অধিকাংশ মা-বাবাই বর্তমানে চিন্তিত কারণ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিনে কাটানো সময়ের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা—প্রযুক্তি দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রযুক্তি অনেক সুবিধা দিলেও, অভিভাবকদের জানতে হবে কখন স্ক্রিনের ব্যবহার স্বাস্থ্যকর এবং কখন এটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
চাইল্ড অনলাইন প্রোটেকশন (COP) প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপের মনোবিজ্ঞানী সিন্ধু ইউ ওয়াধওয়ার মতে, স্ক্রিন টাইম নিয়ে আলোচনায় ঘণ্টার হিসাব রাখার চেয়ে স্ক্রিন কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তা শিশুর দৈনন্দিন জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, তা বোঝার ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু দেখা, সৃজনশীল কার্যকলাপে অংশ নেওয়া, নতুন দক্ষতা শেখা বা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা—এগুলো পজিটিভ বা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হতে পারে। উদ্বেগের কারণ তখনই দেখা দেয় যখন স্ক্রিনের ব্যবহার ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ, সামাজিক মেলামেশা এবং শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোকে ব্যাহত করতে শুরু করে।
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ক্রমাগত ছোট আকারের ও দ্রুতগতির কন্টেন্টের সংস্পর্শে থাকায় শিশুদের ধৈর্য কমে যায়। ফলে একটানা মনোযোগের প্রয়োজন হয় এমন কাজ যেমন—পড়াশোনা বা স্কুলের কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে তাদের মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুর মানসিক ও আবেগিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়া হলে বা স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সীমিত করা হলে শিশুদের মধ্যে বিরক্তি, হতাশা বা মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করার ক্ষতিকর প্রবণতা তৈরি করে।
অনেক শিশু গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রিন ব্যবহার করে, যার ফলে স্ক্রিনের নীল আলোর প্রভাবে মস্তিষ্কের পক্ষে সহজে বিশ্রাম নেওয়া বা ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই অপর্যাপ্ত ঘুম শিশুর মেজাজ, কর্মশক্তি, মনোযোগ এবং সামগ্রিক মানসিক সুস্থতায় বড় ব্যাঘাত ঘটায়।
ডিজিটাল জগৎ যতই সংযুক্ত হোক না কেন, তা মুখোমুখি কথোপকথন, বাইরে খেলাধুলা এবং পারিবারিক কার্যকলাপের বিকল্প হতে পারে না। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুরা যোগাযোগ দক্ষতা, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
ডিভাইস দূরে সরিয়ে রাখতে চরম অসুবিধা বা অস্বীকৃতি জানানো। বাস্তব জগতের শখ বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া।
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা বা অনিদ্রা দেখা দেওয়া। স্কুলের পড়ালেখা ও ফলাফলের অবনতি ঘটা।
সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বা বিচ্ছিন্নতা। হঠাৎ করে অতিরিক্ত খিটখিটে বা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া।
স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস তৈরি করার জন্য স্ক্রিন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। পরিবারগুলো খাবারের সময় এবং ঘুমানোর আগে ‘স্ক্রিন-মুক্ত’ সময় বা জোন নির্ধারণ করতে পারে। পাশাপাশি বাইরে খেলাধুলা, পারিবারিক আড্ডা ও নতুন শখ তৈরিতে উৎসাহিত করা উচিত।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাবা-মায়েরা সন্তানদের মধ্যে যে ভারসাম্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত অভ্যাস দেখতে চান, প্রথমে নিজেদের আচরণে তার একটি আদর্শ উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
অধিকাংশ মা-বাবাই বর্তমানে চিন্তিত কারণ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিনে কাটানো সময়ের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করা বা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা—প্রযুক্তি দৈনন্দিন জীবনের বড় অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রযুক্তি অনেক সুবিধা দিলেও, অভিভাবকদের জানতে হবে কখন স্ক্রিনের ব্যবহার স্বাস্থ্যকর এবং কখন এটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
চাইল্ড অনলাইন প্রোটেকশন (COP) প্যারেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপের মনোবিজ্ঞানী সিন্ধু ইউ ওয়াধওয়ার মতে, স্ক্রিন টাইম নিয়ে আলোচনায় ঘণ্টার হিসাব রাখার চেয়ে স্ক্রিন কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তা শিশুর দৈনন্দিন জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, তা বোঝার ওপর বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।
শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু দেখা, সৃজনশীল কার্যকলাপে অংশ নেওয়া, নতুন দক্ষতা শেখা বা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা—এগুলো পজিটিভ বা ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হতে পারে। উদ্বেগের কারণ তখনই দেখা দেয় যখন স্ক্রিনের ব্যবহার ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ, সামাজিক মেলামেশা এবং শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোকে ব্যাহত করতে শুরু করে।
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ক্রমাগত ছোট আকারের ও দ্রুতগতির কন্টেন্টের সংস্পর্শে থাকায় শিশুদের ধৈর্য কমে যায়। ফলে একটানা মনোযোগের প্রয়োজন হয় এমন কাজ যেমন—পড়াশোনা বা স্কুলের কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে তাদের মনোনিবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুর মানসিক ও আবেগিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়া হলে বা স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সীমিত করা হলে শিশুদের মধ্যে বিরক্তি, হতাশা বা মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করার ক্ষতিকর প্রবণতা তৈরি করে।
অনেক শিশু গভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রিন ব্যবহার করে, যার ফলে স্ক্রিনের নীল আলোর প্রভাবে মস্তিষ্কের পক্ষে সহজে বিশ্রাম নেওয়া বা ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই অপর্যাপ্ত ঘুম শিশুর মেজাজ, কর্মশক্তি, মনোযোগ এবং সামগ্রিক মানসিক সুস্থতায় বড় ব্যাঘাত ঘটায়।
ডিজিটাল জগৎ যতই সংযুক্ত হোক না কেন, তা মুখোমুখি কথোপকথন, বাইরে খেলাধুলা এবং পারিবারিক কার্যকলাপের বিকল্প হতে পারে না। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুরা যোগাযোগ দক্ষতা, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস এবং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
ডিভাইস দূরে সরিয়ে রাখতে চরম অসুবিধা বা অস্বীকৃতি জানানো। বাস্তব জগতের শখ বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া।
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা বা অনিদ্রা দেখা দেওয়া। স্কুলের পড়ালেখা ও ফলাফলের অবনতি ঘটা।
সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া বা বিচ্ছিন্নতা। হঠাৎ করে অতিরিক্ত খিটখিটে বা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়া।
স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল অভ্যাস তৈরি করার জন্য স্ক্রিন পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। পরিবারগুলো খাবারের সময় এবং ঘুমানোর আগে ‘স্ক্রিন-মুক্ত’ সময় বা জোন নির্ধারণ করতে পারে। পাশাপাশি বাইরে খেলাধুলা, পারিবারিক আড্ডা ও নতুন শখ তৈরিতে উৎসাহিত করা উচিত।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, বাবা-মায়েরা সন্তানদের মধ্যে যে ভারসাম্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত অভ্যাস দেখতে চান, প্রথমে নিজেদের আচরণে তার একটি আদর্শ উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন