প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও রাজধানীর মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে গুলশান ও ভাটারা এলাকায় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে জমজমাট জুয়া ও মাদকের কারবার। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলো দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ১১১/১ কাজী বাড়ী হোল্ডিং এলাকায় অবস্থিত ‘রফিকের বোর্ড’ বর্তমানে জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের প্রধান আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে এই স্পটে। জনশ্রুতি রয়েছে, এই বোর্ডটি নিয়ন্ত্রণ করে একটি প্রভাবশালী চক্র, যাদের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় কিছু রাঘববোয়াল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই স্পটগুলো থেকে নিয়মিত মোটা অংকের 'মাসোহারা' প্রদান করা হয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। ফলে অভিযানের খবর আগেই পৌঁছে যায় চক্রের কাছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, "পুলিশের চোখের সামনেই সব হচ্ছে, কিন্তু তারা দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।"
তদন্তে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে ছোটখাটো মাদক বিক্রেতা বা জুয়াড়ি মাঝেমধ্যে আটক হলেও নেপথ্যে থাকা গডফাদাররা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। রাজধানীর উপকণ্ঠে এই সিন্ডিকেটগুলো এতটাই শক্তিশালী যে, স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো নিয়ে পুলিশের এই রহস্যজনক নীরবতাকে 'পরোক্ষ প্রশ্রয়' হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
| নির্দিষ্ট এলাকা | মূল অভিযোগ | বর্তমান অবস্থা |
| কুড়িল বিশ্বরোড (১১১/১) | রফিকের জুয়ার বোর্ড | দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সচল |
| ভাটারা এলাকা | মাদক বাণিজ্য ও অর্থপাচার | প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা |
| গুলশান মাঠপর্যায় | জিরো টলারেন্সের অভাব | বাস্তবায়নহীনতা |
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিন্ডিকেট কেবল সমাজকেই ধ্বংস করছে না, বরং এর ফলে ছিনতাই ও খুনের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি— যুব সমাজকে বাঁচাতে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে দ্রুত সমন্বিত ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হোক।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও রাজধানীর মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে গুলশান ও ভাটারা এলাকায় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে জমজমাট জুয়া ও মাদকের কারবার। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারিকে উপেক্ষা করে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটগুলো দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড সংলগ্ন ১১১/১ কাজী বাড়ী হোল্ডিং এলাকায় অবস্থিত ‘রফিকের বোর্ড’ বর্তমানে জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের প্রধান আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে এই স্পটে। জনশ্রুতি রয়েছে, এই বোর্ডটি নিয়ন্ত্রণ করে একটি প্রভাবশালী চক্র, যাদের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় কিছু রাঘববোয়াল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই স্পটগুলো থেকে নিয়মিত মোটা অংকের 'মাসোহারা' প্রদান করা হয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে। ফলে অভিযানের খবর আগেই পৌঁছে যায় চক্রের কাছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, "পুলিশের চোখের সামনেই সব হচ্ছে, কিন্তু তারা দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।"
তদন্তে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে ছোটখাটো মাদক বিক্রেতা বা জুয়াড়ি মাঝেমধ্যে আটক হলেও নেপথ্যে থাকা গডফাদাররা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। রাজধানীর উপকণ্ঠে এই সিন্ডিকেটগুলো এতটাই শক্তিশালী যে, স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো নিয়ে পুলিশের এই রহস্যজনক নীরবতাকে 'পরোক্ষ প্রশ্রয়' হিসেবে দেখছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।
| নির্দিষ্ট এলাকা | মূল অভিযোগ | বর্তমান অবস্থা |
| কুড়িল বিশ্বরোড (১১১/১) | রফিকের জুয়ার বোর্ড | দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সচল |
| ভাটারা এলাকা | মাদক বাণিজ্য ও অর্থপাচার | প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা |
| গুলশান মাঠপর্যায় | জিরো টলারেন্সের অভাব | বাস্তবায়নহীনতা |
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিন্ডিকেট কেবল সমাজকেই ধ্বংস করছে না, বরং এর ফলে ছিনতাই ও খুনের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি— যুব সমাজকে বাঁচাতে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে দ্রুত সমন্বিত ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন