রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী ফারাহ দীবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত প্রধান আসামি গাড়িচালক মো. সবুজ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ কুষ্টিয়া জেলা সদর থানাধীন কোর্ট স্টেশনের সামনে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার কাজী আব্দুল মতিন-এর স্ত্রী ফারাহ দীবাকে তাঁর নিজস্ব ফ্ল্যাটে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পরদিনই (২৮ অক্টোবর ২০২৪) বাসার সিকিউরিটি গার্ড মো. মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
তদন্ত ও মিলন মিয়ার আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দী অনুযায়ী জানা যায়, চালক সবুজ বিশ্বাস ও সিকিউরিটি গার্ড মিলন মূলত বাসার নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন তারা একত্রে ভিকটিমের রুমে প্রবেশ করে ফারাহ দীবাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর চালক সবুজ বিশ্বাস ভিকটিমের পিঠের ওপর বসে মুখ চেপে ধরে এবং মিলন রশি দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলে ও মুখে গামছা পেঁচিয়ে দেয়।
একপর্যায়ে ভিকটিমের নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে আসামীরা শক্তভাবে নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে। ফারাহ দীবার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সবুজ বিশ্বাস আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে মিলনসহ পালিয়ে যায়।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর সিকিউরিটি গার্ড মিলন ধরা পড়লেও প্রধান আসামি ড্রাইভার সবুজ বিশ্বাস অত্যন্ত চাতুরতার সাথে দীর্ঘ প্রায় ২ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে ছিলেন।
তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ মিরপুর ডিওএইচএস হত্যা, ফারাহ দীবা হত্যাকাণ্ড, সবুজ বিশ্বাস গ্রেপ্তার, র্যাব-১২, র্যাব মিডিয়া সেন্টার, পল্লবী থানা, বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী খুন, অপরাধ সংবাদ ঢাকা, কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার Mirpur DOHS Murder, Farah Diba Killing Case, Sabuj Biswas Arrested, RAB-12, RAB Media Briefing, Pallabi Thana, Crime News Dhaka, Kushtia Operations

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী ফারাহ দীবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত প্রধান আসামি গাড়িচালক মো. সবুজ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-১২-এর একটি আভিযানিক দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ কুষ্টিয়া জেলা সদর থানাধীন কোর্ট স্টেশনের সামনে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার কাজী আব্দুল মতিন-এর স্ত্রী ফারাহ দীবাকে তাঁর নিজস্ব ফ্ল্যাটে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পরদিনই (২৮ অক্টোবর ২০২৪) বাসার সিকিউরিটি গার্ড মো. মিলন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
তদন্ত ও মিলন মিয়ার আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দী অনুযায়ী জানা যায়, চালক সবুজ বিশ্বাস ও সিকিউরিটি গার্ড মিলন মূলত বাসার নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন তারা একত্রে ভিকটিমের রুমে প্রবেশ করে ফারাহ দীবাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মেঝেতে ফেলে দেয়। এরপর চালক সবুজ বিশ্বাস ভিকটিমের পিঠের ওপর বসে মুখ চেপে ধরে এবং মিলন রশি দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে ফেলে ও মুখে গামছা পেঁচিয়ে দেয়।
একপর্যায়ে ভিকটিমের নাক ও মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে আসামীরা শক্তভাবে নাক-মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে। ফারাহ দীবার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সবুজ বিশ্বাস আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে মিলনসহ পালিয়ে যায়।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর সিকিউরিটি গার্ড মিলন ধরা পড়লেও প্রধান আসামি ড্রাইভার সবুজ বিশ্বাস অত্যন্ত চাতুরতার সাথে দীর্ঘ প্রায় ২ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে ছিলেন।
তৎকালীন সময়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।

আপনার মতামত লিখুন