নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

ব্যাংকিং খাতের সংকট রাজনৈতিক অর্থনীতির ফল

ব্যাংকিং খাতের সংকট রাজনৈতিক অর্থনীতির ফল

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দীর্ঘদিনের সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া)-এর উপাচার্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার ও অপরাধ বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।

‘ব্যাংকিং ও রাজনৈতিক অর্থনীতি: একটি নির্মোহ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত দুর্বলতা, তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।

নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও ব্যাংকিং খাতের গতিপ্রকৃতি শুধু বাজারের চাহিদা-জোগানের নিয়মে পরিচালিত হয় না। বরং ক্ষমতার প্রভাব, স্বার্থের বিন্যাস এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান তাঁর বিশ্লেষণে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ (স্বজনতোষী পুঁজিবাদ) এবং ‘রেণ্ট-সিকিং’-এর মতো রাজনৈতিক অর্থনীতির ধারণা তুলে ধরে বলেন, ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়লে সুশাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, পুনঃতফসিলীকরণ এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করে বলে তিনি মত দেন।

তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে ‘রেগুলেটরি ক্যাপচার’-এর ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁর মতে, বড় ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে তা ঋণ শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধে নিরুৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে।

নিবন্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থাও তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ এবং পরে মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারি অর্থ ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করে।

সংকট উত্তরণে তিনি কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেউলিয়া আইন ও অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা।

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান বলেন, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

বিষয় : ব্যাংকিং খাতের সংকট রাজনৈতিক অর্থনীতির ফল

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ব্যাংকিং খাতের সংকট রাজনৈতিক অর্থনীতির ফল

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দীর্ঘদিনের সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া)-এর উপাচার্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার ও অপরাধ বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।

‘ব্যাংকিং ও রাজনৈতিক অর্থনীতি: একটি নির্মোহ পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত দুর্বলতা, তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ।

নিবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও ব্যাংকিং খাতের গতিপ্রকৃতি শুধু বাজারের চাহিদা-জোগানের নিয়মে পরিচালিত হয় না। বরং ক্ষমতার প্রভাব, স্বার্থের বিন্যাস এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান তাঁর বিশ্লেষণে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ (স্বজনতোষী পুঁজিবাদ) এবং ‘রেণ্ট-সিকিং’-এর মতো রাজনৈতিক অর্থনীতির ধারণা তুলে ধরে বলেন, ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়লে সুশাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে অনিয়মিত ঋণ বিতরণ, পুনঃতফসিলীকরণ এবং খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করে বলে তিনি মত দেন।

তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে ‘রেগুলেটরি ক্যাপচার’-এর ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁর মতে, বড় ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে তা ঋণ শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধে নিরুৎসাহ সৃষ্টি করতে পারে।

নিবন্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থাও তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ এবং পরে মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারি অর্থ ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যয় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করে।

সংকট উত্তরণে তিনি কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেউলিয়া আইন ও অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা।

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান বলেন, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।




নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত