মাঝেমধ্যেই কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই কারো হার্ট অ্যাটাক হওয়ার খবর পাওয়া যায়। যদিও হার্ট অ্যাটাক দিনের যেকোনো সময়েই হতে পারে, কিন্তু বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ভোরের দিকে এটি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক অনেক বেশি। শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের কারণে বেশিরভাগ মানুষই সকালে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।
হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়, যা সাধারণত করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ঘটে। সকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তন (সার্কাডিয়ান রিদম): আমাদের শরীর 'সার্কাডিয়ান রিদম' নামক একটি ২৪ ঘণ্টার চক্র অনুসরণ করে, যা ঘুম, হরমোন নিঃসরণ, শরীরের তাপমাত্রা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে সক্রিয় করার জন্য অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসলের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। এই পরিবর্তনগুলো হৃৎপিণ্ডকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সমস্যা না হলেও, হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি চাপ হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
২. ঘুম থেকে ওঠার পর রক্তচাপ বৃদ্ধি: গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমের সময় রক্তচাপ কম থাকে। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পরপরই রক্তচাপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এই আকস্মিক চাপ যদি কোনো ধমনীতে চর্বি জমার কারণে আগে থেকেই সরু হয়ে থাকে, তবে সেখানে থাকা 'প্লাক' ফেটে যেতে পারে। এর ফলে রক্ত জমাট বেঁধে ধমনী বন্ধ হয়ে হার্ট অ্যাটাকের সৃষ্টি হয়।
৩. রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা: সকালের দিকে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যায় এবং দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় জমাট বাঁধা রক্ত গলিয়ে ফেলার ক্ষমতা (fibrinolytic activity) কমে যায়। ধমনী যদি আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বা সংকুচিত থাকে, তবে সকালে রক্ত জমাট বাঁধা খুবই সহজ হয়ে পড়ে, যা হৃদপিণ্ডের রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
৪. হৃৎপিণ্ডের ওপর সকালের কাজের বাড়তি চাপ: সকালের তাড়াহুড়ো, দ্রুত বিছানা থেকে ওঠা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা অফিসের প্রস্তুতির মানসিক চাপ হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। মানসিক চাপের ফলে রক্তচাপ এবং হৃৎস্পন্দনের হার বৃদ্ধি পায়, যা ইতিমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।
সতর্কতা: যাদের হৃদরোগের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে, তাদের সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজ শুরু করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত জরুরি।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
মাঝেমধ্যেই কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই কারো হার্ট অ্যাটাক হওয়ার খবর পাওয়া যায়। যদিও হার্ট অ্যাটাক দিনের যেকোনো সময়েই হতে পারে, কিন্তু বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ভোরের দিকে এটি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক অনেক বেশি। শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের কারণে বেশিরভাগ মানুষই সকালে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।
হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক হয়, যা সাধারণত করোনারি ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে ঘটে। সকালে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তন (সার্কাডিয়ান রিদম): আমাদের শরীর 'সার্কাডিয়ান রিদম' নামক একটি ২৪ ঘণ্টার চক্র অনুসরণ করে, যা ঘুম, হরমোন নিঃসরণ, শরীরের তাপমাত্রা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরকে সক্রিয় করার জন্য অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসলের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। এই পরিবর্তনগুলো হৃৎপিণ্ডকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সমস্যা না হলেও, হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি চাপ হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
২. ঘুম থেকে ওঠার পর রক্তচাপ বৃদ্ধি: গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমের সময় রক্তচাপ কম থাকে। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পরপরই রক্তচাপ দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এই আকস্মিক চাপ যদি কোনো ধমনীতে চর্বি জমার কারণে আগে থেকেই সরু হয়ে থাকে, তবে সেখানে থাকা 'প্লাক' ফেটে যেতে পারে। এর ফলে রক্ত জমাট বেঁধে ধমনী বন্ধ হয়ে হার্ট অ্যাটাকের সৃষ্টি হয়।
৩. রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা: সকালের দিকে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যায় এবং দিনের অন্যান্য সময়ের তুলনায় জমাট বাঁধা রক্ত গলিয়ে ফেলার ক্ষমতা (fibrinolytic activity) কমে যায়। ধমনী যদি আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত বা সংকুচিত থাকে, তবে সকালে রক্ত জমাট বাঁধা খুবই সহজ হয়ে পড়ে, যা হৃদপিণ্ডের রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
৪. হৃৎপিণ্ডের ওপর সকালের কাজের বাড়তি চাপ: সকালের তাড়াহুড়ো, দ্রুত বিছানা থেকে ওঠা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা অফিসের প্রস্তুতির মানসিক চাপ হৃৎপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। মানসিক চাপের ফলে রক্তচাপ এবং হৃৎস্পন্দনের হার বৃদ্ধি পায়, যা ইতিমধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।
সতর্কতা: যাদের হৃদরোগের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে, তাদের সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে দৈনন্দিন কাজ শুরু করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন