পুরান ঢাকার রাজপথের এক সময়ের পরিচিত মুখ, বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা ইসহাক সরকারের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের বিষয়টি এখন ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘টক অফ দ্য টাউন’।
দীর্ঘদিন বিএনপির ‘লড়াকু সৈনিক’ হিসেবে পরিচিত এই নেতার হঠাৎ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন বিস্ময় জাগিয়েছে, তেমনি তুলে দিয়েছে একগুচ্ছ প্রশ্ন।
ইসহাক সরকার ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির মাধ্যমে পুরান ঢাকার অলিতে-গলিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। বিএনপির কঠিন সময়ে রাজপথে মিছিলে তার সরব উপস্থিতি তাকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তবে তার এনসিপিতে যোগদানের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দলের ভেতর যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়া অথবা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইসহাক সরকারের এই দলবদল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক সুরই বেশি প্রবল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে অনেকে মনে করছেন, জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজের আখের গোছাতেই এই দলবদল। তাদের দাবি, জনগণের জন্য কাজ করতে হলে বড় কোনো প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয় না।
সমালোচকদের প্রশ্ন, বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ দল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে থেকে যা করা সম্ভব হয়নি, তা নতুন বা অপেক্ষাকৃত ছোট একটি দলে গিয়ে কতটা সম্ভব হবে? দলবদলের এই সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষ ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’র অংশ হিসেবেই দেখছেন।
এনসিপিতে যোগ দিয়েই ইসহাক সরকার পুনরায় রাজপথে নামার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে খুব একটা সহজভাবে নিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পুরান ঢাকার মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরনের ঘোষণা নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে। তবে জনসমর্থন ছাড়া কেবল দল পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজপথ ‘কাঁপানো’ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
রাজপথের এই ‘লড়াকু সৈনিক’ তার নতুন পরিচয়ে কতটুকু সফল হবেন, নাকি রাজনৈতিক মহলে কেবল ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
পুরান ঢাকার রাজপথের এক সময়ের পরিচিত মুখ, বিএনপির সাবেক ছাত্রনেতা ইসহাক সরকারের ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের বিষয়টি এখন ঢাকার রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘টক অফ দ্য টাউন’।
দীর্ঘদিন বিএনপির ‘লড়াকু সৈনিক’ হিসেবে পরিচিত এই নেতার হঠাৎ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন বিস্ময় জাগিয়েছে, তেমনি তুলে দিয়েছে একগুচ্ছ প্রশ্ন।
ইসহাক সরকার ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির মাধ্যমে পুরান ঢাকার অলিতে-গলিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। বিএনপির কঠিন সময়ে রাজপথে মিছিলে তার সরব উপস্থিতি তাকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তবে তার এনসিপিতে যোগদানের খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দলের ভেতর যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়া অথবা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইসহাক সরকারের এই দলবদল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক সুরই বেশি প্রবল। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে অনেকে মনে করছেন, জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজের আখের গোছাতেই এই দলবদল। তাদের দাবি, জনগণের জন্য কাজ করতে হলে বড় কোনো প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন হয় না।
সমালোচকদের প্রশ্ন, বিএনপি দেশের অন্যতম বৃহৎ দল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে থেকে যা করা সম্ভব হয়নি, তা নতুন বা অপেক্ষাকৃত ছোট একটি দলে গিয়ে কতটা সম্ভব হবে? দলবদলের এই সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষ ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’র অংশ হিসেবেই দেখছেন।
এনসিপিতে যোগ দিয়েই ইসহাক সরকার পুনরায় রাজপথে নামার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে খুব একটা সহজভাবে নিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পুরান ঢাকার মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরনের ঘোষণা নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে। তবে জনসমর্থন ছাড়া কেবল দল পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজপথ ‘কাঁপানো’ কতটা সম্ভব, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
রাজপথের এই ‘লড়াকু সৈনিক’ তার নতুন পরিচয়ে কতটুকু সফল হবেন, নাকি রাজনৈতিক মহলে কেবল ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন