তীব্র আর্থিক সংকট ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে চট্টগ্রামে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের অন্তত ১১টি কারখানা একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।
শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে কারখানাগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এ ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কারখানার এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজেই প্রায় ৫০০ স্থায়ী এবং ২০০ অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। অন্য কারখানাগুলো মিলিয়ে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৪ হাজার
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংক ঋণের সহযোগিতা না পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিক সংকটে পড়ে। এর আগে ধাপে ধাপে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এবার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি সবগুলো কারখানার কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার হাসমত আলী বলেন, কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়; বরং প্রায় দুই বছর ধরে চলমান পরিচালনগত সংকটেরই চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মীকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী কেউ ৭ লাখ, কেউ ১৫ লাখ, আবার কেউ গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য সুবিধাসহ ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন।
বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি পশুখাদ্য কারখানাসহ আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে গ্রুপটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে।
কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে এস আলম গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
তীব্র আর্থিক সংকট ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবে চট্টগ্রামে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের অন্তত ১১টি কারখানা একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।
শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে কারখানাগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এ ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
কারখানার এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজেই প্রায় ৫০০ স্থায়ী এবং ২০০ অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। অন্য কারখানাগুলো মিলিয়ে মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৪ হাজার
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংক ঋণের সহযোগিতা না পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিক সংকটে পড়ে। এর আগে ধাপে ধাপে কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এবার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি সবগুলো কারখানার কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার হাসমত আলী বলেন, কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়; বরং প্রায় দুই বছর ধরে চলমান পরিচালনগত সংকটেরই চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মীকে তাদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী কেউ ৭ লাখ, কেউ ১৫ লাখ, আবার কেউ গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য সুবিধাসহ ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়েছেন।
বন্ধ ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি পশুখাদ্য কারখানাসহ আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে গ্রুপটির বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে।
কারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়ে এস আলম গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন