দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওপেন-এন্ড বা বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচার প্রক্রিয়া সহজ করতে আলাদা ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমেই সরাসরি অনলাইনে এই ফান্ডের ইউনিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।
বর্তমানে বেমেয়াদি ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচার জন্য বিনিয়োগকারীদের সরাসরি সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির (এএমসি) দপ্তরে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং প্রক্রিয়াগতভাবে জটিল।
নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে কম্পিউটার বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই ইউনিট কেনাবেচা করা যাবে। বর্তমানে লেনদেন সম্পন্ন হতে ৩-৪ দিন সময় লাগলেও নতুন ব্যবস্থায় মাত্র ১ কার্যদিবসের মধ্যে বিও (BO) হিসাবে ইউনিট বা টাকা জমা হয়ে যাবে। সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে না গিয়েই ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে ইউনিট ক্রিয়েশন (তৈরি) ও রিডিম্পশন (অবসায়ন) করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পুঁজিবাজারের অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ডিএসই গত বছরের আগস্টে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে এই আবেদন জানায়। সম্প্রতি বিএসইসি এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই প্ল্যাটফর্মটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান বলেন, "বেমেয়াদি ফান্ডগুলো যদি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়, তবে লেনদেনের জটিলতা কমবে এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা সবসময় প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি (NAV) অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাবেন, যা এই ফান্ডের বড় সুবিধা।"
বিএসইসির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ১০৪টি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে, যাদের সম্মিলিত সম্পদমূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী নতুন করে মেয়াদি ফান্ডের অনুমোদন বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে বেমেয়াদি ফান্ডের সংখ্যা ও গুরুত্ব আরও বাড়বে।
নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি ডিএসইর বিকল্প লেনদেন বোর্ড (এটিবি), সিডিবিএল এবং কাস্টডিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যা পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মে ২০২৬
দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওপেন-এন্ড বা বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচার প্রক্রিয়া সহজ করতে আলাদা ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমেই সরাসরি অনলাইনে এই ফান্ডের ইউনিট ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন।
বর্তমানে বেমেয়াদি ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচার জন্য বিনিয়োগকারীদের সরাসরি সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির (এএমসি) দপ্তরে যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং প্রক্রিয়াগতভাবে জটিল।
নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু হলে কম্পিউটার বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই ইউনিট কেনাবেচা করা যাবে। বর্তমানে লেনদেন সম্পন্ন হতে ৩-৪ দিন সময় লাগলেও নতুন ব্যবস্থায় মাত্র ১ কার্যদিবসের মধ্যে বিও (BO) হিসাবে ইউনিট বা টাকা জমা হয়ে যাবে। সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে না গিয়েই ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে ইউনিট ক্রিয়েশন (তৈরি) ও রিডিম্পশন (অবসায়ন) করা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পুঁজিবাজারের অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ডিএসই গত বছরের আগস্টে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে এই আবেদন জানায়। সম্প্রতি বিএসইসি এই প্ল্যাটফর্ম তৈরির অনুমোদন দিয়েছে। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই প্ল্যাটফর্মটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান বলেন, "বেমেয়াদি ফান্ডগুলো যদি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়, তবে লেনদেনের জটিলতা কমবে এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা সবসময় প্রকৃত সম্পদমূল্য বা এনএভি (NAV) অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাবেন, যা এই ফান্ডের বড় সুবিধা।"
বিএসইসির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ১০৪টি বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড রয়েছে, যাদের সম্মিলিত সম্পদমূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী নতুন করে মেয়াদি ফান্ডের অনুমোদন বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে বেমেয়াদি ফান্ডের সংখ্যা ও গুরুত্ব আরও বাড়বে।
নতুন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি ডিএসইর বিকল্প লেনদেন বোর্ড (এটিবি), সিডিবিএল এবং কাস্টডিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যা পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন