নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

দিনে বন্ধ, রাতে চলে ড্রেজার: টঙ্গীবাড়ীতে ক্ষোভ

দিনে বন্ধ, রাতে চলে ড্রেজার: টঙ্গীবাড়ীতে ক্ষোভ

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও রাতের আঁধারে দেদারসে চলছে বালু ভরাটের কাজ। ফলে প্রশাসনের এসব অভিযানের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, লোকদেখানো অভিযান বন্ধ করে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় বালুবোঝাই বাল্কহেডগুলো উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে এনে রাখা হয়। এরপর রাতের আঁধার নামতেই শুরু হয় ড্রেজারের গর্জন। রাতের আলো-আঁধারির সুযোগ নিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বিভিন্ন জমি ও পুকুর ভরাটের কাজ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ড্রেজার বন্ধের দাবি করা হলেও বাস্তবে রাতের বেলায় একাধিক স্পটে ড্রেজার চলতে দেখা যায়। অভিযানে কোথাও কোথাও কেবল ড্রেজারের কয়েকটি পাইপ বিচ্ছিন্ন করেই দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে। ফলে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার কিছু সময় পরই ড্রেজার মালিকরা আবার পাইপ জোড়া দিয়ে কাজ শুরু করে দেয়।

প্রশাসনের অভিযান নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ:

  • টঙ্গীবাড়ী এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) কার্যালয়ের ঠিক অদূরেই ড্রেজারের বিকট শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যায়।

  • স্থানীয়দের প্রশ্ন, খোদ সরকারি দপ্তরের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই অবৈধ কার্যক্রম চলতে পারে?

  • বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, "সামনে চলমান ড্রেজার চালু রেখে কর্মকর্তারা দূরে গিয়ে ড্রেজার খোঁজেন! এগুলো কি ড্রেজারবিরোধী অভিযান, নাকি এক ধরনের হাস্যকর নাটক?"

সচেতন মহলের দাবি, কেবল লোকদেখানো পাইপ বিচ্ছিন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা কখনোই বন্ধ হবে না। ড্রেজার সিন্ডিকেটকে থামাতে হলে— ১. অবৈধ ড্রেজার, পাইপ ও সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জাম জব্দ করতে হবে। ২. ড্রেজার মালিক ও এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. বিচ্ছিন্ন অভিযানের পরিবর্তে ধারাবাহিক ও নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

এদিকে, সোমবার রাতে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায় যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে একই সময়ে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে ড্রেজার চলার বিষয়টি নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের জোরালো দাবি, প্রশাসন যেন প্রকৃত অবস্থা তদন্ত করে দ্রুত ড্রেজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

বিষয় : দিনে বন্ধ, রাতে চলে ড্রেজার: টঙ্গীবাড়ীতে ক্ষোভ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দিনে বন্ধ, রাতে চলে ড্রেজার: টঙ্গীবাড়ীতে ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও রাতের আঁধারে দেদারসে চলছে বালু ভরাটের কাজ। ফলে প্রশাসনের এসব অভিযানের প্রকৃত কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, লোকদেখানো অভিযান বন্ধ করে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় বালুবোঝাই বাল্কহেডগুলো উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে এনে রাখা হয়। এরপর রাতের আঁধার নামতেই শুরু হয় ড্রেজারের গর্জন। রাতের আলো-আঁধারির সুযোগ নিয়ে ড্রেজারের মাধ্যমে বিভিন্ন জমি ও পুকুর ভরাটের কাজ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ড্রেজার বন্ধের দাবি করা হলেও বাস্তবে রাতের বেলায় একাধিক স্পটে ড্রেজার চলতে দেখা যায়। অভিযানে কোথাও কোথাও কেবল ড্রেজারের কয়েকটি পাইপ বিচ্ছিন্ন করেই দায়িত্ব শেষ করা হচ্ছে। ফলে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার কিছু সময় পরই ড্রেজার মালিকরা আবার পাইপ জোড়া দিয়ে কাজ শুরু করে দেয়।

প্রশাসনের অভিযান নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ:

  • টঙ্গীবাড়ী এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) কার্যালয়ের ঠিক অদূরেই ড্রেজারের বিকট শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যায়।

  • স্থানীয়দের প্রশ্ন, খোদ সরকারি দপ্তরের নাকের ডগায় কীভাবে দিনের পর দিন এই অবৈধ কার্যক্রম চলতে পারে?

  • বাসিন্দারা আক্ষেপ করে বলেন, "সামনে চলমান ড্রেজার চালু রেখে কর্মকর্তারা দূরে গিয়ে ড্রেজার খোঁজেন! এগুলো কি ড্রেজারবিরোধী অভিযান, নাকি এক ধরনের হাস্যকর নাটক?"

সচেতন মহলের দাবি, কেবল লোকদেখানো পাইপ বিচ্ছিন্ন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এই অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা কখনোই বন্ধ হবে না। ড্রেজার সিন্ডিকেটকে থামাতে হলে— ১. অবৈধ ড্রেজার, পাইপ ও সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জাম জব্দ করতে হবে। ২. ড্রেজার মালিক ও এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. বিচ্ছিন্ন অভিযানের পরিবর্তে ধারাবাহিক ও নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

এদিকে, সোমবার রাতে প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায় যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে একই সময়ে ওই এলাকায় প্রকাশ্যে ড্রেজার চলার বিষয়টি নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের জোরালো দাবি, প্রশাসন যেন প্রকৃত অবস্থা তদন্ত করে দ্রুত ড্রেজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত