নজর বিডি
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ: ইজারাদারদের দ্বন্দ্বে চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ: ইজারাদারদের দ্বন্দ্বে চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

সুনামগঞ্জ জেলার যাদুকাটা নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি দুই ইজারাদারের অভ্যন্তরীণ ও দখল সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন লাখো সাধারণ মানুষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে পারাপার বন্ধ থাকায় তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে দেবোত্তর এস্টেটের ইজারাদার দাবিদার শিশির মনির নদীর পূর্ব পাড় মিয়ারচড় এলাকায় এবং জেলা পরিষদ থেকে খাস আদায়ের অনুমতিপ্রাপ্ত ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া পশ্চিম পাড় পাঠানপাড়া এলাকায় বসে টোল আদায়ের চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিলে একপর্যায়ে খেয়া পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ খেয়া চলাচল বন্ধ হওয়ায় নদীর দুই পাড়ে আটকে পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার যাত্রী।

ঘাটের পারাপার বন্ধ থাকায় প্রতিদিনের যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী ও সাধারণ কর্মজীবীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বাধ্য হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র—শিমুল বাগান, বারিক্কার টিলা, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া এবং টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আসা হাজার হাজার পর্যটক যাদুকাটা নদীর পাড়ে এসে আটকে পড়ছেন। অনেকেই দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ না করেই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে ইজারা প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ঘাট ভোগদখল করে আসছেন তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে মো. ওয়াহিদ মিয়া (৪৫)। হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি না দেওয়ায় জেলা পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য (২ জুলাই ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত) ৪২ লাখ টাকায় ওয়াহিদ মিয়াকে খাস টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।

ইজারাদার মো. ওয়াহিদ মিয়া জানান, "আমরা জেলা পরিষদ থেকে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে ইজারা এনে বৈধভাবে ঘাট পরিচালনা করে আসছি। আজ হঠাৎ করে একটি পক্ষ দেবোত্তর এস্টেটের মালিকানা দাবি করে খেয়া পারাপারে বাধা সৃষ্টি করছে এবং আমাদের অবৈধ বলছে।"

অন্যদিকে, দেবোত্তর এস্টেটের মালিকানা দাবি করে শিশির মনির জানান, তিনি দেবোত্তর এস্টেটের মালিক কালী চরণ দত্তের কাছ থেকে ঘাটের ইজারা এনেছেন এবং তিনিই বৈধ ইজারাদার। মামলা চলমান থাকার পরও জেলা পরিষদ কীভাবে হাইকোর্টের আদেশ অবমাননা করে ইজারা দেয়, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে দেবোত্তর এস্টেটের মালিক কালী চরণ দত্ত চৌধুরী (ভজন)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি শিশির নামের কাউকে কোনো কাগজপত্র দেননি এবং তার সাথে কোনো যোগাযোগও নেই। তবে ঘাটগুলোর মালিকানা তাদের হওয়ায় জেলা পরিষদ খাস কালেকশন দিতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর থেকে এলাকাটিতে দুই পক্ষের সংঘাতের আশঙ্কায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং খুদে বার্তারও কোনো উত্তর দেননি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ: ইজারাদারদের দ্বন্দ্বে চরম দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জ জেলার যাদুকাটা নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি দুই ইজারাদারের অভ্যন্তরীণ ও দখল সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন লাখো সাধারণ মানুষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে পারাপার বন্ধ থাকায় তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আজ ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকালে দেবোত্তর এস্টেটের ইজারাদার দাবিদার শিশির মনির নদীর পূর্ব পাড় মিয়ারচড় এলাকায় এবং জেলা পরিষদ থেকে খাস আদায়ের অনুমতিপ্রাপ্ত ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া পশ্চিম পাড় পাঠানপাড়া এলাকায় বসে টোল আদায়ের চেষ্টা করেন। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিলে একপর্যায়ে খেয়া পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ খেয়া চলাচল বন্ধ হওয়ায় নদীর দুই পাড়ে আটকে পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার যাত্রী।

ঘাটের পারাপার বন্ধ থাকায় প্রতিদিনের যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী ও সাধারণ কর্মজীবীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বাধ্য হয়ে বিকল্প দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র—শিমুল বাগান, বারিক্কার টিলা, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া এবং টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আসা হাজার হাজার পর্যটক যাদুকাটা নদীর পাড়ে এসে আটকে পড়ছেন। অনেকেই দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ না করেই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে ইজারা প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ ঘাট ভোগদখল করে আসছেন তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে মো. ওয়াহিদ মিয়া (৪৫)। হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তি না দেওয়ায় জেলা পরিষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য (২ জুলাই ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত) ৪২ লাখ টাকায় ওয়াহিদ মিয়াকে খাস টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।

ইজারাদার মো. ওয়াহিদ মিয়া জানান, "আমরা জেলা পরিষদ থেকে দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে ইজারা এনে বৈধভাবে ঘাট পরিচালনা করে আসছি। আজ হঠাৎ করে একটি পক্ষ দেবোত্তর এস্টেটের মালিকানা দাবি করে খেয়া পারাপারে বাধা সৃষ্টি করছে এবং আমাদের অবৈধ বলছে।"

অন্যদিকে, দেবোত্তর এস্টেটের মালিকানা দাবি করে শিশির মনির জানান, তিনি দেবোত্তর এস্টেটের মালিক কালী চরণ দত্তের কাছ থেকে ঘাটের ইজারা এনেছেন এবং তিনিই বৈধ ইজারাদার। মামলা চলমান থাকার পরও জেলা পরিষদ কীভাবে হাইকোর্টের আদেশ অবমাননা করে ইজারা দেয়, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে দেবোত্তর এস্টেটের মালিক কালী চরণ দত্ত চৌধুরী (ভজন)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি শিশির নামের কাউকে কোনো কাগজপত্র দেননি এবং তার সাথে কোনো যোগাযোগও নেই। তবে ঘাটগুলোর মালিকানা তাদের হওয়ায় জেলা পরিষদ খাস কালেকশন দিতে পারে না বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর থেকে এলাকাটিতে দুই পক্ষের সংঘাতের আশঙ্কায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পালের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং খুদে বার্তারও কোনো উত্তর দেননি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত