নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

সভাপতি-ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পাল্টাপাল্টি মামলা

 সভাপতি-ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পাল্টাপাল্টি মামলা

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চাঁদখালী এ. রব (আবদুর রব) বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বিরোধ এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। 

একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মোরশেদ আলম ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন। একই সঙ্গে সভাপতির বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় ও স্থানীয় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগ এনে গত ২৮ জুলাই লক্ষ্মীপুর সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন এডহক কমিটির সভাপতি মোরশেদ আলম। মামলার প্রমাণ হিসেবে একশ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে করা চুক্তিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন দাবি করেন, তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার সময় সভাপতি মোরশেদ আলম তার কাছ থেকে একশ টাকার তিনটি অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে তার দাবি।

স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য গত ২৭ জুলাই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার পাশাপাশি বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন কামাল হোসেন। অভিযোগটি তদন্ত করছেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

সভাপতি মোরশেদ আলম বলেন,কামাল হোসেন আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন। টাকা ফেরত না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে মামলা করেছি। স্ট্যাম্প ও মামলার কাগজপত্রে বিষয়টির বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। তিনি অলিখিত স্ট্যাম্প নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে কামাল হোসেন বলেন,আমি কোনো টাকা ধার নিইনি। দায়িত্ব দেওয়ার সময় সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর করা তিনটি অলিখিত স্ট্যাম্প সভাপতি এখন ব্যবহার করছেন।

তিনি জানান, ২০১৩ সালে তিনি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর সভাপতি মোরশেদ আলম ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন।

কামাল হোসেনের দাবি, দায়িত্ব দেওয়ার দিন উপস্থিত শিক্ষকদের সামনে সভাপতি তার কাছ থেকে তিনটি অলিখিত স্ট্যাম্প নেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

তার অভিযোগ, এডহক কমিটির সভায় কিছু নিয়োগ ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি আপত্তি জানান। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের অর্থ উত্তোলন ও প্রশাসনিক বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে সভাপতি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এরপর ১৯ জুলাই বিশেষ জরুরি নোটিশের মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কামাল হোসেন শিক্ষাবোর্ডে অভিযোগ করেন এবং কমিটি স্থগিতের আবেদন জানান। পরে বোর্ড থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড। আগামী ৩ আগস্ট উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষীসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এদিকে পাল্টাপাল্টি মামলা ও অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিষয় : সভাপতি-ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পাল্টাপাল্টি মামলা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সভাপতি-ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পাল্টাপাল্টি মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চাঁদখালী এ. রব (আবদুর রব) বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বিরোধ এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। 

একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মোরশেদ আলম ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন। একই সঙ্গে সভাপতির বিরুদ্ধে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় ও স্থানীয় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা ধার নিয়ে পরিশোধ না করার অভিযোগ এনে গত ২৮ জুলাই লক্ষ্মীপুর সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন এডহক কমিটির সভাপতি মোরশেদ আলম। মামলার প্রমাণ হিসেবে একশ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে করা চুক্তিপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন দাবি করেন, তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার সময় সভাপতি মোরশেদ আলম তার কাছ থেকে একশ টাকার তিনটি অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ওই স্ট্যাম্প ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে তার দাবি।

স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য গত ২৭ জুলাই অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার পাশাপাশি বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন কামাল হোসেন। অভিযোগটি তদন্ত করছেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

সভাপতি মোরশেদ আলম বলেন,কামাল হোসেন আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন। টাকা ফেরত না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে মামলা করেছি। স্ট্যাম্প ও মামলার কাগজপত্রে বিষয়টির বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। তিনি অলিখিত স্ট্যাম্প নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে কামাল হোসেন বলেন,আমি কোনো টাকা ধার নিইনি। দায়িত্ব দেওয়ার সময় সরল বিশ্বাসে স্বাক্ষর করা তিনটি অলিখিত স্ট্যাম্প সভাপতি এখন ব্যবহার করছেন।

তিনি জানান, ২০১৩ সালে তিনি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর সভাপতি মোরশেদ আলম ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন।

কামাল হোসেনের দাবি, দায়িত্ব দেওয়ার দিন উপস্থিত শিক্ষকদের সামনে সভাপতি তার কাছ থেকে তিনটি অলিখিত স্ট্যাম্প নেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

তার অভিযোগ, এডহক কমিটির সভায় কিছু নিয়োগ ও আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি আপত্তি জানান। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের অর্থ উত্তোলন ও প্রশাসনিক বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে সভাপতি তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এরপর ১৯ জুলাই বিশেষ জরুরি নোটিশের মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কামাল হোসেন শিক্ষাবোর্ডে অভিযোগ করেন এবং কমিটি স্থগিতের আবেদন জানান। পরে বোর্ড থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা হোসেন বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেনের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড। আগামী ৩ আগস্ট উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সাক্ষীসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এদিকে পাল্টাপাল্টি মামলা ও অভিযোগের কারণে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত