নজর বিডি

‘ভবিষ্যতে যেন মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি না হয়’

‘ভবিষ্যতে যেন মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি না হয়’

বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি না হয়।


ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যেন কোনো ঠিকাদারকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া না হয়। একইসঙ্গে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি এবং অর্থ পাচার বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি।

রোববার (৩ মে) দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট’ বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, "ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে একটি লুটের রাজ্যে পরিণত করেছিল। বিগত ১৬ বছরে আমরা দেখেছি, মেগা প্রকল্পের নামে মেগা ডাকাতি হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোও দীর্ঘমেয়াদে দেশের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

ঋণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের ঋণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগের পতনের সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় গুণ বেশি। এই ঋণ পরিশোধ করতে আগামী ৪০ বছর সময় লাগবে এবং প্রতিটি নবজাতকের মাথায় প্রায় দেড় লাখ টাকার ঋণের বোঝা চেপেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা দিয়ে ৩৫-৪০টি পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব ছিল।

সারজিস আলম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, একটি মার্কিন ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, এই প্রকল্পে একটি সিন্ডিকেট প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া আদানির সাথে চুক্তিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার ‘ফি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে এই নেতা বলেন, "সালমান এফ রহমান প্রায় ৭টি ব্যাংক থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন। আমরা দেখেছি একজন পিয়নের কাছে ৪০০ কোটি টাকা এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি ছিল। এভাবেই পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে লুটপাট চালানো হয়েছে।"

জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "যখন আমরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হই, তখন লুটপাটকারীরা তা উপভোগ করে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"

বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আন্ডারটেবিল নেগোসিয়েশনই আজকের বড় সমস্যা। রাজস্ব কম হওয়ায় সরকারকে বারবার ঋণ নিতে হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও আমলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পলিসি মেকারদের। জনগণ এখন সচেতন, যেকোনো অপচেষ্টা তারা রাজপথ ও সংসদে প্রতিহত করবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


‘ভবিষ্যতে যেন মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি না হয়’

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি না হয়।


ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যেন কোনো ঠিকাদারকে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া না হয়। একইসঙ্গে ঋণখেলাপি সংস্কৃতি এবং অর্থ পাচার বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি।

রোববার (৩ মে) দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট’ বিষয়ক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, "ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে একটি লুটের রাজ্যে পরিণত করেছিল। বিগত ১৬ বছরে আমরা দেখেছি, মেগা প্রকল্পের নামে মেগা ডাকাতি হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোও দীর্ঘমেয়াদে দেশের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

ঋণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের ঋণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। আওয়ামী লীগের পতনের সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় গুণ বেশি। এই ঋণ পরিশোধ করতে আগামী ৪০ বছর সময় লাগবে এবং প্রতিটি নবজাতকের মাথায় প্রায় দেড় লাখ টাকার ঋণের বোঝা চেপেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, যা দিয়ে ৩৫-৪০টি পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব ছিল।

সারজিস আলম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ করে বলেন, একটি মার্কিন ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, এই প্রকল্পে একটি সিন্ডিকেট প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এছাড়া আদানির সাথে চুক্তিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার ‘ফি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে এই নেতা বলেন, "সালমান এফ রহমান প্রায় ৭টি ব্যাংক থেকে ৩৬ হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন। আমরা দেখেছি একজন পিয়নের কাছে ৪০০ কোটি টাকা এবং সাবেক ভূমিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি ছিল। এভাবেই পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে লুটপাট চালানো হয়েছে।"

জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "যখন আমরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হই, তখন লুটপাটকারীরা তা উপভোগ করে। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"

বর্তমান সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, আন্ডারটেবিল নেগোসিয়েশনই আজকের বড় সমস্যা। রাজস্ব কম হওয়ায় সরকারকে বারবার ঋণ নিতে হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও আমলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পলিসি মেকারদের। জনগণ এখন সচেতন, যেকোনো অপচেষ্টা তারা রাজপথ ও সংসদে প্রতিহত করবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত