টানা ২৪ ঘণ্টা খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পদ্ধতি বর্তমান সময়ে একটি জনপ্রিয় জীবনধারা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই অভ্যাসের ফলে শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণর্র্পরবর্তন ঘটে।
গ্লাইকোজেন ব্যবহার: খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যখন রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে থাকে, তখন শরীর লিভারে সঞ্চিত ‘গ্লাইকোজেন’ ভেঙে গ্লুকোজ হিসেবে শক্তি উৎপাদন করে।
চর্বি পোড়ানো: গ্লাইকোজেন শেষ হওয়ার পর শরীর শক্তির জন্য সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করে এবং ‘কিটোন’ নামক পদার্থ তৈরি করে।
হরমোনের পরিবর্তন: এই সময়ে শরীরে ‘গ্লুকাগন’ হরমোনের মাত্রা বাড়ে এবং ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়, যা শক্তি মুক্ত করতে সাহায্য করে।
অনেকেই ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন, যেমন—ক্ষুধা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বিরক্তি বা মনোযোগের অভাব। সাধারণত সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এগুলো তেমন বিপজ্জনক নয়, তবে না খেয়ে থাকা অভ্যাসে না থাকলে এই উপসর্গগুলো বেশি দেখা দিতে পারে।
২০২৩ সালের NCBI-এর গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদী উপবাসের কিছু ইতিবাচক দিকের কথা উঠে এসেছে:
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা: ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি কমায়।
শরীরের গঠন: এটি ওজন কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ক্ষতিকর লিপিড কমাতে সাহায্য করে।
স্নায়বিক সুরক্ষা: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি আলঝেইমার ও পারকিনসনের মতো রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সহায়ক হতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা সবার জন্য নিরাপদ নয়। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে এটি জটিলতা তৈরি করতে পারে:
যাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ: ডায়াবেটিস রোগী (ইনসুলিন গ্রহণকারী), গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী, শিশু এবং অতি দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তি।
সম্ভাব্য জটিলতা: হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা মারাত্মক কমে যাওয়া), ডিহাইড্রেশন, পেশীক্ষয় বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: গবেষণায় জোরালোভাবে সুপারিশ করা হয়েছে যে, কোনো প্রকার দীর্ঘমেয়াদী উপবাস বা ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার রুটিন শুরু করার আগে অবশ্যই একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
টানা ২৪ ঘণ্টা খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পদ্ধতি বর্তমান সময়ে একটি জনপ্রিয় জীবনধারা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই অভ্যাসের ফলে শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণর্র্পরবর্তন ঘটে।
গ্লাইকোজেন ব্যবহার: খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যখন রক্তে শর্করার মাত্রা কমতে থাকে, তখন শরীর লিভারে সঞ্চিত ‘গ্লাইকোজেন’ ভেঙে গ্লুকোজ হিসেবে শক্তি উৎপাদন করে।
চর্বি পোড়ানো: গ্লাইকোজেন শেষ হওয়ার পর শরীর শক্তির জন্য সঞ্চিত চর্বি ব্যবহার করতে শুরু করে এবং ‘কিটোন’ নামক পদার্থ তৈরি করে।
হরমোনের পরিবর্তন: এই সময়ে শরীরে ‘গ্লুকাগন’ হরমোনের মাত্রা বাড়ে এবং ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়, যা শক্তি মুক্ত করতে সাহায্য করে।
অনেকেই ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন, যেমন—ক্ষুধা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বিরক্তি বা মনোযোগের অভাব। সাধারণত সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এগুলো তেমন বিপজ্জনক নয়, তবে না খেয়ে থাকা অভ্যাসে না থাকলে এই উপসর্গগুলো বেশি দেখা দিতে পারে।
২০২৩ সালের NCBI-এর গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদী উপবাসের কিছু ইতিবাচক দিকের কথা উঠে এসেছে:
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা: ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়, যা ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি কমায়।
শরীরের গঠন: এটি ওজন কমাতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ক্ষতিকর লিপিড কমাতে সাহায্য করে।
স্নায়বিক সুরক্ষা: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি আলঝেইমার ও পারকিনসনের মতো রোগের অগ্রগতি ধীর করতে সহায়ক হতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা সবার জন্য নিরাপদ নয়। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে এটি জটিলতা তৈরি করতে পারে:
যাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ: ডায়াবেটিস রোগী (ইনসুলিন গ্রহণকারী), গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী, শিশু এবং অতি দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তি।
সম্ভাব্য জটিলতা: হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা মারাত্মক কমে যাওয়া), ডিহাইড্রেশন, পেশীক্ষয় বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: গবেষণায় জোরালোভাবে সুপারিশ করা হয়েছে যে, কোনো প্রকার দীর্ঘমেয়াদী উপবাস বা ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার রুটিন শুরু করার আগে অবশ্যই একজন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন