নজর বিডি

সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ, কালো টাকা সাদা করার সুযোগে ক্ষোভ

সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ, কালো টাকা সাদা করার সুযোগে ক্ষোভ

রাজস্ব আহরণের নামে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিলেও প্রভাবশালী ও উচ্চবিত্তদের কর ফাঁকি রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। সাধারণ মানুষ করের চাপে পিষ্ট হলেও প্রভাবশালীরা পাচ্ছেন বিশেষ সুবিধা। 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংলাপে বাজেটের এই বৈষম্যমূলক দিকগুলো উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আয়োজিত ‘ট্যাক্স জাস্টিস ইন দ্য ন্যাশনাল বাজেট’ শীর্ষক সংলাপে সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট তামিম আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে উঠে আসা উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

বাজেটে মোট রাজস্বের ৩৮ শতাংশই আসবে ভ্যাট থেকে, যা একটি পরোক্ষ কর। এটি চরম বৈষম্যমূলক, কারণ একজন দরিদ্র রিকশাচালক ও একজন কোটিপতিকে সমহারে ভ্যাট দিতে হয়।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়েও করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ দশমিক ৭৫ লাখ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা সাধারণ করদাতাদের জন্য স্বস্তির পরিবর্তে কষ্টের কারণ হয়েছে।

আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার আইনি সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করছে এবং কর ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কর ফাঁকি ও এড়ানোর কারণে বাংলাদেশ ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতা ও অটোমেশনের অভাবই এর মূল কারণ।

সিপিডি জানিয়েছে, ধনীদের সম্পদের ওপর লাগাম টানার উদ্যোগ না থাকলেও, সামাজিক সুরক্ষা ও মৌলিক সেবায় বরাদ্দের পরিমাণ খুবই সামান্য। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ০ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে অপর্যাপ্ত।

কর বৈষম্য নিরসনে সিপিডি ও ক্রিশ্চিয়ান এইড পাঁচটি জরুরি সুপারিশ পেশ করেছে: ১. পরোক্ষ করের (ভ্যাট) চাপ কমিয়ে সম্পদ কর চালুসহ প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়ানো। ২. মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর করমুক্ত আয়ের সীমা পুনর্বিন্যাস করা। ৩. সাধারণ ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। ৪. দরিদ্র পরিবারের নিত্যপণ্যের ভ্যাটের ওপর ‘ক্যাশব্যাক’ বা রেবেট সুবিধা প্রদান। ৫. আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করা।

সংলাপটিতে সঞ্চালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। 

এছাড়া এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ বাজেট ২০২৬-২৭, সিপিডি, কর বৈষম্য, রাজস্ব, ভ্যাট, কালো টাকা, মূল্যস্ফীতি, কর நீதி, Budget 2026-27, CPD, Tax Inequality, Revenue, VAT, Black Money, Inflation, Tax Justice

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ, কালো টাকা সাদা করার সুযোগে ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

রাজস্ব আহরণের নামে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিলেও প্রভাবশালী ও উচ্চবিত্তদের কর ফাঁকি রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। সাধারণ মানুষ করের চাপে পিষ্ট হলেও প্রভাবশালীরা পাচ্ছেন বিশেষ সুবিধা। 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ আয়োজিত এক সংলাপে বাজেটের এই বৈষম্যমূলক দিকগুলো উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) আয়োজিত ‘ট্যাক্স জাস্টিস ইন দ্য ন্যাশনাল বাজেট’ শীর্ষক সংলাপে সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট তামিম আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে উঠে আসা উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

বাজেটে মোট রাজস্বের ৩৮ শতাংশই আসবে ভ্যাট থেকে, যা একটি পরোক্ষ কর। এটি চরম বৈষম্যমূলক, কারণ একজন দরিদ্র রিকশাচালক ও একজন কোটিপতিকে সমহারে ভ্যাট দিতে হয়।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়েও করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ দশমিক ৭৫ লাখ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা সাধারণ করদাতাদের জন্য স্বস্তির পরিবর্তে কষ্টের কারণ হয়েছে।

আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার আইনি সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করছে এবং কর ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কর ফাঁকি ও এড়ানোর কারণে বাংলাদেশ ২ লাখ ২৬ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। এনবিআরের কাঠামোগত দুর্বলতা ও অটোমেশনের অভাবই এর মূল কারণ।

সিপিডি জানিয়েছে, ধনীদের সম্পদের ওপর লাগাম টানার উদ্যোগ না থাকলেও, সামাজিক সুরক্ষা ও মৌলিক সেবায় বরাদ্দের পরিমাণ খুবই সামান্য। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ০ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে অপর্যাপ্ত।

কর বৈষম্য নিরসনে সিপিডি ও ক্রিশ্চিয়ান এইড পাঁচটি জরুরি সুপারিশ পেশ করেছে: ১. পরোক্ষ করের (ভ্যাট) চাপ কমিয়ে সম্পদ কর চালুসহ প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়ানো। ২. মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর করমুক্ত আয়ের সীমা পুনর্বিন্যাস করা। ৩. সাধারণ ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। ৪. দরিদ্র পরিবারের নিত্যপণ্যের ভ্যাটের ওপর ‘ক্যাশব্যাক’ বা রেবেট সুবিধা প্রদান। ৫. আবাসন খাতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করা।

সংলাপটিতে সঞ্চালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। 

এছাড়া এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং এনবিআর সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী সভায় উপস্থিত ছিলেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত