খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের মাটি অবৈধভাবে বিক্রি ও অপসারণে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনের পূর্বের অভিযানের তোয়াক্কা না করে চক্রটি দিন-রাত ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে মাটি বিক্রি করে চলছে। এতে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি নদী খনন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নদী খননের মাটি নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সিন্ডিকেট চক্র তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খর্ণিয়ার পাঁচপোতা এলাকার চিহ্নিত মাটি ব্যবসায়ী রফিক ফকির এই চক্রের মূল হোতা। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পরোক্ষ সহযোগিতায় এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে।
এর আগে গত ৪ জুন এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ৬ জুন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং রফিক ফকিরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু সেই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই চক্রটি আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ২৬ জুন শুক্রবারও দিনব্যাপী বিভিন্ন বাড়ি ও কৃষি জমি ভরাটের কাজ চালাতে দেখা গেছে তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ক্রেতা বলেন, “আমরা ওপরের মহল ম্যানেজ করেই রফিকের কাছ থেকে মাটি কিনে জমি ভরাট করছি। প্রশাসন সব জানে।”
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খননকৃত মাটি অন্যত্র স্থানান্তর বা বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা জানান, শুধুমাত্র নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচের মাটি ঠিকাদারের অপসারণ করার কথা রয়েছে, কিন্তু খননকৃত নদী বা খালের মাটি বিক্রির কোনো বৈধতা নেই।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নদী খননের মাটি হরিলুটের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসকে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নীরবতায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভদ্রা নদীকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ডুমুরিয়াবাসী।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের মাটি অবৈধভাবে বিক্রি ও অপসারণে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সরকারি নির্দেশনা ও প্রশাসনের পূর্বের অভিযানের তোয়াক্কা না করে চক্রটি দিন-রাত ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে মাটি বিক্রি করে চলছে। এতে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি নদী খনন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নদী খননের মাটি নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সিন্ডিকেট চক্র তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খর্ণিয়ার পাঁচপোতা এলাকার চিহ্নিত মাটি ব্যবসায়ী রফিক ফকির এই চক্রের মূল হোতা। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পরোক্ষ সহযোগিতায় এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে।
এর আগে গত ৪ জুন এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ৬ জুন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার বিশ্বাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং রফিক ফকিরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু সেই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই চক্রটি আবারও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ২৬ জুন শুক্রবারও দিনব্যাপী বিভিন্ন বাড়ি ও কৃষি জমি ভরাটের কাজ চালাতে দেখা গেছে তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ক্রেতা বলেন, “আমরা ওপরের মহল ম্যানেজ করেই রফিকের কাছ থেকে মাটি কিনে জমি ভরাট করছি। প্রশাসন সব জানে।”
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খননকৃত মাটি অন্যত্র স্থানান্তর বা বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ দারুল হুদা জানান, শুধুমাত্র নির্মাণাধীন ব্রিজের নিচের মাটি ঠিকাদারের অপসারণ করার কথা রয়েছে, কিন্তু খননকৃত নদী বা খালের মাটি বিক্রির কোনো বৈধতা নেই।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নদী খননের মাটি হরিলুটের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবিতা সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসকে একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এমন রহস্যজনক নীরবতায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভদ্রা নদীকে সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ডুমুরিয়াবাসী।

আপনার মতামত লিখুন