নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

জাজিরায় ত্রিমুখী প্রেমের জটিলতায় যুবকের আত্মহত্যা, প্রেমিকার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

জাজিরায় ত্রিমুখী প্রেমের জটিলতায় যুবকের আত্মহত্যা, প্রেমিকার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ত্রিমুখী প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মিরাজ বেপারী (২২) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ জুন পদ্মা দক্ষিণ মডেল থানার সরলখার কান্দি এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিরাজ বেপারী ওই এলাকার আব্দুল রশিদ বেপারীর ছেলে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং মানসিক চাপে পড়ে মিরাজ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা এলাকার আমিনপাড়া রোডের বাসিন্দা আহসান উল্লাহর মেয়ে হামিদা আক্তারের (১৭) সঙ্গে মিরাজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মিরাজের পরিবারের অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে হামিদা বিভিন্ন সময় তাঁর কাছ থেকে আর্থিকসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে মিরাজ বিয়ের প্রস্তাব দিলে হামিদা ও তাঁর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে মিরাজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন হামিদা ও তাঁর পরিবারের উদ্দেশে মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও বার্তা ধারণ করে বিষপান করেন মিরাজ। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে একই তরুণীকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা এলাকার কালীগঞ্জ পূর্বপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল করিমের ছেলে মো. বিকি ইসলাম দাবি করেছেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে হামিদা আক্তারের সঙ্গে তাঁরও প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

বিকি ইসলামের অভিযোগ, সম্পর্কের সময় হামিদা তাঁর কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি আদালতে উভয়ের সম্মতিতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের মাত্র এক মাস তিন দিনের মাথায়, গত ২১ জুন, তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিকি ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, হামিদা আক্তার ও তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে, কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির সেকেন্ড অফিসার এসআই এনামুল তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে সতর্ক করেন। বিকির দাবি, কোনো লিখিত অভিযোগ বা নিয়মিত আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে কাউকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ বা সতর্ক করা প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির সেকেন্ড অফিসার এসআই এনামুল বলেন, "হামিদা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে আমি বিকি ইসলামকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে এনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।" তবে কোনো লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে ডাকা হয়েছিল কি না এবং কোন আইনগত ক্ষমতাবলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মিরাজের মৃত্যুর পর পরিবার ও স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আত্মহত্যার পেছনে কারও প্ররোচনা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ভূমিকা থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে হামিদা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে পদ্মা দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিষয় : নজরবিডি সংবাদ ডা. শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামী, রংপুর সফর, সুধী সমাবেশ, রাজনৈতিক সংবাদ, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাজিরায় ত্রিমুখী প্রেমের জটিলতায় যুবকের আত্মহত্যা, প্রেমিকার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ত্রিমুখী প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে মিরাজ বেপারী (২২) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ জুন পদ্মা দক্ষিণ মডেল থানার সরলখার কান্দি এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিরাজ বেপারী ওই এলাকার আব্দুল রশিদ বেপারীর ছেলে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং মানসিক চাপে পড়ে মিরাজ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা এলাকার আমিনপাড়া রোডের বাসিন্দা আহসান উল্লাহর মেয়ে হামিদা আক্তারের (১৭) সঙ্গে মিরাজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মিরাজের পরিবারের অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে হামিদা বিভিন্ন সময় তাঁর কাছ থেকে আর্থিকসহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, কিছুদিন আগে মিরাজ বিয়ের প্রস্তাব দিলে হামিদা ও তাঁর পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে মিরাজ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন হামিদা ও তাঁর পরিবারের উদ্দেশে মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও বার্তা ধারণ করে বিষপান করেন মিরাজ। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে একই তরুণীকে ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা এলাকার কালীগঞ্জ পূর্বপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল করিমের ছেলে মো. বিকি ইসলাম দাবি করেছেন, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে হামিদা আক্তারের সঙ্গে তাঁরও প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

বিকি ইসলামের অভিযোগ, সম্পর্কের সময় হামিদা তাঁর কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন। তিনি জানান, গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি আদালতে উভয়ের সম্মতিতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের মাত্র এক মাস তিন দিনের মাথায়, গত ২১ জুন, তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিকি ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, হামিদা আক্তার ও তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে, কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির সেকেন্ড অফিসার এসআই এনামুল তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে সতর্ক করেন। বিকির দাবি, কোনো লিখিত অভিযোগ বা নিয়মিত আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে কাউকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ বা সতর্ক করা প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবির সেকেন্ড অফিসার এসআই এনামুল বলেন, "হামিদা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে আমি বিকি ইসলামকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে এনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি।" তবে কোনো লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে ডাকা হয়েছিল কি না এবং কোন আইনগত ক্ষমতাবলে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।

ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মিরাজের মৃত্যুর পর পরিবার ও স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আত্মহত্যার পেছনে কারও প্ররোচনা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ভূমিকা থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা জানতে হামিদা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে পদ্মা দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্তে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত