জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়েও সংস্থাটি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আইএমএফ মিশনের নেতৃত্ব দেন মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার এবং এনবিআরের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
বৈঠকে এনবিআর কর্তৃপক্ষ আইএমএফকে আশ্বস্ত করেছে যে, প্রতিষ্ঠানটিকে অধিকতর গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা করার নীতিগত সিদ্ধান্তে সরকার অটল রয়েছে। এনবিআরের নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নীতি বিভাগ কর আইন প্রণয়ন ও গবেষণার কাজ করবে এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগ কর আদায় ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যদিও একাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরোধিতার মুখে সরকার অধ্যাদেশটিতে সংশোধনী এনে তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত (বর্তমানে ৬.৮ শতাংশ) নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে আইএমএফ। এনবিআর জানিয়েছে, এই হার বাড়াতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে:
কর ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় আনা। করহার না বাড়িয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত করের আওতা বাড়ানো। কর ফাঁকি রোধ এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ছাড়া নতুন কোনো কর অব্যাহতি না দেওয়া।
সরকারের মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি ২০২৬-২৯ অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০.৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে গত অর্থবছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপটে, চলতি অর্থবছরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে আইএমএফ।
নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় অবস্থানরত আইএমএফ প্রতিনিধি দলটি এনবিআর-এর এই পরিকল্পনাগুলো পর্যালোচনা করছে এবং পরবর্তী ধাপে তারা তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে বলে জানা গেছে।
পাশাপাশি বৈঠকে বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু এবং ৪৪টি সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়েও সংস্থাটি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে আইএমএফ মিশনের নেতৃত্ব দেন মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার এবং এনবিআরের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
বৈঠকে এনবিআর কর্তৃপক্ষ আইএমএফকে আশ্বস্ত করেছে যে, প্রতিষ্ঠানটিকে অধিকতর গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা করার নীতিগত সিদ্ধান্তে সরকার অটল রয়েছে। এনবিআরের নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নীতি বিভাগ কর আইন প্রণয়ন ও গবেষণার কাজ করবে এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগ কর আদায় ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যদিও একাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরোধিতার মুখে সরকার অধ্যাদেশটিতে সংশোধনী এনে তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত (বর্তমানে ৬.৮ শতাংশ) নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে আইএমএফ। এনবিআর জানিয়েছে, এই হার বাড়াতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে:
কর ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের আওতায় আনা। করহার না বাড়িয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত করের আওতা বাড়ানো। কর ফাঁকি রোধ এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের ওপর গুরুত্বারোপ। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ছাড়া নতুন কোনো কর অব্যাহতি না দেওয়া।
সরকারের মধ্যমেয়াদী সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি ২০২৬-২৯ অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০.৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে গত অর্থবছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতির প্রেক্ষাপটে, চলতি অর্থবছরের ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে আইএমএফ।
নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় অবস্থানরত আইএমএফ প্রতিনিধি দলটি এনবিআর-এর এই পরিকল্পনাগুলো পর্যালোচনা করছে এবং পরবর্তী ধাপে তারা তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবে বলে জানা গেছে।
পাশাপাশি বৈঠকে বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু এবং ৪৪টি সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হস্তান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন