বিলডাকাতিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে হামকুড়া-ভদ্রা নদী পুনঃখনে এবং বিল শিংগা, মধুগ্রাম ও মাধবকাটি বিলে জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টায় ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির আয়োজনে উপজেলার ঐতিহাসিক হামকুড়া ব্রিজের ওপর এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ। ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সদস্য শেখ মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ডুমুরিয়া উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান জোয়াদ্দার, উত্তরণ প্রতিনিধি ও তালা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, হামকুড়া বিল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন চৌধুরী, শিংগা বিল কমিটির সভাপতি শেখ শাহিনুর রহমান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুর রব আকুঞ্জি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিলডাকাতিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বছরের পর বছর পানির নিচে তলিয়ে আছে। পলি জমে হামকুড়া ও ভদ্রা নদী আজ প্রায় মৃত। ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রকৃতির নিয়ম মেনে টিআরএম চালু না করলে এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা কখনোই স্থায়ীভাবে দূর হবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ বলেন, "জনগণের ভোগান্তি আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধু নামকাওয়াস্তে নদী খনন করলে কোনো লাভ হবে না; পলি ব্যবস্থাপনার জন্য টিআরএম বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। টিআরএম চালুর মাধ্যমে বিলে পলি ভরাট হবে এবং নদী তার স্বাভাবিক নাব্য ফিরে পাবে। আমাদের দাবি দ্রুত পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।"
উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন বলেন, অবিলম্বে এই নদী খনন করে বিল শিংগা ও সংলগ্ন বিলে টিআরএম চালু না করা হলে আগামী বর্ষায় গোটা ডুমুরিয়া পানির নিচে চলে যাবে। এ সময় তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাজসেবক শাহজাহান জোয়াদ্দার উল্লেখ করেন, জলাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ইটভাটা শিল্পসহ সব অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তাই আঞ্চলিক অর্থনীতি বাঁচাতে নদী খনন প্রকল্প দ্রুত পাস ও বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। অন্যদিকে উত্তরণ প্রতিনিধি মীর জিল্লুর রহমান জনবান্ধব টিআরএম পদ্ধতিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র বৈজ্ঞানিক সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে এলাকার শত শত ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ সংহতি জানিয়ে অংশ নেন। সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, দ্রুত সরকারি বাজেট বরাদ্দ দিয়ে হামকুড়া নদী খনন ও টিআরএম বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
বিলডাকাতিয়া ও সংলগ্ন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে হামকুড়া-ভদ্রা নদী পুনঃখনে এবং বিল শিংগা, মধুগ্রাম ও মাধবকাটি বিলে জোয়ার-ভাটা (টিআরএম) প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টায় ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির আয়োজনে উপজেলার ঐতিহাসিক হামকুড়া ব্রিজের ওপর এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ। ডুমুরিয়া উপজেলা পানি কমিটির সদস্য শেখ মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ডুমুরিয়া উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান জোয়াদ্দার, উত্তরণ প্রতিনিধি ও তালা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, হামকুড়া বিল কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন চৌধুরী, শিংগা বিল কমিটির সভাপতি শেখ শাহিনুর রহমান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুর রব আকুঞ্জি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিলডাকাতিয়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি বছরের পর বছর পানির নিচে তলিয়ে আছে। পলি জমে হামকুড়া ও ভদ্রা নদী আজ প্রায় মৃত। ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রকৃতির নিয়ম মেনে টিআরএম চালু না করলে এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা কখনোই স্থায়ীভাবে দূর হবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ বলেন, "জনগণের ভোগান্তি আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুধু নামকাওয়াস্তে নদী খনন করলে কোনো লাভ হবে না; পলি ব্যবস্থাপনার জন্য টিআরএম বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। টিআরএম চালুর মাধ্যমে বিলে পলি ভরাট হবে এবং নদী তার স্বাভাবিক নাব্য ফিরে পাবে। আমাদের দাবি দ্রুত পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।"
উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম আক্তার স্বপন বলেন, অবিলম্বে এই নদী খনন করে বিল শিংগা ও সংলগ্ন বিলে টিআরএম চালু না করা হলে আগামী বর্ষায় গোটা ডুমুরিয়া পানির নিচে চলে যাবে। এ সময় তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাজসেবক শাহজাহান জোয়াদ্দার উল্লেখ করেন, জলাবদ্ধতার কারণে এ অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ইটভাটা শিল্পসহ সব অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তাই আঞ্চলিক অর্থনীতি বাঁচাতে নদী খনন প্রকল্প দ্রুত পাস ও বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। অন্যদিকে উত্তরণ প্রতিনিধি মীর জিল্লুর রহমান জনবান্ধব টিআরএম পদ্ধতিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র বৈজ্ঞানিক সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনে এলাকার শত শত ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ সংহতি জানিয়ে অংশ নেন। সমাবেশ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, দ্রুত সরকারি বাজেট বরাদ্দ দিয়ে হামকুড়া নদী খনন ও টিআরএম বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে মহাসড়ক অবরোধসহ বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আপনার মতামত লিখুন