নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির প্রথম বিশেষ সাধারণ সভায় সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক উন্নয়নে একাধিক সিদ্ধান্ত।
রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ টানপাড়াকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, মানবিক ও মাদকমুক্ত আবাসিক এলাকায় পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি। এ লক্ষ্যে এলাকাজুড়ে সমন্বিত মাদকবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোসাইটির কার্যালয়ে নবগঠিত নির্বাহী কমিটির প্রথম বিশেষ সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসাইন মৃধা। বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার, সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মো. মিসবাহ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্বপন, ক্রীড়া সম্পাদক নুরুল আমিন মজুমদার (ঝিন্টু), দপ্তর সম্পাদক ডা. আতিকুর রহমান খানসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে জাহিদ ইকবাল বলেন, শুধু একটি সুন্দর আবাসিক এলাকা নয়, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, এলাকাবাসীর ঐক্য, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগের ফলে গত প্রায় ১৫ মাস ধরে নিকুঞ্জ টানপাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে যানজট কমেছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে।
এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার মাদকমুক্ত নিকুঞ্জ টানপাড়া গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম এবং পুরো সমাজকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ আপসহীন।”
তিনি জানান, শিগগিরই মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক, শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা নিকুঞ্জ টানপাড়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাগরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। তিনি বলেন, “নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।”
সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু বলেন, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি পদ-পদবীতে নয়, বরং জনগণের আস্থা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। ভবিষ্যতেও নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি এলাকার মানুষের পাশে থেকে নাগরিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে কাজ করে যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি প্রায় তিন দশক ধরে এলাকাভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশামুক্ত এলাকা প্রতিষ্ঠা, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবৈধ দখল ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেছে।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে নিকুঞ্জ টানপাড়া মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক আবাসিক এলাকায় পরিণত হবে এবং রাজধানীর অন্যান্য আবাসিক এলাকার জন্য একটি অনুসরণীয় সামাজিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির প্রথম বিশেষ সাধারণ সভায় সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক উন্নয়নে একাধিক সিদ্ধান্ত।
রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ টানপাড়াকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, মানবিক ও মাদকমুক্ত আবাসিক এলাকায় পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি। এ লক্ষ্যে এলাকাজুড়ে সমন্বিত মাদকবিরোধী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সোসাইটির কার্যালয়ে নবগঠিত নির্বাহী কমিটির প্রথম বিশেষ সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং মাদকবিরোধী আন্দোলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসাইন মৃধা। বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার, সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মো. মিসবাহ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্বপন, ক্রীড়া সম্পাদক নুরুল আমিন মজুমদার (ঝিন্টু), দপ্তর সম্পাদক ডা. আতিকুর রহমান খানসহ নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে জাহিদ ইকবাল বলেন, শুধু একটি সুন্দর আবাসিক এলাকা নয়, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সম্প্রীতির একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, এলাকাবাসীর ঐক্য, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক সামাজিক উদ্যোগের ফলে গত প্রায় ১৫ মাস ধরে নিকুঞ্জ টানপাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে যানজট কমেছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে।
এ সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার মাদকমুক্ত নিকুঞ্জ টানপাড়া গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম এবং পুরো সমাজকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ আপসহীন।”
তিনি জানান, শিগগিরই মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক, শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা নিকুঞ্জ টানপাড়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাগরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। তিনি বলেন, “নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।”
সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু বলেন, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি পদ-পদবীতে নয়, বরং জনগণের আস্থা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। ভবিষ্যতেও নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি এলাকার মানুষের পাশে থেকে নাগরিক সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে কাজ করে যাবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি প্রায় তিন দশক ধরে এলাকাভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশামুক্ত এলাকা প্রতিষ্ঠা, জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবৈধ দখল ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি এলাকাবাসীর আস্থা অর্জন করেছে।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে নিকুঞ্জ টানপাড়া মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক আবাসিক এলাকায় পরিণত হবে এবং রাজধানীর অন্যান্য আবাসিক এলাকার জন্য একটি অনুসরণীয় সামাজিক উন্নয়নের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন