নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আড়াই মাস পর ৭ আসামির মুক্তি

লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আড়াই মাস পর ৭ আসামির মুক্তি

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনজীবী না পাওয়ায় প্রায় আড়াই মাস কারাবন্দী থাকা লঘু অপরাধে অভিযুক্ত সাত আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (২ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমত আরা তুসি এই জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ঈমাম হোসেন বাররু, মো. রমিন, মো. আকিব, মো. কুইক আলী, মো. জিদান, মো. সিফাত আলী ও মো. পরশ। অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজনের বয়সই ১৮ বছরের কম। আদালতের রিলিজ অর্ডার কারাগারে পৌঁছানোর পর তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।

মামলাটির সূত্রপাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে একটি সালিশ বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই মামলার বাদী স্বয়ং আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। বাদী পক্ষের এমন প্রভাবশালী পদের কারণে দীর্ঘদিন স্থানীয় কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াতে বা জামিন আবেদন করতে রাজি হননি। ফলে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে জামিনের কোনো সুযোগ না পেয়ে কারাগারে বন্দী থাকতে হয় এই সাত আসামিকে।

পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কাছে আবেদন জানায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি আসামিদের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইলকে নিয়োগ দেয়। রোববার তিনি আদালতে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, মামলার তদন্ত কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং সংশ্লিষ্ট মেডিকেল রিপোর্টও পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটি দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারার আওতাধীন (স্বেচ্ছায় আঘাত করা) অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা একটি লঘু অপরাধ। শিগগিরই আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।

এই বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব মো. আবু সাঈদ বলেন,

"আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির একটি সাংবিধানিক ও স্বীকৃত অধিকার। কোনো নাগরিক যদি অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে আইনজীবী নিয়োগ করতে ব্যর্থ হন, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার পক্ষে আইনজীবীর ব্যবস্থা করা।"

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, আইনজীবীদের নিজস্ব স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো মামলায় যদি স্থানীয় কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষে দাঁড়াতে রাজি না হন, তবে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদককেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বিষয় : লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আড়াই মাস পর ৭ আসামির মুক্তি

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আড়াই মাস পর ৭ আসামির মুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনজীবী না পাওয়ায় প্রায় আড়াই মাস কারাবন্দী থাকা লঘু অপরাধে অভিযুক্ত সাত আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (২ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমত আরা তুসি এই জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— ঈমাম হোসেন বাররু, মো. রমিন, মো. আকিব, মো. কুইক আলী, মো. জিদান, মো. সিফাত আলী ও মো. পরশ। অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজনের বয়সই ১৮ বছরের কম। আদালতের রিলিজ অর্ডার কারাগারে পৌঁছানোর পর তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।

মামলাটির সূত্রপাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে একটি সালিশ বৈঠকে হাতাহাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই মামলার বাদী স্বয়ং আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। বাদী পক্ষের এমন প্রভাবশালী পদের কারণে দীর্ঘদিন স্থানীয় কোনো আইনজীবী আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াতে বা জামিন আবেদন করতে রাজি হননি। ফলে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে জামিনের কোনো সুযোগ না পেয়ে কারাগারে বন্দী থাকতে হয় এই সাত আসামিকে।

পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কাছে আবেদন জানায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি আসামিদের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইলকে নিয়োগ দেয়। রোববার তিনি আদালতে জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন জানান, মামলার তদন্ত কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং সংশ্লিষ্ট মেডিকেল রিপোর্টও পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটি দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারার আওতাধীন (স্বেচ্ছায় আঘাত করা) অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা একটি লঘু অপরাধ। শিগগিরই আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।

এই বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার ও জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব মো. আবু সাঈদ বলেন,

"আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আইনজীবী পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক অভিযুক্ত ব্যক্তির একটি সাংবিধানিক ও স্বীকৃত অধিকার। কোনো নাগরিক যদি অর্থনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে আইনজীবী নিয়োগ করতে ব্যর্থ হন, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার পক্ষে আইনজীবীর ব্যবস্থা করা।"

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, আইনজীবীদের নিজস্ব স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো মামলায় যদি স্থানীয় কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষে দাঁড়াতে রাজি না হন, তবে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদককেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত