোলনের লক্ষ্য জনকল্যাণ নয়, বরং অনেকের ব্যক্তিগত আখের গোছানোর হাতিয়ার।

গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার থাকলেও বাংলাদেশে রাস্তা অবরোধ এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এর ফলে তীব্র যানজটে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার পথ রুদ্ধ হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার কর্মঘণ্টা। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত মানুষ, যারা দিন এনে দিন খায়, রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।

অভিযোগ উঠেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে এই আন্দোলনগুলো নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ এবং অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের আবেগ ও কষ্টকে পুঁজি করে নিজেদের পকেট ভারী করার এবং সস্তা নেতৃত্বে আসার এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ইতিহাসে দেখা গেছে, রাজপথ কাঁপানো অনেক নেতাই পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে সমঝোতা করেছেন, অথচ সাধারণ কর্মীদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তখন তুচ্ছ ইস্যুতে অরাজকতা সৃষ্টি করা হলে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সরকারকে স্বাভাবিক গতিতে কাজ করতে না দেওয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করে মূলত একটি স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

দেশকে অস্থিরতার হাত থেকে রক্ষা করতে সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। আন্দোলনের নামে কারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে এবং এর পেছনে কার কী স্বার্থ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। দেশ ও দশের কল্যাণই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল লক্ষ্য, ব্যক্তিগত আখের গোছানো নয়।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত